| |

বকশীগঞ্জে ৩৭ প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানাগার নেই, হাতে-কলমে বিজ্ঞান শিক্ষায় পিছিয়ে শিক্ষার্থীরা

জিএম সাফিনুর ইসলাম মেজর ঃ জামালপুরের বকশীগঞ্জে মাধ্যমিক পর্যায়ে ৫১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানাগার নেই। যেসব বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় বিজ্ঞানাগার আছে সেগুলোও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। ফলে বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিক্ষা ছাড়াই মাধ্যমিক পর্যায় থেকে বিদায় নিচ্ছে।
জানা গেছে, বকশীগঞ্জ উপজেলায় ৩৩ টি উচ্চ বিদ্যালয় ও নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়  এবং ১৮ মাদ্রাসা রয়েছে। ৩৩ টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০ টি উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞানাগার রয়েছে। অপরদিকে ১৮ টি মাদ্রাসার মধ্যে বিজ্ঞানাগাার রয়েছে মাত্র ৪ টিতে। বাকি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা গুলোতে বিজ্ঞানাগার না থাকায় শিক্ষার্থীদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান শিক্ষা সম্প্রসারণের জন্য সরকার বিজ্ঞান শিক্ষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলেও বিজ্ঞানাগার ও প্রতিষ্ঠান গুলোতে প্রয়োজনীয় উপকরণ না থাকায় শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম ধারণা দেয়া যাচ্ছে না। এমনকি এসএসসি পরীক্ষা এলেই শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অর্থের বিনিময়ে নম্বর নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
যেসব বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় বিজ্ঞানাগার রয়েছে- বকশীগঞ্জ উলফাতুন্নেছা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সারমারা নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, মেরুরচর হাছেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়, চন্দ্রাবাজ রশিদা বেগম স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নিলাখিয়া আর.জে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়, বাট্টাজোড় নগর মামুুদ উচ্চ বিদ্যালয়, লাউচাপড়া উচ্চ বিদ্যালয়, হাসিনা গাজী বালিকা বিদ্যালয়, বাট্টাজোড় কে.আর.আই ফাজিল মাদ্রাসা, শেফালী মফিজ মহিলা আলিম মাদ্রাসা, দত্তেরচর মীর কামাল দাখিল মাদ্রাসা ও জানকিপুর আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, আলীরপাড়া মফিজ উদ্দিন বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও অদ্যাবধি পর্যন্ত বিজ্ঞানাগার নির্মাণ করা হয়নি। প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবেও ক্লাস নেয়া যাচ্ছে না বিজ্ঞান শাখায়। কোন কোন বিদ্যালয়ে বিজ্ঞানাগার থাকলেও হাতে-কলমে বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য নির্ধারিত সরঞ্জাম নেই। অনেক বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ভবন থাকলেও সেখানে অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। লাউচাপড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ বলেন , আমাদের নামেই বিজ্ঞানাগার রয়েছে। অনুবিক্ষন যন্ত্র, টেষ্টটিউব ও রাসায়নিক দ্রব্যাদি না থাকায় শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে ধারণা নিতে পারছে না। এ কারণে বিজ্ঞান শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষার জন্য অ্যাসিড গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হলেও ব্যবহারিক ক্লাসের সময় অ্যাসিড ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স না থাকায় ব্যবহারিক ক্লাস নেয়া যাচ্ছে না।  যেসব বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় বিজ্ঞানাগার নেই সেসব প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের আরো বিপাকে পড়তে হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে বিজ্ঞান শিক্ষায় একটু সমস্যা রয়েছে। হাতে কলমে শিক্ষার জন্য বিজ্ঞান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ করানো হয়েছে। আশা করি সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।
অবিলম্বে বিজ্ঞান শিক্ষা শিক্ষার্থীদের মনোযোগী করে তুলতে ও বাস্তবমুখি শিক্ষা অর্জন নিয়ে বিজ্ঞানাগার গুলো সংস্কার ও যুগোপযোগী করার বিকল্প নেই । তাই ব্যবহারিক সরঞ্জাম নিশ্চিত করা সহ বিজ্ঞানাগার বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।