| |

জামালপুরে হাতী হত্যার বদলা নিতে আবারও বন্য হাতীর দল॥ বকসিগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জে হাতির আতংকে নিঘুম প্রায় ৫০হাজার মানুষ

এসএম হালিম দুলাল জামালপুর প্রতিনিধি॥জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও বকসিগঞ্জ উপ জেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তি আবারও বন্যহাতীর দল ছুটে এসেছে। বন্য হাতির আতংকে
বকসিগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার গারো পাহাড়ের সোমনাথ পাড়া, সাতানীপাড়া, দিঘলা কোণা,লাউচাপড়া,কোচপাড়া, বাবলাকোণা, পাথরেরচর,মাখনের চর চন্দ্রপাড়া,কাড়ামারা, হাতিকোনা, ঝোলগাঁওসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ হাতির আতংকে নিঘুমে রাত কাটাচ্ছেন। আবার অনেকেই প্রাণের ভয়ে ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
জানাযায় গত ১৭ আক্টোবর শনিবার দিবাগত রাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তি মাখনেরচর গ্রামে বন্যহাতির দল ছুটে এসে এলাকার ফসল ধান তরিতরকারি, ছোট ছোট গাছ-পালা বিনষ্ট করতে থাকে। এসব বন্যহাতির উপদ্রব থেকে রক্ষার জন্য একদল গ্রামবাসি বৈদ্যতিক জেনারেটর চালু করে প্রবাহিত বৈদ্যতিক  তাঁর দিয়ে ফাঁদ পাতে। তাতে  দু’টি বন্য হাতিকে ফাদে আটকে যায়। অবশিষ্ট  হাতির দল সেখান থেকে চলে গেলে গ্রামবাসি হাতি দুটিকে কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রাখে। সরে জমিনে জানা যায়  প্রতিবৎসর বাংলাদেশ সীমান্তে সমতল ভুমিতে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হলে, ভারতের গহীন অরন্যে বসবাসকারি বন্য হাতীর দল সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশ সিমান্তের বণভুমি সহ লোকালয়ে প্রবেশ করে কৃষকের কষ্টার্জিত হাজার হাজার একর জমির ফসল,গোলার ধান,তরিতরকারি,বাগানের ছোট ছোট গাছপালা খেয়ে ফেলে। এছাড়া বন্যহাতি  অসংখ্য ঘরবাড়ি ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়। কখনও কখনও হাতির আক্রমনের শিকার হয়ে মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়ে। গত ৩ বৎসরে বন্যহাতির আক্রমনে ওই এলাকার ৩জন মানুষ নিহত হয় এবং কমপক্ষে ২২জন মানুষ আক্রমনের শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
এব্যপারে মাখনের চর গ্রাসের সাইফুল ইসলাম,বালুঝুড়ি গ্রামের ফতেহ সাংম,ফিলিপ মারাক, লাউচাপড়ার মুক্তার আলী  জানায়, বন্যহাতির দল সীমানা পেরিয়ে বংলাদেশ সীমানায় বনাঞ্চলে বিচরণ করতে থাকে। সেখানে পর্যাপ্ত খাবার না পেয়ে অবশেষে লোকালয়ে প্রবেশ করে উপদ্রব শুরু করতে থাকে।এসময় এলাকার  লোকজন হাতি প্রতিরোধে ঢাকঢোল,টিন, আগুন জ্বালিয়ে আবার কেহ পটকা ফুটিয়ে তাড়াতে চেষ্টা করলে উত্তেজিত হাতির দল বাড়িঘর ভাঙ্গচুরসহ প্রাণ হানি করে থাকে। একারণে মাখনের চরের লোকজন ফাদ পেয়ে দু’টি হাতি মেরে ফেলে। আর দু’টিহাতি হত্যার বদলা নিয়ে বন্যহাতির দল বিভিন্ন গ্রামে এসে ধান,উঠতি ফসল,বাগানের গাছপালা ঘরবাড়ি একের পর এক তান্ডব চালিয়ে ধ্বংশ করে যাচ্ছে।
এদিকে দেওয়ানগঞ্জ থানার পুলিশ মাখনেরচর গ্রামে হাতি হত্যার ঘটনায় বৈদ্যতিক জেনারেটরসহ মাখনের চরের দারুগা আলীর পুত্র বেলাল(৪৫)কে গ্রেফতার করেছেন বলে ওসি আসলাম হোসেন জানিয়েছেন। এদিকে হাতি হত্যার ঘটনায় জামালপুরের জেলা প্রশাসক শাহাবুদ্দিন খান  তদন্তের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট  আলমগীর হোসেনকে সভাপতি করে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম,এএসপি দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল তানভীর আহম্মেদ ও প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আশরাফ হোসেনকে সদস্য করে মোট ৪সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন বলে জেলা প্রশাসন সুত্রে জানিয়েছেন। এদিকে এ রিপোট লিখা পর্যর্ন্ত হাতির দলটি বকসিগঞ্জে সাতানিপাড়া এলাকায় অবস্থান করছিল বলে এলাকাবাসিরা জানিয়েছেন।