| |

অনলাইন সেবা দিচ্ছে নেত্রকোনা ভূমি অফিস

সৌমিন খেলন : সনাতন ব্যবস্থা ঝেড়ে ফেলে যুগোপযোগী পক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে নেত্রকোনা সদর উপজেলা ভূমি অফিস। ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম অনলাইন এপ্লিকেশনের মাধ্যমে নামজারী কার্যক্রমও এখন সম্পন্ন করা হয় সহজেই। এসএমএস এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নামজারীর প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে আবেদনকারীকে অবগত করা হয়। এরই সাথে নামজারী মামলার স্তর মনিটর করা হয় অনলাইন ড্যাশবোর্ডে। সফটওয়্যারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরিকৃত নামজারী খতিয়ান আবেদনকারীকে সরবরাহ করা হয়। অনলাইন এসব সেবায় থমকে গেছে অসাধু কর্মচারী ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য! এই পরিস্থিতে কমে গেছে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও ভোগান্তি। তবে অসাধু কর্মচারী, দালাল ও নিয়মকানুন সম্পর্কে আরও সচেতন হলে ভোগান্তি বা হয়রানির চিত্র একেবারে শূন্যের ঘরে নেমে আসবে।
আগে ভূমি অফিসে কোনো সেবা নিতে গেলে ফাইলের পর ফাইল ঘাটাঘাটি করতে হতো। এতে করে সময় অপচয়, সেবাগ্রহীতার ধৈর্য চ্যুতি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীকেও পোহাতে হতো বাড়তি বিড়ম্বনা। এখন আর সেরকমটি হচ্ছে না। অনলাইন সেবা বাস্তবায়নের ফলে ভূমি অফিসের কোনো কর্মচারীকে এখন ধর্না দেয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না। নামজারীর আবেদনের প্রতিটি আপডেট বিষয় নিয়ে মুঠোফোনে এসএমএস দিয়ে রাখে সদর ভূমি অফিস। ভূমি সংক্রান্ত সকল বিষয়ে সেবাগ্রহীতাদের স্বচ্ছ ধারণা দিতে নেত্রকোনা সদর ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) পূর্ণেন্দু দেব ইতোমধ্যে ‘দাগ’ এবং ‘ভূমি ক্যালকুলেটর ও কনভার্টার’ নামে দুইটি এ্যান্ড্রয়েড মোবাইল এ্যাপস তৈরি করেছেন। ‘দাগ’ এ্যাপ – দাগ, খতিয়ান, মৌজা, মৌজা ম্যাপ, হিস্যা, শ্রেণী, দাগসূচি, মালিকানা, নকশা হতে সাবেক দাগ ও বর্তমান দাগ দেখা, বাটা দাগ, ছুট দাগ, ছুট খতিয়ান, নামজারী, ভূমি উন্নয়ন কর, বিভিন্ন প্রকার দলিল, বিভিন্ন প্রকার সম্পত্তি, উত্তরাধিকার আইন ইত্যাদি বিষয়ে সহজ ভাষায় চিত্রের মাধ্যমে বিস্তর ও স্বচ্ছ ধারণা প্রদান করা হয়েছে। ব্যবহারিক পরিষ্কার ভাষায় গল্পচ্ছলে লেখা এই অ্যাপ ব্যবহার করে যে কোন ব্যবহারকারী ভূমি সম্পর্কে পেতে পারেন বাস্তব ধারণা। ভূমি ক্যালকুলেটর এ্যাপ, এখানে ১৯৭৬ সাল থেকে বর্তমান সময় পযর্ন্ত যে কোনো শ্রেণীর জমির ভূমি উন্নয়ন কর সুদসহ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হিসাব করা যায়। এছাড়াও, এই এ্যাপের সাহায্যে হিসাব করা যায় হাট বাজারের চান্দিনা ভিটির লাইসেন্স এবং অর্পিত সম্পত্তির লীজমানির পরিমাণ। এই এ্যাপের কনভার্টার অপশনের সাহায্যে একর, শতাংশ, বিঘা, কাঠা, হেক্টর, বর্গফুট, ছটাক, বর্গহাত ইত্যাদি এককের মধ্যে পারস্পরিক রূপান্তর করা যায় মূহূর্তেই। ভূমি কর্মকান্ডে এখন আর পড়তে হচ্ছে না দালালদের খপ্পরে। কাজেই দালালের কাছে এখন কারো অর্থদণ্ড দেয়ার প্রয়োজন নেই। তাছাড়া দালালদের কব্জা ও কর্মচারীদের জবাবদিহিতা বাড়াতে ভূমি অফিসজুড়ে রয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি)। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মূল ফটক থেকে অফিসের ভিতর পর্যন্ত সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ হচ্ছে ভূমি অফিস। নিরাপত্তা বাড়াতে ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো হবে। অনলাইন সেবা প্রদানে প্রত্যেক কর্মচারীকে কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট ব্যবহারে প্রশিক্ষিত করে তোলেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পূর্ণেন্দু দেব।প্রতিনিয়ত চলছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি বাহারি ফুলে ভরে তোলা হয়েছে অফিসের প্রতিটি আঙিনা। সেবাগ্রহীতাদের বিশ্রামের জন্য মনোরম পরিবেশে কৃষ্ণচূড়ার ছায়াতলে ‘বসুধা’ নামে এক ছাউনি নির্মান করা হয়েছে। উন্নয়নমূলক এসব কাজের জন্য ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার জি.এম সালেহ উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পূর্ণেন্দু দেবকে বিভাগীয় কমিশনার সম্মাননা প্রদান করেছেন। সম্মাননায় উল্লেখ করা হয়, পূর্ণেন্দু দেব ভূমি অফিসের উত্তম চর্চা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং আইসিটি ব্যবহারের মাধ্যমে সদর ভূমি অফিসকে জনবান্ধব অফিসে রূপান্তরে প্রশংসনীয় অবদান রেখেছেন। জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় এসব সম্ভব হয়েছে জানিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পূর্ণেন্দু দেব বলেন, ভবিষ্যত সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে নেত্রকোনা সদর ভূমি অফিসকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।