| |

মুক্তাগাছায় জমি নিয়ে এক যুবককে অপহরণের চেষ্টা ভাড়াটিয়া ৮ কিলার গ্রেফতার

মুক্তাগাছা  প্রতিনিধি  : সৎ ছেলেকে হত্যা করে পুরো সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারায় মায়ের নির্দেশে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের চেষ্টা করে ভাড়াটিয়া একটি কিলার গ্রুপ। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কিলার গ্রুপের ৮ জনকে থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি এম্বুলেন্সও উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে মুক্তাগাছা উপজেলার খেরুয়াজানী গ্রামে। এ ঘটনায় মুক্তাগাছা থানায় তাদের নামে অপহরণ মামলা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ জানায়,উপজেলার খেরুয়াজানী গ্রামের সিদ্দিক আলী ষোল বছর আগে তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার শষ্যমালার গ্রামের উম্মে কুলসুম বেবীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতেই  বসবাস করেন সিদ্দিক মিয়া। তার প্রথম স্ত্রীর ঘরে আছে ২ ছেলে ও ২ মেয়ে। তাদের সাথে সব ধরণের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন্ করে রাখে সিদ্দিক আলী। প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা যাতে বাবার সম্পত্তি না পায় এ জন্য দীর্ঘদিন ধরে সৎ মা উম্মে কুলসুম বেবী ও সিদ্দিক আলী ষড়যন্ত্র করে আসছে। বিভিন্ন সময় সৎ ছেলেমেয়েদের হত্যারও পরিকল্পনা করেন উম্মে কুলসুম বেবী। এ জন্য তিনি ৫ লাখ টাকায় একটি কিলার গ্রুপ ভাড়া করে। মঙ্গলবার রাত সোয়া ২টায় দুটি এম্বুলেন্স ও একটি মোটর সাইকেল নিয়ে ১৫ থেকে ১৭ জনের একটি ভাড়াটিয়া কিলার গ্রুপ সিদ্দিককের বড় ছেলে মুক্তাগাছার খেরুয়াজানী গ্রামের সোহেল রানার বাড়িতে হানা দেয়। তারা ঘরের দরজা ভেঙ্গে সোহেলের এক বছরের শিশু সন্তানকে জিম্মি তার স্ত্রী হাসি বেগম ও সোহেলকে বেঁধে ফেলেন। পরে তারা ঘরে থাকা পনে দুই লাখ টাকাসহ সোহেলকে অপহরণ করে তাদের ব্যবহৃত একটি এম্বুলেন্সে উঠিয়ে নেয়। তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় সোহেলের আর্তচিৎকারে গ্রামবাসী এগিয়ে আসে। গ্রামবাসী চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। এ সময় একটি এম্বুলেন্সসহ কিলার গ্রুপের ৮ জনকে ধরে ফেলেন। আর কৌশলে অন্য এম্বুলেন্সে থাকা বাকি কিলাররা পালিয়ে যায়।  থানা পুলিশ ওই রাতেই এম্বুলেন্সসহ তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ময়মনসিংহ শহরের মাসকান্দার স্বপন , রাজিব, রুহুল আমীন, রেলওয়ে কোয়ার্টার এলাকার মামুন, আকুয়া মাদ্রাসা কোয়ার্টারের রাকিব, চরপাড়ার মেহেদী হাসান হিরা ও মুক্তাগাছার বন্দগোয়ালিয়া গ্রামের মফিজুল ইসলাম। তাদের বিরুদ্ধে মুক্তাগাছা থানায় অপহরণ মামলা হয়েছে।

সোহেল রানা সাংবাদিকদের বলেন,তার বাবা সিদ্দিক আলী  ও সৎ মা উম্মে কুলসুম বেবী বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে বিভিন্ন সময় আমাদেরকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা করে আসছে। এ ষড়যন্ত্র থেকেই মঙ্গলবার রাতে ভাড়াটিয়া কিলার গ্রুপ এনে আমাকে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়।
মুক্তাগাছা থানার ওসি আখতার মোর্শেদ সাংবাদিকদের বলেন,বাবার সম্পত্তি থেকে ছেলেমেয়েদের বঞ্চিত করতে সৎ মা কিলার গ্রুপ ভাড়া করে সোহেল রানাকে অপহরণের চেষ্টা চালায়। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাদেরকে আটক করা হয়।