| |

পাউবোর কাজ সমাপ্তির একদিন পর ভেঙ্গে গেলো ফসলরক্ষা বাঁধ কয়েকটি হাওর পানির নিচে ॥ পাউবোর উদাসীনতাকে দায়ী করছে কৃষক

প্রতিনিধি নেত্রকোনা ঃ  নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বেরিবাধ ভেঙ্গে হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এবার ধান পাকার পূর্বেই ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। কৃষকদের অভিযোগ পানি উন্নয়ন বোর্ডের যোগশাজশে ঠিকাদারের দূর্নীতির খেসারত দিতে হচ্ছে তাদেরকে। রবিবার ভোর রাতে মোহনগঞ্জের গাগলাজুরে চর হাইজদা বেড়ীবাধে জালালপুর পয়েন্টে প্রায় ২শ ফুট বাধ ভেঙ্গে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এতো কিছুর পরও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কর্মকর্তাই এলাকা পরিদর্শনে যান নি। এমনকি ভোর থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গা ঢাকা দিলে বিকাল পর্যন্ত সাংবাদিকরাও তাকে খুঁজে পায়নি।
হাওরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, জেলার প্রায় ৪৭ টি হাওরের মধ্যে মোহনগঞ্জেই রয়েছে বেশির ভাগ হাওর। আর এ সকল হাওর রক্ষার্থে আশির দশকে উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের আজমপুর ছেছড়াখালি পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার চরহাইজদা বেরিবাধ নির্মান হয়। এই বাঁধের জালাল পয়েন্টে ১২ লাখ টাকা ব্যায়ে পিআইসি প্রকল্প অর্থাৎ মেরামতের কাজ শেষ হয় ৩১ মার্চ। এর একদিন পরই বাঁধ ভেঙ্গে দূর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার কৃষক।  পাশাপাশি এই বাঁেধর পানি সাপমরা নদীসহ বিভিন্ন সুইসগেট দিয়ে প্রবেশ করছে জেলার ৮ থেকে ১০ টি হাওরে। নতুন করে রেগুলেটর লাগানোর কথা থাকলেও গেইটে তা না লাগানোর ফলে সাপমরা সুইসগেইট ভেঙ্গে গিয়ে ডিঙ্গাপোতা সহ মল্লিকপুরের অনেক গ্রামের ধান তলিয়ে গেছে বলে জানান, মল্লিকপুর গ্রামের সালাম ও মজিবুর রহমান সহ আরো অনেকে। তারা আরো বলেন গত দুদিনে পৌর মেয়র এডভোকেট আব্দুল হান্নান রতনের সহযোগিতায় বাঁধ ঠেকাতে প্রায় দুইশ জন কৃষক গত দুদিন ধরে মাটি কেটেও রক্ষা করতে পারেনি। এদিকে চরহাইজদা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন মান্দারোয়া গ্রামের কৃষক হারুন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এবার আমি প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ করে ২২ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছিলাম। আর ৫-৬ দিন পরেই জমির ধান কাটা শুরু করতাম। কিন্তু নেত্রকোনার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও তাদের অধীনে গঠিত পিআইসি কমিটির লোকজন সময়মতো সঠিকভাবে বাঁধ মেরামত না করায় পানিতে আমার জমির সব বোরো ফসল তলিয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মফিজুল ইসলাম নাফিস বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১৬ হাজার ৮ শত ২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এই অসময়ে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নের কৃষকের প্রায় ৮-১০ হাজার হেক্টর জমির আধাপাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
মোহনগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের নেতা সৈয়দ মঈন উদ্দিন হোসেন বলেন, বাঁেধর জন্য যে টাকা বরাদ্দ ছিল তা বিছিয়ে রাখলেও আজ এই ঘটনা ঘটতো না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দূর্নীতির ফলে আজ কৃষকরা সর্বহারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু তাহের বলেন, ৩১ মার্চে কাজ শেষ হয়েছে এবং তা ভালভাবেই হয়েছে। পানি আসার আগের দিন তিনি এলাকা ঘুরেও এসেছেন। হঠাৎ পানি চলে আসার পর আর সেখানে যেতে পারেননি নানা কারণে। তবে তিনি লোক পাঠিয়েছেন। অতি বৃষ্টি আর ঢলের জন্য এটি হয়েছে। কিন্তু কাজে কোন গফিলতি ছিল না বলে জানান তিনি। সারাদিন অসুস্থ থাকায় কারো ফোনও রিসিভ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান।