| |

র‌্যাবের অভিযানে ১ জন নারী গ্রেফতার

১। এলিট ফোর্স র‌্যাব সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এর বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলস ভাবে কাজ করে আসছে। র‌্যাবের কর্ম তৎপরতার কারণেই সারাদেশে একযোগে বোমা বিষ্ফোরণসহ বিভিন্ন সময়ে নাশকতা সৃষ্টিকারী জঙ্গি সংগঠন সমূহের শীর্ষ সারির নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীদেরকেও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভবপর হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে কারো কারো মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে, কেউ কেউ বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছে এবং বেশকিছু মামলা এখনো বিচারাধীন। তবে যে সকল জঙ্গি এখনো আত্মগোপন করে আছে তাদের তৎপরতা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। র‌্যাবের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারী ও অভিযানের ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেতা কর্মীরা পূনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে বার বার ব্যর্থ হয়েছে এবং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক হয়েছে।
২। র‌্যাবের জঙ্গী বিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় বেশ কিছু সন্দেহভাজন উগ্রপন্থী ও জঙ্গীবাদে উদ্ভুদ্ধ সদস্য আমাদের গোয়েন্দা নজরদারীর মধ্যে ছিল। তাদেরই একজন তহুরা ইসলাম চৌধুরী(ইফতা)(১৮) গত ১৫ মার্চ ২০১৭ তারিখ সকালে বাসা থেকে নিখোঁজ হয়। এরপর হতে তার উপর গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করা হয় এবং র‌্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল অদ্য ১০ এপ্রিল ২০১৭ তারিখ ১২.৩০ ঘটিকার সময় বি-বাড়িয়া সদর থানার কান্দিরপাড় এলাকায় তার আতœীয়ের বাসাতে অভিযান পরিচালনা করে জিহাদী বই সহ তাকে গ্রেফতার করে।

৩। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন তার নাম তহুরা ইসলাম চৌধুরী(ইফতা)(১৮), পিতা- মাওলানা মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, মাতা- সৈয়দা আজিজুন্নেছা, সাং- সুরাবই, পোষ্ট- সুরাবই, থানা- শায়েস্তাগঞ্জ, জেলা- হবিগঞ্জ এবং তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর (সারোয়ার-তামিম গ্রুপ) ০১ জন সক্রিয় সদস্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে জনৈকা সায়মা খাতুন এবং খাদেমুল ইসলাম@ রফিকুল ইসলাম@ জুনায়েদের সাথে তার পরিচয় এবং নিয়মিত যোগাযোগ হতো। তাদেরই প্ররোচনায় তিনি গত ১৫ মার্চ ২০১৭ তারিখে উগ্রপন্থী ও জঙ্গী মতাদর্শে উদ্ভুদ্ধ হয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান। ঐদিনেই তিনি জেএমবি (সারোয়ার-তামিম গ্রুপ) এর সদস্য রফিকুল ইসলাম@জুনায়েদ এর সহযোগিতায় কুমিল্লা হয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কক্সবাজারে সাংগঠনিক কার্যক্রমের জন্য তারা বসবাস শুরু করেন। সেখানে তারা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯ মার্চ ২০১৭ তারিখ বয়সে প্রায় দ্বিগুন রফিকুল ইসলাম@ জুনায়েদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সর্বশেষে সিলেটের আতিয়া মহল, মৌলভীবাজারের ফতেহপুর ও বড় হাটে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জঙ্গী বিরোধী অভিযানের ফলে জঙ্গীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। ফলে তহুরা কিছুদিন আতœগোপনে থাকার জন্য গত ০৩ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে তার নানার বাসা বি-বাড়িয়ায় চলে আসেন এবং তিনি আরো স্বীকার করেন যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি আবার ফেরত গিয়ে সংগঠনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করবেন।

৪। তার সাথে এ সংগঠনের সক্রিয় অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

৫। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ।