| |

গৌরীপুরের তালিকাভূক্ত হতদরিদ্রদের চাল গেলো কোথায়?

গৌরীপুর সংবাদদাতা ॥ ময়মনসিংহের গৌরীপুরে তালিকায় নাম থাকার পরেও চাল বঞ্চিত হতদরিদ্ররা মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল/১৭) শহরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও চালের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করেছে। দৈনিক ইত্তেফাকসহ একাধিক পত্রিকা ও অনলাইনে ৪এপ্রিল ‘গৌরীপুরে হতদরিদ্রদের চাল বিতরণে অনিয়মের প্রতিবাদ, তালিকায় ব্যবসায়ী শিক্ষক ও কোটিপতি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর চালবঞ্চিত মানুষের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। বঞ্চিত মানুষের এ চাল এতোদিন কোথায় গেলো-কারা নিলো? চাঞ্চল্যকর এ প্রশ্ন এখন সবার মুখেমুখে!
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তারাপদ চক্রবর্তী জানান, প্রকাশিত প্রতিবেদনের সত্যতা পাওয়া গেছে। মাওহা ইউনিয়নের সেই ডিলার আব্দুল জব্বারের স্ত্রী, পুত্র ও পুত্রবধূর নামে দেয়া হতদরিদ্রদের কার্ড জব্দ করা হয়েছে। সিধলা ইউনিয়নসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নেই সংশোধন কার্যক্রম চলছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ২০হাজার ৮১৩জন হতদরিদ্র মানুষের তালিকা প্রণয়ন করা হয়। ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় মইলাকান্দা ইউনিয়নের ১৬৫জন, ৫নং সহনাটী ইউনিয়নের ৫৪জন ও ৬নং বোকাইনগর ইউনিয়নের ৬৭জনের সংশোধনী করা হয়েছে। গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ নামে একটি সংগঠন ১৯এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন দাবি করে উপজেলার হতদরিদ্রদের প্রণয়নকৃত তালিকার ৬৫শতাংশ ত্রুটিপূর্ণ। তালিকায় নাম থাকলেও প্রকৃত দরিদ্ররা চাল পাচ্ছে না। ‘এ যেন ভিমরুলের চাকে ঢিল’! সেই তালিকা পাড়া-মহল্লায় চলে ফটোকপি করে বিতরণ।
মঙ্গলবার (১১এপ্রিল/১৭) সকাল থেকে উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের চালবঞ্চিত মানুষের লাইন বাড়তেই থাকে। চালের দাবিতে উপজেলা পরিষদের সমাবেশ শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা আক্তারের নিকট আবেদন জমা দেন। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তারাপদ চক্রবর্তী জানান, যারা কার্ড পায়নি, তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। দ্রুত তাদেরকে কার্ড দেওয়া হবে। বুধবার (১২এপ্রিল/১৭) মাওহা ইউনিয়নে বঞ্চিতদের মাঝে উপস্থিত থেকে কার্ড বিতরণ করা হবে। তালিকায় নাম আছে, কার্ড নেই এমন সকল বঞ্চিত মানুষকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
চালবঞ্চিত মাওহা ইউনিয়নের কুমড়ী গ্রামের আবুল হোসেনের স্ত্রী রোজিনা খাতুন, মৃত চাঁন মিয়ার স্ত্রী মোছাঃ রাবিয়া আক্তার, সুলতান মিয়ার স্ত্রী মোছাঃ আম্বিয়া খাতুন, মোঃ আবুল হাসিমের পুত্র মোঃ সুমন, মৃত ধলি মেখের পুত্র মোঃ আবুল হাসেম ও শহরআহাম্মদপুর গ্রামের মৃত মছরব আলীর স্ত্রী মোছাঃ কিতাবের নেছা জানান, তাদের নামে কার্ড আছে। তবে কেউ চাল পায়নি। এমন শত মানুষের অভিযোগ, কাউকে শোনানোর ঠাঁই পাচ্ছে না। তবে এবার কঠোরভাবে সকল অনিয়ম প্রতিরোধেরে ঘোষণা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার। তিনি বলেন, যারা চাল পায়নি, তাদের আবেদন পেয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্ড প্রদানের জন্য খাদ্য কর্মকর্তা নির্দেশ দেয়া হয়েছে।