| |

গৌরীপুরে ১৫ বছর পর অপহৃত সন্তান ফিরে এলো ॥ অপহরণ মামলায় একজনের দু’বছর হাজতবাস-আরেকজন ফেরারী

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা ॥ অপহরণের ১৫বছর পর অপহৃত সন্তান ফিরে আসায় এলাকায় ধু¤্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিজ সন্তানকে বুকে ফিরে পেয়ে ‘পিতা-পুত্রের’ আলিঙ্গন ও আনন্দাশ্রুর মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা তাকে বরণ করে নেয়। পুত্রকে পেয়ে আত্মাহারা মা ফিরুজা বেগমও। খবর পেয়ে আত্মীয়-স্বজনরাও ছুটে আসেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কোনাপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেমের পুত্র তোফাজ্জল হোসেন ফিরে এলে এ দৃশ্যের অবতারণা হয়।
আবুল হাসেম জানান, তার পুত্র সে সময় অগ্রদূত নিকেতন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তো তখন সে নিখোঁজ হয়। মুক্তিপণের চিঠি দেয় অপহরণকারীরা, গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে উড়ো চিঠি দিয়ে যায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকেও ফোনে হুমকি দেয়। তাই ভেবেছিলাম আমার ছেলেকে মুক্তিপণের জন্য ওরা অপহরণ করেছে। এ মামলার আসামী কলিম উদ্দিন দু’বছর হাজবতবাস করেছে, আঃ খালেক দীর্ঘদিন যাবত নিখোঁজ আর অলি মিয়া মারা গেছে।
তোফাজ্জল হোসেন জানায়, গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনে মজমা (গান গেয়ে লোকজন জড়ো করে ঔষধ বা তাবিজ বিক্রি করা) দেখার সময় লজেন্স দিলে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। যখন জ্ঞান ফিরে তখন দেখে সে ভারতে। আসামের দিলীপ সাপুড়িয়া তাকে উদ্ধার করে পুত্র হিসাবে লালন-পালন করে আসছিল। ভারতের বিভিন্ন স্থানে সাপুড়িয়াদের সাথে জীবনযাপন করে। এই সাপুড়িয়ার কন্যা সুমি সাপুড়িয়ার সাথে জোর করে বিয়ে দিতে চাইলে ১০দিনপূর্বে হিজড়াদের সাথে সীমানা অতিক্রম করে। কপালের কাটা দাগ দেখে তার মা, বন্ধুদের পরিচয় ও নিকটত্মীয়দের কথা বলতে পারায় সেই হারিয়ে যাওয়া পুত্র তোফাজ্জল বলে নিশ্চিত করেন তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম। সে ভাঙাভাঙা বাংলা বলতে পারে তবে ভারতের ভাষা স্পষ্ট। মুক্তিরপণের দাবিতে অপহরণ মামলায় দীর্ঘদিন যাবত শাস্তি-হয়রানি ভোগ করায় তাদের পক্ষ থেকে বলা হয় ছেলেকে লুকিয়ে রেখেই আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছিল। গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আখতার মোর্শেদ জানান, যেহেতু সে অপহরণ মামলার ভিকটিম, তার জবানবন্দি নেয়ার জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার কোর্টে প্রেরণ করা হবে।