| |

আজ প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব গতকালও পূজামন্ডপে ছিল দর্শনার্থীদের ঢল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজ শুক্রবার শুধু দেবীর বিসর্জনের আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতা। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল মহানবমী ও দশমী পূজা। তিথির কারণে এবারই একই দিনে মহানবমী ও দশমীপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মণ্ডপে মণ্ডপে ছিল ভক্ত-দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ঢল।
শারদীয় দুর্গাপূজায় গতকাল সন্ধ্যায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি মণ্ডপে ভিড় করেন অন্য ধর্মাবলম্বী তরুণ-তরুণী ও  আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা। হিন্দু সম্প্রদায়ের এ উৎসব যেন পরিণত হয় সামাজিক উৎসবে। অসুরের বিনাশ আর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি লাভের আশায় যুগযুগ ধরে মা দুর্গার আরাধনা করে আসছে হিন্দু সম্প্রদায়।
গত সোমবার ষষ্ঠী পূজা, দেবীর  বোধন, আমন্ত্রণ ও    অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয়  উৎসব দুর্গাপূজা। গতকাল ছিল মহানবমী ও মহাদশমী। মন্ডপে মন্ডপে পূজা শেষে ভক্তদের অঞ্জলী প্রদান ও প্রসাদ বিতরণ করা  হয়। আজ শুক্রবার প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বৃহত্তম এ উৎসব। ময়মনসিংহ শহরের শিববাড়ীতে মহিলাদেরদ্বারা পরিচালিত দুর্গোৎসব ছিল আকর্ষণীয়। গতকাল ও গতপরশু সন্ধ্যায় মন্ডপ প্রাঙ্গণে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রচুর দর্শক সমাগম ঘটে।  শারদীয় দুর্গোৎসবে বর্ণিল সাজে সেজেছে ময়মনসিংহ শহরের পূজামন্ডপগুলো। সকাল থেকেই শহরের পূজামন্ডপগুলোতে ভক্ত-পূজারীদের ভিড় দেখা যায়। বিকাল বেলা থেকে পূজামন্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। গভীর রাত পর্যন্ত শহরের পূজামন্ডপের পাশের  রাস্তাগুলো দর্শনার্থীদের জনস্র্রোতে পরিণত হয়। ময়মনসিংহ শহরের অলকা নদী বাংলা মন্ডপ, বাংলাদেশে একমাত্র মহিলাদের ধারা পরিচালিত শিববাড়ী পূজা মন্ডপ, আঠারবাড়ী বিল্ডিং, গোলপুকুর পাড়, মৃত্যুঞ্চয় স্কুল রোড, দুর্গাবাড়ী, দশভূজা বাড়ী, বড়কালী বাড়ী, ছোট কালীবাড়ী, ভাতৃসংঘ, কবরখানা রোড, মেছুয়া বাজার, জাদব লাহেড়ী লেন, ডাইলপট্রি, জিলপি পট্রি, হিন্দু ধর্মশালা, স্বদেশী বাজার, পুরাতন পুলিশ ক্লাব, পুরুহিত পাড়া, গঙ্গাদাস গুহ রোড, প্রভু জগৎবন্দু আশ্রম, শ্রীশ্রী লোকনাথ মন্দির, দাসপাড়া, কালী বাড়ী বাইলেন, রঘুনাথজিউর আখরা, ছোট বাজার, বড় বাজার, বিশ্বনাথ মন্দির, পাটগুদাম, র‌্যালীমোড়, নটকঘর লেন, হরিজন পল্লী, এসমস্ত পূজা মন্ডপগুলো আকর্ষণীয় করে সাজানো হয়েছে। আর এসকল মন্ডপগুলোতে দর্শনার্থীদের ভীড়ও ছিল প্রচন্ড। পূজা মন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন শৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদেরও কাজ করতে দেখা গেছে। আনন্দঘন পরিবেশে ভক্তরা মাকে প্রণাম করছে  এবং মন্দির থেকে মন্দিরে ঘুরে ঘুরে প্রতিমা দর্শন করেন। অন্যবারের তুলনায় এবারের পূজায় মন্ডপগুলো অনেক সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি পূজামন্ডপে আকর্ষণীয় আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর সাহা জানান, আজ বিকাল ২ টায় মন্দিরে মন্দিরে মহিলাদের সিঁদুর খেলা ও পরে ব্রহ্মপুত্র নদে কাচারীঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হবে। আর এর মধ্য দিয়েই শেষ হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ শারদীয় দুর্গোৎসবের। এবছর ময়মনসিংহ জেলায় ৭০৫টি পূজাসহ সাবা দেশে ২৯ হাজার ৭৪ টিরও বেশী দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ময়মনসিংহ জেলায় গত বছরের চেয়ে ২৫ টির বেশী পূজামন্ডপে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসব মুখর বাঙ্গালী মেতে উঠেছে আনন্দ উৎসবে।