| |

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রার উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার : বাঙ্গালী হিন্দুদের ৫দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে গতকাল শুক্রবার শেষ হয়েছে। পরশু বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দশমীপূজা ও পূজান্তে ঘটে দর্পণ বিসর্জন। গতকাল শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় উৎসবের সমাপ্তি হয়। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী মা দুর্গা ষষ্ঠীতে ঘোড়ায় চড়ে কৈলাসে স্বামীর বাড়ী থেকে মর্তে বাপের বাড়ীতে বেড়াতে এসেছিলেন। সঙ্গে এসেছিলেন কন্যা লক্ষ্মী ও স্বরস্বতী, পুত্র গনেশ ও কার্ত্তিক। আবার আসবেন বছর পর এই সময়ে। গতকাল দশমীতে তিনি আবার স্বামী গৃহে চলে গেছেন। এবার তিনি গেছেন দোলায় চড়ে। ষষ্ঠীতে আগমনের পর মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী ও মহানবমীতে আধ্যাত্ম চেতনায় মহাসমারোহে মায়ের পূজা, অর্চনা, শ্রীশ্রী চন্ডীপাঠ, আরতী ও প্রসাদ বিতরণ ও দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটে।
সরকারী হিসেবে এ বছর ময়মনসিংহ জেলায় ৭০৫টি পূজাসহ দেশব্যাপী ২৯ হাজারেরও অধিক মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই সর্বত্র পূজানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর কিংবা আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির ঘটনা ঘটেনি। গতকাল দুপুর থেকেই মন্ডপে মন্ডপে ঢাক-ঢোলের বাজনার সাথে সাথে মহিলা-তরুণীদের সিঁদুর খেলা, ভক্তিনিবেদন ইত্যাদিতে চলে দূর্গা মায়ের প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি বিকেল সাড়ে ৪টায় শহরের বিভিন্ন পূজা মন্ডপ থেকে একের পর এক প্রতিমা নিয়ে আনন্দ শোভাযাত্রা করে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের কাচারিঘাট দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। রাত ১০টা পর্যন্ত চলে নিরঞ্জন। মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত ময়মনসিংহ শহরের শিববাড়ী মন্দির প্রাঙ্গণে জাকজমকভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজা মন্ডপে অসংখ্য মহিলা-তরুনীর সিঁদুর খেলা আর বাজনার তালে তালে হেলে দুলে নৃত্য সকলের চক্ষু ও হৃদয়কে মুগ্ধ করে দেয়। সর্বপ্রথমে বিকেল সাড়ে ৪ টায় প্রতিমা বিসর্জনের উদ্দেশ্যে দুর্গাবাড়ী মন্দির থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার সূচনা হয়। শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মুস্তাকিম বিল্ল­­াহ ফারুকী, পুলিশ সুপার মঈনুল হক ও পৌর মেয়র ইকরামুল হক টিটু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি স্বপন সরকার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের ময়মনসিংহ জেলার সভাপতি এড. বিকাশ রায়, ওয়ার্কার্স পার্টির ডাঃ সুজিত বর্ম্মণ, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি এডভোকেট প্রণব কুমার সাহা রায়, সাধারণ সম্পাদক এড. রাখাল চন্দ্র সরকার, আর্য ধর্ম জ্ঞান প্রদায়িনী সভার সভাপতি প্রফেসর বিমল কান্তি দে, সহ-সভাপতি স্বপন ঘোষ, অমল সরকার, চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক শংকর সাহা প্রমুখ। র‌্যালীটি কাচারীঘাটে ব্রহ্মপুত্র নদের কূলে বিসর্জন ঘাটে গিয়ে শেষ হয়। এ ছাড়াও এসময় ঘাটে উপস্থিত ছিলেন, পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ আসিফ হোসেন ডন, প্যানেলর মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, পৌরসভার সচিব মোঃ জাহাঙ্গির আলম, কাউন্সিলর ফারুক হাসান, কাউন্সিলর হামিদা পারভীন, সারোয়ার আলম, দীপক মজুমদার প্রমুখ।
পৌরসভার মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটুর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানে বিসর্জন ঘাটে আলোকসজ্জাসহ ঘাট ব্যবস্থাপনায় নিজে উপস্থিত থেকে সুষ্ঠভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে আইন শৃংখলার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনী ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
উল্লেখ্য একের পর এক প্রতিটি মন্ডপ থেকে প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য শোভাযাত্রাসহ ব্রহ্মপুত্রের কাচারী ঘাটে যাওয়ার পথে কে বি ইসমাইল রোডস্থ নাগরিক আন্দোলন কার্যালয়ের সামনে সংগঠনের নেতা এডভোকেট আনিসুর রহমান খান, এড. এ এইচ এম খালেকুজ্জামান, এড. মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ও ইঞ্জিঃ নুরুল আমিন কালাম হিন্দু সম্প্রদায়ের সকলকে শুভেচ্ছা জানান।