| |

নান্দাইলে মসজিদের ভেতর হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে এলাকাসীর মানবন্ধন

নান্দাইল প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মশুল্লী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে জামে মসজিদে নামাজরত অবস্থায় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা লোহার রড ও শাবল দিয়ে হামলা করে নামাজি মুসুল্লী কৃষক বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিকলীগ মুশুলী ইউনিয়ন শাখার সম্মানিত সদস্য মোঃ বকুল মিয়া (৪০) খুন করার প্রতিবাদে মসজিদের মুসুলী ও সমবেত এলাকাসী মানববন্ধন করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঐ মসজিদের সামনে পাকা রাস্তার উপর ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালে উপস্থিত মসজিদের মুসুলীরা ও সমবেত এলাকাবাসী মসজিদের ভেতর নামাজরত অবস্থায় এমন বর্বর হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানান ও হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের কঠোর এবং দৃষ্ঠান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানান। এ ঘটনা আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগকে ও হার মানিয়েছে দূধর্ষ সন্ত্রাসীরা। নয়াপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি মোঃ ছমির উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ লাল মিয়া মাস্টারের তত্ত্বাবধানে মসজিদের মুসুলীরা ও মানববন্ধনে অংশ গ্রহনকারী শত শত এলাকাবাসী খুনীদের ফাসিঁর দাবী জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বাড়ি সংলগ্ন মসজিদে এশার নামাজের আযান শুনে বাড়ি থেকে বের হয়ে মসজিদে নামাজ পড়তে যায় বকুল মিয়া। মসজিদের ইমাম এর পেছনে এশার চার’রাকাত ফরজ নামাজ এর মধ্যে দু’রাকাত নামাজ পড়ে তাশাহুদ পড়ার সময় পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা দূধর্ষ সন্ত্রাসী আল আমিন,জাহাঙ্গীর তাদের সঙ্গী সাথীদের নিয়ে মসজিদের ভেতর প্রবেশ করে লোহার রড ও শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করে মাথা থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। আশংকাজনক অবস্থায় মসজিদের মুসুল্লীগণ তাকে চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে তাৎক্ষনিক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেফার্ড করেন। পরে সেখানেও তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ঐ দিনই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে ঘটনার দু’দিন পর বৃহস্প্রতিবার ভোর ৬ টায় সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে খুনী আল আমিন ও জাহাঙ্গিরসহ ৪ জনকে চিহিৃত ও অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪ জনকে আসামী করে নান্দাইল মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী ও তাদের নিরীহ পরিবারের লোকজন মানববন্ধন শেষে অভিযোগ করেন খুনীরা আরো বেপরোয়া হয়ে প্রাণ নাশের হুমকী দিচ্ছে। মামলার সাক্ষীদেরও ভয় ভীতি প্রদর্শন করছে। তাই অসহায় মামলার বাদী ও তাদের পরিবারের লোকজন মসজিদের ভেতর হত্যাকান্ডে জেলার চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে ঢাকার স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে মামলাটি স্থানান্তর করে দ্রুত খুনীদের ফাসিঁর রায় কার্যকরের দাবী জানান বর্তমান সরকারের নিকট।