| |

ঝিনাইগাতীতে বানের জলে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

জাহিদুল হক মনির : শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো আবাদ হলেও শেষ মুহূর্তে পাহাড়ী ঢল ও নেক ব্লাস্টের আক্রমণে ধানের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার নি¤œাঞ্চলের এলাকাগুলোতে পাহাড়ী ঢলে, আর উঁচু এলাকা গুলোতে নেক ব্লাস্টের  আক্রমণে বোরো ধানের কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। জমিতে ভালো ফসল দেখে আশায় বুক বেঁধে স্বপ্ন দেখে ছিলেন কৃষকরা। কিন্তু বোরো আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকের স্বপ্ন বানের জলে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের চোখে মুখে দেখা দিয়েছে হতাশার ছাপ। উপজেলার রাংটিয়া, ডেফলাই,মানিককুড়া, শালচূড়া, ঝিনাইগাতী সদরসহ প্রভূতি গ্রামের অধিকাংশ ধানের ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণে বের হওয়া শীষ শুকিয়ে যাচ্ছে। উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো.খলিলুর রহমান জানান, তার আবাদকৃত ২ একর জমির ধানের অধিকাংশ শীষ শুকিয়ে গেছে। অপর দিকে উপজেলার নি¤œাঞ্চলের কান্দুলী, কোচনীপাড়া, বাগেরভিটা, মারুয়াপাড়া, খাটুয়াপাড়া, হাসলিগাঁও, বানিয়াপাড়া, বাতিয়াপাড়া, রাঙ্গামাটিয়া, দাঁড়িয়ারপাড়, কালিনগর, বালিয়া গাঁও, জরাকুড়া, পাইকুড়া, সুরিহাড়া, মাটিয়াপাড়া, পাগলারমুখ, বনগাঁও চতল প্রভৃতি গ্রামগুলোর বোরো আবাদ পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়ে পড়েছে। উপজেলার বালিয়াগাঁও গ্রামের জহুরুল, হারুন ও সফিসহ অনেক কৃষকই জানান, তাদের আবাদকৃত বোরো আবাদ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রষারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৩ হাজার ৯শ’ ৯৬ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে ১৪ হাজার ২শ’ ৯৫ হেক্টর জমিতে। তন্মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাহাড়ি ঢলে নিম্মজিত রয়েছে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমি। আর নেকব্লাস্টের আক্রমণে আক্রান্ত ২৫ হেক্টর জমি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.জেড.এম শরীফ হোসেন বলেন, পাহাড়ী ঢলে উজানের পানি ভাটি অঞ্চলে ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে। ফলে ঢলের পরিস্থিত সামান্য উন্নতি হয়েছে। তবে বৃষ্টি না হলে আগামী ২/৩দিনের মধ্যে ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করা যাবে।