| |

ধর্মপাশায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন কা-, প্রথম পরীক্ষার পর থেকেই পরীক্ষায় অনুপস্থিত ওই ছাত্রী!

ধর্মপাশা প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ভাটকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক  ছিদ্দিকুর রহমান ভ’ইয়ার  বিরুদ্ধে ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় এক ছাত্রীর (৯) সঙ্গে অশালীন ও ন্যক্কারজনক কা- করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রোববার বেলা দুইটার দিকে ওই বিদ্যালয়ে প্রথম সমায়িক পরীক্ষার ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে এই ঘটনা ঘটে। এ অবস্থায় প্রথমদিনের পরীক্ষার পর থেকেই ওই ছাত্রীটি পরীক্ষায় অনুপস্থিত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় এক সাংবাদিক ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে মুঠোফোনের মাধ্যমে খবরািট জানতে পারেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকেয়া আক্তার খাতুন। তিনি ওই দিন বিকেল তিনটার দিকে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিজয় সরকারকে সঙ্গে নিয়ে এই ঘটনার সত্যতা জানতে ওই বিদ্যালয়ে যান।
এলাকাবাসী.ওই ছাত্রীর অভিভাবক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের ভাটকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালযের তৃতীয়,চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বিষয়ের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা গত রোববার বেলা একটার দিকে বিদ্যালয়ের কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন বেলা দুইটার দিকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিদ্দিকুর রহমান ভূইয়া পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে এদিক ওদিক তাকানোর অভিযোগে তৃতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রীর (৯) এর শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় চাপ দেন এবং তার পিঠে সজোরে হাত দিয়ে থাপ্পড় মারেন। ওই ছাত্রীটি কোনোরকমে পরীক্ষা শেষ কওে সে বাড়ি চলে গিয়ে পরিবারের সবার সামনে গিয়ে হাউমাউ করে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীটি ঁতাঁর ভাবী ও বড় বোনকে জানানোর পর তাদের মাধ্যমে ওই ছাত্রীটির বাবা মা ঘটনাটি জানতে পারে। এর পর থেকে লজ্জায় মেয়েটি স্কুলের প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বন্ধ করে দেয়। বুধবার বেলা দুইটার দিকে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক ছাত্রীটির বাড়িতে গেলে ছাত্রীটির বাবা মা তাদের বাড়ি থেকে ওই শিক্ষককে গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
জানতে চাইলে ওই ছাত্রীটির মা  গতকাল বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন,, আমরা গরীব মানুষ। কোনোরকমে টেনে টোনে আমাদের এই সংসার চলে । আমরার মেয়েডার ইজ্জত সম্মান লইয়া ওই মাস্টরসাব টানাটানি করছইন। লজ্জায় মেয়েডা স্কুলের পরীক্ষায় যাইতাছে না । এইরহম দ;ুষ্টু মাষ্টরের উপযুক্ত ,শাস্তি হওয়া উচিত। ঘটনাডা ম্যাডাম ( উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ) ও স্যারেরে (সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার) কাছে খুইল্যা কইছি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকেয়া আক্তার খাতুন বলেন, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে আমি ও সহকারী একজন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা ওই বিদ্যালয়ে যাই ।  এ সময় লোক পাঠিয়েূ বিদ্যালয়ে ডেকে এনে ওই ছাত্রীটি, তাঁর মা এবং প্রত্যক্ষদর্শী একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত ঘটনা জানতে পারি।  ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিদ্দিকুর রহমান ভ’ইয়া ওই ছাত্রীটির সঙ্গে ন্যাক্কার জনক আচরণ করছে বলে তারা আমাদের জানিয়েছেন। এ নিয়ে উপস্থিত শিক্ষক ও আশপাশের লোকজনদেরও সঙ্গেও আমরা কথা বলোিছ। ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
ভাটকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক ছিদ্দিকুর রহমান ভূইয়া দাবি করেন, ওই ছাত্রীর সঙ্গে আমি কোনো ন্যাক্কারজনক ও অশালীূন আচরণ করেনি। ওই ছাত্রীটি পরীক্ষার হলে এদিক ওদিক তাকানোর কারণে তার পিঠে একটি থাপড় মেরেছিলাম। আমি এই ঘটনায় ছাত্রীটির বাবা মার কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়েছি।। থাপ্পর মারার  কাজটি করা কোনো অবস্থাতেই আমার ঠিক হয়নি। ভবিষ্যতে আমি আর এমনটি করবোনা।