| |

ভাটি ছেড়ে উজানে মহিষেরপাল!

সৌমিন খেলন : থাকার জায়গা ও খাদ্য সঙ্কটে বন্যা কবলিত হাওরাঞ্চল ছেড়ে শহরের চলে আসছে খালিয়াজুরীর হাজারো মহিষ। রোববার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে মোহনগঞ্জ উপজেলা ও নেত্রকোনা সদরের বিভিন্ন সড়কে দেখা গেছে এ দৃশ্য। এব্যাপারে গণমাধ্যম থেকে মহিষ পালনকারীদের সাথে কথা হয়। রহমত মিয়া অর্ধশতাধিক মহিষের মালিক। বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায়। তিনি জানান, পৌষ মাসে মহিষ নিয়ে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুরী এসেছিলেন।হাওরে প্রচুর ঘাস থাকায় ঘাস খাওয়ার জন্যে মহিষগুলো হাওরের মাঠে ছেড়ে দেয়া হতো। পাশাপাশি নিজেদের আর্থিক চাহিদা পূরণে মহিষগুলো বিভিন্নভাবে কৃষি কাজে ব্যবহার করে আয় করা যেত বাড়তি টাকা। খালিয়াজুরী কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা লতিফ শেখ। তিনি বেশকিছু মহিষ পালন করেন। কিন্তু পচন্দের মহিষ বাঁচাতে তিনি নিজেও আজ গ্রাম ছাড়ছেন। বাংলানিউজে তিনি বলেন, ‘স্বপ্ন নিয়ে মহিষ কিনেছিলাম। কিন্তু এবারের অকাল বন্যায় সব ভাসিয়ে নিলো আমাদের।’ মহিষ পালনে তেমন পরিশ্রম ও অর্থের প্রয়োজন নেই জানিয়ে লতিফ জানান, ঘাসেভরা ও জলাভূমি আছে এমন জায়গায় মহিষ নিজ থেকেই ঘুরেফিরে ঘাস, লতা-পাতা খেয়ে বেশ হৃষ্ট পুষ্ট হয়। রহমান বাবুল জানান, ২ লাখ ৪০ হাজার টাকায় ৬টি মহিষ কিনে ছিলেন তিনি। মাস ছয়েক ব্যবধানে পরে তা বিক্রি হয় ৩ লাখ টাকা! লাভের মুখ দেখে গরু পালন কমিয়ে মহিষের দিকে ঝুঁকে ছিলেন বাবুল। এদিকে মহিষের মাংস খাওয়া নিয়ে নেত্রকোনার ডেপুটি সিভিল সার্জন নিলোৎপল তালুকদার বলেন, মহিষের মাংস মানবদেহে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম।