| |

দুর্গাপুরে দম্পতি খুনের ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন নিহতদ্বয়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন ঃ সন্দেহভাজন আটক ১০ জন

স্টাফ রিপোর্টার : নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী দূর্গাপুর পৌর শহরের মধ্যবাজারে ‘সুবর্না প্লাজা’ নামের নিজ ব্যবসায়িক ও বসবাসের ভবনের তৃতীয় তলায় শয়ন কক্ষে দুর্বৃত্তদের কর্তৃক খুন হওয়া দম্পতি অরুন কুমার সাহা (৭৪) ও হেনা রানী সাহার (৬৫) লাশের ময়না তদন্ত গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) নেত্রকোনা মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। ময়না তদন্তের পর হিমাগারে রাখা নিহতদ্বয়ের লাশ গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ২ টায় দুর্গাপুর পৌছায়। পিতা-মাতা খুনের খবর পেয়ে ইতালী থেকে আগত পুত্র সুদীপ কুমার সাহা ও কন্যাগন নেত্রকোনায় গিয়ে হিমাগার থেকে লাশ গ্রহন করে দূর্গাপুর নিয়ে আসেন। দুর্গাপুরে লাশ পৌছার সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীদের মাঝে কান্নার রোল পড়ে যায়। এসময় সকলের আহাজারিতে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। বিকেল ৩ টায় সুমেশ্বরী নদীর তীরবর্তী শ্মশানে মৃত দম্পতির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ধন্যাঢ্য শান্তিপ্রিয় ব্যবসায়ী বৃদ্ধ দম্পতির নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ, উত্তেজানা ও আতংকের সৃষ্টি হয়। এই জোড়া খুনের প্রতিবাদে ও হত্যার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্যপরিষদ ও পূজা উদ্যাপন পরিষদ গত শনিবার স্থানীয় শহীদ সন্তোষ পার্কে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাস, দুর্গাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ এমদাদুল হক খান, নেত্রকোনার পৌর মেয়র প্রশান্ত রায়, সিপিবি কেন্দ্রীয় নেতা ডাঃ দিবালোক সিংহ, জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি এডভোকেট সীতাংশু বিকাশ আচার্য্য, দুর্গাপুর পৌর মেয়র শ.ম. জয়নাল আবেদিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ জহিরুল আলম ভূঞা, ড. অরবিন্দ শেখর রায় প্রমুখ। এ ছাড়া দুর্গাপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) দিনব্যাপী (সকাল-সন্ধ্যা) হরতাল, দুপুর ১২ টা হতে ১ টা পর্যন্ত ২ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসুচি পালিত হয়। এই কর্মসূচিতে আওয়ামীলীগ-বিএনপি ও তাদের অংগ সংগঠন, দুর্গাপুর বাজার সমাজসেবা গ্রাম কমিটি, ধান-চাল ব্যবসায়ী সমিতি, ফুটপাত হকার শ্রমিক ইউনিয়ন, সুমেশ্বরী ক্ষুদ্র বালু ব্যবসায়ী, মোটরযান কর্মচারী ইউনিয়ন, নির্মান শ্রমিক ইউনিয়ন, পেশাজীবী সংগঠন সহ ৩৮ টি সংগঠন অংশ গ্রহন করে। সকলেই এই হত্যাকান্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী করেন। এই কর্মসূচিতে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ এমদাদুল হক খান, সাবেক এমপি জালাল উদ্দিন তালুকদারের পুত্র শাহ কুতুব উদ্দিন তালুকদার রুযেল, মেয়র শ.ম জয়নাল আবেদিন, প্রবীন রাজনীতিক দুর্গাপ্রসাদ তেওয়ারী, শ্রমিক লীগ সভাপতি আসাদুজ্জমান আসাদ, সম্পাদক শীতল সরকার, মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ ফজলুল হক প্রমুখ। মানব বন্ধন শেষে কর্মসূচিতে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ শবযাত্রায় শরীক হন। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এই হত্যাকান্ডের ব্যাপারে শোকাহত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা না হলেও এর রহস্য উদ্ঘাটনে দুর্গাপুর থানা পুলিশ সন্দেহ ভাজন ১০ জন কে আটক করেছে। আটককৃতরা হলো ঝন্টু চন্দ্র দাস, রিপন সাহা, অশেষ, শাহেদ আলী, কাঞ্চন, জসিম, রিপন, মিলন, রাকিব ও শান্তির মা। দুর্গাপুর থানার ওসি মোঃ রেজাউল ইসলাম খান জানান, খুনের রহস্য উদ্ঘাটনে আটক কৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, শারদীয় দুর্গোৎসবের বিসর্জনের দিনে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিন দুপুরে নিজ ভবনের তৃতীয় তলার শয়ন কক্ষে স্ত্রী হেনা রানী সাহা (৬৫) সহ রহস্য জনক ভাবে খুন হন ব্যবসায়ী অরুন কুমার সাহা (৭৪)।