| |

কেন্দুয়ায় যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে তরুণীর বিষপান

সৌমিন খেলন : যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় বিষপান করে আত্মহত্যা করতে চেয়েছেন এক তরুণী। ঘটনাটি ঘটেছে একই উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়েনের বীরগঞ্জ বাজার এলাকায়। এ ঘটনার পর স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল টাকার বিনিময়ে ওঠে পড়ে লেগেছেন বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নিয়ে ধামাচাপা দিতে। প্রভাবশালী মহল বলছেন তরুণী অভিযুক্ত যুবক একই ইউনিয়নের হাশুয়ারি গ্রামের প্রয়াত ইনছান উদ্দিন’র ছেলে এনামূল হক এনাম’র স্ত্রী হতে তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছেন। সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসী ও ভিকটিমের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, উৎ পেতে থাকা এনাম ২০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) গভীর রাতে তরুণীর ঘরের দরজা খোলা থাকার সুযোগ পেয়ে ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। এরআগে তরুণীর মা প্রাকৃতিক ডাকে দরজা খুলে ঘর থেকে বের হয়। পরে তরুণীর চিৎকার চেঁচামেচিতে মা ঘরের কাছে ছুটে এসে দেখতে পান ভিতর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ! শেষে মেয়ের আর্তনাদে মা আপ্রাণ চেষ্টায় দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে পড়েন। এসময় বিবস্ত্র অবস্থায় লুঙ্গি, পায়ের সেন্ডেল ও ব্যবহৃত মুঠোফোন রেখেই ঘর ছেড়ে দৌঁড়ে পালায় এনাম। এঘটনা প্রকাশ পেলে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলামসহ গ্রামের গণ্যমান্যরা কয়েক দফায় গ্রাম্য শালিস করে সুরাহা করতে ব্যর্থ হন। পরে একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহের মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ঘটনাটিকে শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। এ সুযোগে তরুণীর দূরসম্পর্কের ভগ্নীপতি শাহ্জাহান মিয়া যুবকের পরিবারের কাছ থেকে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা নেন। তবে ঘটনার সত্যতা জানতে চেয়ে সাবেক চেয়ারম্যান তাহের’র মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভড করেননি। এদিকে তরুণী টাকার বিনিময়ে সুরাহা পক্রিয়ায়টি মেনে না নিলেও ভগ্নীপতি শাহ্জাহান নিজে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করে বলে তরুনীর পরিবারের অভিযোগ। এদিকে এসব ঘটনার পর তরুণী লজ্জায় আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে শুক্রবার (০৫ মে) বিকেলের দিকে যুবকের দোকানে গিয়ে বিষপান করে। পরে প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করেন। জেলায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীরা বিষয়টি জানতে পেরে হাসপাতালে ছুটে গেলে তরুণীর ভগ্নীপতি ধর্ষণের ঘটনা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় ফলাফল ভালো না হওয়ায় তরুণীর আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে সদুত্তর দিতে না পেরে একপর্যায়ে হাসপাতালে তরুণীকে একা ফেলে কেটে পড়ে শাহ্জাহান। পরে শনিবার (০৬ মে) দুপুরে তিনি তরুণীর পরিবারে কিছু না জানিয়ে তরুণীকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নিজের হেফাজতে নেন। মেয়ের কোনো সন্ধান জানতে না পেরে মা তাতে আরও মানসিক বিপর্যয়ে পড়েন। এদিকে প্রভাবশালী ওই মহলের লোকজন বারবার অসহায় পরিবারকে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন।এলাকাবাসী ও ভিকটিমের পরিবারের দাবি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ধর্ষণকারী যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।