| |

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে পদ্মায় ব্যারেজ নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে তা কাজে লাগাতে পদ্মা নদীতে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে ব্যারেজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ভারতের হাই কমিশনার পঙ্কজ শরন গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে দেখা করতে এলে একথা বলেন শেখ হাসিনা। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৈঠকের আলোচনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান।
দেশের প্রধান নদী পদ্মায় পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে তা সেচ, জীববৈচিত্র্য রক্ষাসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহারের জন্য রাজবাড়ীর কাছে গঙ্গা ব্যারেজ তৈরির পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে আনুমানিক প্রায় ৩২ হাজার কোটি। বাংলাদেশের প্রস্তাবিত জায়গা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কাতে পদ্মা নদীর ওপর আরেকটি ব্যারেজ রয়েছে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরাতে এলপিজি নেওয়ার জন্য বাংলাদেশে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে একটি এলপিজি টার্মিনাল করার আলোচনা তুলেছে ভারত। ভারতের এ প্রস্তাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন।
দুই দেশেই সময়মতো স্থল সীমান্ত চুক্তি ও প্রটোকল বাস্তবায়িত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।
ভারতের পার্লামেন্টে স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুসমর্থনে সেদেশের সংসদ সদস্যদের এবং চুক্তি বাস্তবায়ন করায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত থাকা সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলে অধিবাসীদের জীবন-মান উন্নয়নের জন্য নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই ওই সব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের তদারকি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিদ্যুৎ খাতে ভারত সরকারেরর সহযোগিতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আমদের সামনে পরবর্তী ধাপ হল উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পায়রা ও অন্যান্য গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের বিষয়ে তার সরকার ভারতের আগ্রহের ডুয়ে নোট পেয়েছে।
দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা শক্তিশালী করতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে পঙ্কজ শরন বলেন, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি সীমান্তে নতুন একটি অভিবাসন চেক পোস্ট চালু হওয়ার অপেক্ষায় আছে।
পাশাপাশি বেনাপোলের ওপারে পেট্রাপোলে একটি সমন্বিত অভিবাসন চেক পোস্ট স্থাপনের কাজ চলছে।
সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী ও মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের হাই কমিশনারের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে তুরস্কের নতুন রাষ্ট্রদূত ডেভরিম ওজটার্ক।
এসময় শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইহসানুল করিম বলেন, নতুন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে আন্তরিক ও দৃঢ় সম্পর্ক নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, টার্কিশ ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা, কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে সহায়তা করছে।
তার নেতৃত্বাধীন সরকার গ্রাম উন্নয়নকে প্রাধান্য দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
এসময় মিলিটারি প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তার সরকারের শক্ত অবস্থান নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
তুরস্কের রাষ্ট্রদূত বলেন, জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ঐক্য ও সহযোগিতা অপরিহার্য।
উপদেষ্টা গওহর রিজভী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।