| |

গোপালপুরে আজকের দিনে প্রলঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে নিহত হয়ে ছিল ১০৪জন মানুষ

এ কিউ রাসেল :  আজ শনিবার ১৩ মে। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলাবাসীর স্বজন হারানোর শোক ও আতঙ্কের দিন। দীর্ঘ ২১ বছর আগে এই দিনে ২মিনিট স্থায়ী আকস্মিক প্রলঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ছোবল দেয় উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামে। কেড়ে নেয় ১০৪টি তাজা প্রাণ। আহত হয় ৪হাজারের অধিক গ্রামবাসী। ঝড়ে নষ্ট হয়ে যায় দুইশত একর বোরো জমির পাকা ধান। ঝড়ের কবলে মারা যায় দশ হাজার গৃহপালিত পশু-পাখি। দিনটি আতঙ্কের হলেও আতঙ্ক মধ্যেও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পালন করছে পুরো উপজেলাবাসী।
জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ১৩ মে’র সে দিনটি ছিল সোমবার। বিকেল চারটা ২৫ মিনিটের দিকে আকস্মিক ভাবে হেমনগর ইউনিয়নের বেলুয়া গ্রাম হতে শুরু হওয়া ঘূর্ণিঝড়টি মাত্র দুইমিনিট কাল স্থায়ী হয়ে আলমনগর ইউনিয়ন হয়ে শেষ হয় মির্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামে। একমাস বয়সী শিশুসহ আলমনগর ইউনিয়নের আলমনগর গ্রামে মারা যায় ৮ জন, জয়নগর গ্রামে ৯জন, মনতলা গ্রামে ২৭জন, বড়ভিটা গ্রামে ৪৭জন, শরিফপুর গ্রামে ২জন। মির্জাপুর ইউনিয়নের খানপাড়া গ্রামে ২জন, দিঘলআটা গ্রামে ৮ জনসহ মোট ১০৪জন শিশু-কিশোর ও নারী-পুরুষ ঘূর্ণিঝড়ের ছোবলে প্রাণ হারিয়ে ছিল বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। দূর্গত এলাকা বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপ্রতি সাহাব উদ্দিন প্রমূখ দূর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ছিলেন।
আলমনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হামিদুল হক চৌধুরী বল্টু ’৯৬ সালের সেই দিনের ঝড় ও ঝড় পরবর্তী বর্ণনা ও স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে আবেগ অপ্লুত হয়ে পড়েন। স্মৃতি হাতড়িয়ে থেমে থেমে জানান, ‘ঝড়ের পর দূর্গত এলাকায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়ে ছিল। অনেকে মৃত্যুর সময় পানির জন্য ছটফট করলেও এক ফোটা পানি মুখে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আল্লাহর রহমতে পরক্ষনে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় মৃতের সংখ্যা কিছুটা কম হয়েছে। সে দিনের ঝড় আমার পড়নের কাপড় ছাড়া কিছুই রেখে যায়নি। আল্লাহ্ মানুষকে দেখাতে পারে, শিখাতে পারে নানা ভাবে। সে দিনকার সেই ঘূর্ণিঝড় আমার বসত বাড়ীর সব কিছুই উড়িয়ে নিয়ে গেলেও আমার বুক সেলফে রাখা কোরআন শরীফটি অক্ষত অবস্থায় ছিলো। শুধু পরক্ষণে বৃষ্টি হওয়ার কারনে তা ঢেকে রাখি। ঝড়ের সময় আলমনগর গ্রামের আবদুল হালিমের মেয়ে গর্ভবতী হালিমার প্রসব ব্যাথা উঠে। তখন তিনি খাবার পানির জন্য ছটফট করতে থাকে। খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী নগদাশিমলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম হোসেন আলী দ্রুত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করায়, তাকে পানি পান করানো হয়। তার কিছুক্ষণ পরই সে একটি ফুটফুটে সুস্থ পুত্র সন্তান প্রসব করে ছিল।’