| |

মিনিটেই সব শেষ!

সৌমিন খেলন : ‘সেদিন দুপুরের দিকেও ঠিকঠাক ছিলো সব। পলকেই ঘোর অন্ধকারে চোখ রাঙিয়ে ভয়ঙ্কর রূপ নিলো আকাশ! মাত্র ৫০/৫৫ সেকেন্ডর ঘূর্ণিঝড়েই সবকিছু  তছনছ করে নিঃস্ব করে দিয়েছে আমাদের!’ ঝড়ের তান্ডব, ভয়াবহতার কথা স্মরণ করে ভীরু চাপা কন্ঠে রোববার (০৪ জুন) বিকেলে ডুকরে কেঁদে বলছিলেন, আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী ইউনিয়নের পূর্ব হাতিয়র গ্রামের বিমল চন্দ্র দাস (৪৫)। ০৩ জুন (শনিবার) নেত্রকোনার আটপাড়া ও মদন উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের একদিন, একরাত পেরিয়ে গেলেও ভয়াবহতার কথা ভুলতে পারছেননা তিনি। স্মৃতি মনে করে বিমল’র মতো এখনো অনেকেই ভীতসন্ত্রস্ত! ওই ঝড়ে মদনের গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের কদমশ্রী গ্রামে গাছচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নুরুন্নাহার নামে বয়োবৃদ্ধ এক নারী নিহত হন। এদিন নায়েকপুর ইউনিয়নের মাখনা গ্রামে বজ্রপাতে আহত মধ্যবয়সী কৃষক খোকন মিয়া মমেকে রোববার সকালে মারা যান। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে মমেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী ইউনিয়নের গুরুতর আহত ষাটোর্ধ বয়সী আনোয়ারা বেগম। দুইটি উপজেলায় পাঁচশতাধিক বাড়িঘর ও সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়। ভেঙে পড়ে ছোটবড় অসংখ্য গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি। অনেক এলাকা রয়েছে এখনো বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন। বাড়িঘর হাড়িয়ে হাজারো মানুষ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অনেকেই ঠাঁই নিয়েছে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনে। ক্ষতিগ্রস্ত সৈয়দ আজিজুল ফকির বলেন, ‘কিছুদিন হলো বন্যায় ফসল কেড়ে নিয়েছে সব। এখন ঝড়ে ধ্বংস করেছে বাড়িঘর! আমরা কি করবো এখন, কোথায় কার কাছে যাবো বাচ্চাকাচ্চার মুখে আহার দেবো কি করে?’ শুনেছি প্রশাসন বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান করছে জানিয়ে কৃষ্ণ চন্দ্র দাস বাংলানিউজে বলেন, ‘আমরা কোনো সহায়তা পাইনি। পরিবার নিয়ে অনাহারে দিন পাড়ি দিচ্ছি। প্রশাসনের কর্মকর্তারা যদি এলাকা পরিদর্শন করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে তারা নিজেদের হাতে সহায়তা প্রদান করতেন তবে সুষ্ঠুভাবে বন্টন সম্ভব হতো।’ মত দেন কৃষ্ণ। এদিকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মুশফিকুর রহমান জানান, ঝড়ের দিন মদন ও আটপাড়ায় তাৎক্ষণিক ৪৫ হাজার টাকা দেয়া হয়। এছাড়াও আজ রোববার ১৫ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়ণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি প্রত্যেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে।