| |

শেরপুরে কলেজছাত্রী স্ত্রীকে নির্যাতন মামলার ৩ দিন পরও গ্রেফতার হয়নি যৌতুকলোভী সেই এসআই শাহিন

শেরপুর প্রতিনিধি ঃ শেরপুরে মোটা অংকের যৌতুকের দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে আশরাফুন্নাহার লোপা (১৯) নামে মেধাবী কলেজছাত্রী স্ত্রীকে পিটিয়ে গুরুতর জখমের ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা রেকর্ডের ৩ দিন পরও গ্রেফতার হয়নি সেই পাষন্ড স্বামী পুলিশের এসআই শাহিনুল ইসলাম (৩০)। যে কারণে তিনি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এ নিয়ে নির্যাতিতা কলেজছাত্রীর পরিবারসহ মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে জেলা সদর হাসপাতালে ৪ দিন যাবত চিকিৎসাধীন থাকার পরও নির্যাতিতা ওই কলেজছাত্রীর অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। বুধবার সকালে তার কাশির সাথে রক্ত বের হয়েছে। এজন্য গলারও এক্সরে করতে হয়েছে। এদিন ওই কলেজছাত্রীর খোঁজ নিয়েছেন জেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি রাজিয়া সামাদ ডালিয়া ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শক্তিপদ পালসহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জনউদ্যোগ নেতা শামীম হোসেন। ওইসময় তারা কলেজছাত্রীর নির্যাতনের দগদগে ক্ষত দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ঘটনায় জড়িত যৌতুকলোভী পাষন্ড স্বামী এসআই শাহিন ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, যৌতুকের দাবিতে তরুণী গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা রেকর্ডের পর থেকেই পুরোদমেই চলছে তদন্ত কার্যক্রম। আর তারই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে অভিযুক্ত এসআইয়ের বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগসহ প্রয়োজনীয় তথ্য প্রেরণ করা হয়েছে। মূল আসামী বা তার সহযোগীদের গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি জানান, এ বিষয়টিও তদন্ত কার্যক্রমেরই অংশ। সুতরাং কিছুটা সময় তো লাগতেই পারে।
উল্লেখ্য, শেরপুর শহরের দমদমা মহল্লার ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান ও সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী লোপাকে পার্শ্ববর্তী শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া গ্রামের বাড়িতে স্বামী এসআই শাহিন ও তার পরিবারের লোকজন ২২ মে রাতে ২০ লাখ টাকার যৌতুকের দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে অমানসিক নির্যাতন চালায়। এরপর চিকিৎসার অজুহাতে বাড়ি থেকে শেরপুরে নিয়া আসার কথা বলে কৌশলে তাকে ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার ভাড়াটে বাসায় বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখে এবং পরিবারের লোকজনের সাথে তার যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে ফের নির্যাতনের খবর পেয়ে পরিবারের লোকজনকে ৩ জুন রাতে খিলগাও থানা পুলিশের সহায়তায় ওই বাসা থেকে উদ্ধার করে শেরপুরে নিয়ে আসে এবং জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।