| |

রংপুর থেকে অপহৃত মাইকক্রো ড্রাইভার গোপালপুর থেকে উদ্ধার; অপহরণকারি চক্রের ৩জন গ্রেফতার

এ কিউ রাসেল : প্রতারণার মাধ্যমে যাত্রীবেশে রংপুর থেকে মাইক্রোবাস ভাড়া করে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের প্রত্যন্ত গ্রামে নিয়ে চালককে আটক করে দুইলাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করে অপকরণকারিরা। মুক্তিপণের টাকা না পাওয়ায় চালককে হত্যার পরিকল্পনা করে তারা। চালক এনামুলের আত্মচিৎকারে এলাকাবাসির সহযোগিতায় রোববার মুক্তিপণ ছাড়াই অক্ষত অবস্থায় তাকে উদ্ধার এবং ঘটনায় সাথে জড়িত ৩জনকে গ্রেফতার করেছে গোপালপুর থানা পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী অফিসার গোপালপুর থানার এসআই হাসান জামিল খান সোমবার দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
মামলার এজাহারে জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে যাত্রীবেশে অপহরণকারিরা শনিবার রংপুরের ধাপজেল রোডস্থ মাইক্রোস্ট্যান্ড থেকে সিলভার কালার টয়োটা (ঢাকা মেট্রো চ-১১-৭১৪৭) গাড়ীটি রংপুর থেকে গোপালপুরে আসার উদ্দেশ্যে ১১হাজার টাকায় ভাড়া করে। চালক কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মৃত রহমত আলীর ছেলে এনামুল হক (৩৮) বিকেল ৩টার দিকে যাত্রীবেশি অপহরণকারি দলের সদস্য উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে কবির হোসেন (৫০), ঝাওয়াইল ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রামের মৃত আইজুদ্দিনের ছেলে নূর ইসলাম (২৮), জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার পশ্চিম বলিয়াদহ গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে মানিক মিয়া (২৬) এবং ধনবাড়ী উপজেলা ভাইঘাট গ্রামের সেজনু মিয়া (২৮) কে নিয়ে গোপালপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা গোপালপুরের মাহমুদপুর গ্রামে পৌঁছলে চালককে জিম্মি করে বিকাশের মাধ্যমে গাড়ীর মালিকের মোবাইলে ফোন করে দ্রুত ২লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন এবং মাইক্রোবাসটি সেজনু মিয়া অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে চলে যায়। দাবিকৃত মুক্তিপণ না পাওয়ায় পরদিন রোববার অপহরণকারীরা চালক এনামুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাহমুদপুর গ্রাম থেকে বের করে নিয়ে যায়। হত্যার সুযোগ খুঁজতে খুঁজতে উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়নের চতিলা বাজার এলাকা দিয়ে পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় চালক এনামুল লোকজন দেখে বাঁচাও বাঁচাও বলে ডাক চিৎকার দিলে, এলাকাবাসি এনামুলকে উদ্ধার করে এবং অপহরণকারি কবির, নূর ইসলাম ও মানিক মিয়াকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। এঘটনায় গাড়ীর মালিক রংপুরের ধাপজেল এলাকার মৃত অছিম উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বাদি হয়ে ওই ৪জনের নাম উল্লেখ করে রোববার রাতে গোপালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী অফিসার গোপালপুর থানার এসআই হাসান জামিল খান আরো জানান, ‘অপহৃত গাড়ীটি উদ্ধার এবং পালাতক আসমীকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’