| |

শেরপুরে লোপার নির্যাতনকারী পুলিশ স্বামীর গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন

শেরপুর প্রতিনিধি ঃ শেরপুরে নিয়মিত মামলার ৮ দিন পরও মেধাবী কলেজছাত্রী ও তরুণী গৃহবধূ আশরাফুন্নাহার লোপার নির্যাতনকারী যৌতুকলোভী স্বামী ডিএমপি পুলিশের এসআই শাহিনুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে ফুঁসে উঠছে স্থানীয় নারী ও মানবাধিকার সংগঠনসহ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। এরই আওতায় সোমবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্ত্বরে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে। জেলা মানবাধিকার কমিশনের ব্যানারে আয়োজিত ওই মানববন্ধনে নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগ, হিউম্যান রাইটসসহ উদীচীর কর্মকর্তা-সদস্য, আইনজীবী, সাংবাদিক ও নির্যাতিতা লোপার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমএ পাবলিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একাত্মতা পোষণ করে অংশ নেয়। ওইসময় জেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি রাজিয়া সামাদ ডালিয়া তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, ব্যবসায়ী পরিবারের একমাত্র কন্যা লোপাকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। আর বর্তমান সময়ে ওই ধরনের নির্যাতন কোন মানুষের কাজ হতে পারে না। নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে টানা ৯ দিন যাবত লোপা হাসপাতালের শয্যায় কাতরাতে কাতরাকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে উপনীত হলেও তার পাষন্ড স্বামী এসআই শাহিন এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে। পুলিশ শাহিন ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের বিষয়ে একেবারেই নীরব রয়েছে। এমটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশে চলতে পারে না,চলতে দেওয়া যায় না। কাজেই তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা না হলে শেরপুরের সচেতন মহল দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। লোপার নানা ও এমএ পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী তার বক্তব্যে লোপাকে নির্যাতনের লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, কোন কোন সময় লোপাকে নির্যাতনের বিষয়টি মোবাইলে কল দিয়ে তার পিতা-মাতাকে জানানো হতো। এছাড়া এসআই শাহিন ও তার সহযোগীরা গ্রেফতার না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার, জেলা মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শক্তিপদ পাল, জেলা উদীচীর সভাপতি অধ্যাপক তপন সারওয়ার, জনউদ্যোগের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ, সদস্য সচিব হাকিম বাবুল, কবি সংঘ’র সভাপতি তালাত মাহমুদ, হিউম্যান রাইটস এর সভাপতি এসএম শহীদুল ইসলাম, শেরপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শিব শংকর কারুয়া শিবু, সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. আবদুল আলীম তালুকদার, নাজমুল স্মৃতি কলেজের সহকারী অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা জিন্নাহ, মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান, শামীম হোসেন, রাঙা শাহীন, এডভোকেট তারিকুল ইসলাম ভাসানী, রিতেশ কর্মকার, সমাজসেবক মাসুদুল আলম সরকার প্রমুখ। ওইসময় সংহতি প্রকাশ করেন শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত ও রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সহ-সভাপতি সাবিহা জামান শাপলা।
এদিকে জেলা সদর হাসপাতাল থেকে লোপাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির ৫ দিন পরও তার অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। ডান চোখ ও কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তাক্ত ক্ষত নিয়ে সেখানেও এক্সরেসহ নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও লোপার কাশির সাথে রক্ত বের হওয়া বন্ধ না হওয়ায় সোমবার সকালে তাকে সার্জারি বিভাগ থেকে মেডিসিন বিভাগে রেফার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শেরপুর শহরের দমদমা মহল্লার ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলামের একমাত্র কন্যা ও সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী লোপাকে পার্শ্ববর্তী শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া গ্রামের বাড়িতে গত ২২ মে রাতে ২০ লাখ টাকার যৌতুকের দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে অমানসিক নির্যাতন চালায় স্বামী এসআই শাহিন ও তার পরিবারের লোকজন।