| |

ময়মনসিংহে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ ঋতু ঘোষ খুনের মামলা এখনো রেকর্ড হয়নি ঃ সর্বস্তরে সমালোচনার ঝড়-উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ময়মনসিংহ নগরীর ২৫ নং ছোট বাজারস্থ ত্রিতল বাড়ির নীচতলায় ভাড়া বাসার বসত ঘরের কক্ষে যৌতুক লোভী নেশাখোর স্বামী সুমন ঘোষ (৩১) ও তার পরিবারের সদস্যদের শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনে নির্মমভাবে গৃহবধূ ঋতু ঘোষ (২২) খুনের ঘটনায় চিহ্নিত ৭ জন ও অজ্ঞাত কয়েক জনকে আসামী করে ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি এজাহার দাখিল করলেও থানা পুলিশ এখনো কোন মামলা রেকর্ড করেননি। বিগত ২০ জুন ২০১৭ ইং (৬ আষাঢ় ১৪২৪ বাং) মঙ্গলবার সংঘটিত এই চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ খুনের দায়ে নিহতের পিতা ঢাকার সাভার উপজেলার  ১২/সি ঘোষ পাড়ার নারায়ন ঘোষ (৬৩) বাদী হয়ে কন্যার শেষকৃত্য ও ঈদে যাতায়াত ঝামেলা পার করে গত ২৯ জুন (বৃহস্পতিবার) ময়মনসিংহে এসে উক্ত থানায় ওসি এবং ঘটনার তদন্তকারী কর্তা এসআই জুলফিকারের আচার আচরনে এবিষয়ে মামলা রেকর্ড করতে আনীহাই উপলব্দি করেছেন। ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্ত সুমন ঘোষ (৩১), তার মা গীতা রানী ঘোষ (৫২), পিতা স্বপন ঘোষ (৫৬), ভাই সুজিত ঘোষ (২৭), কাকা দুলাল ঘোষ (৪৮), মামা উত্তম ঘোষ ও প্রদীপ ঘোষ সহ কাউকেই গ্রেফতার করেনি। পুলিশী এরূপ রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে ছোট বাজার এলাকা সহ ময়মনসিংহ নগরীর সর্বত্র আলোচনা সমালোচনা চলছে। অপরদিকে অভিযুক্তরা উচ্চ মূল্যের বিনিময়ে হলেও গুরুতর এঘটনা চাপা  দেয়ার জন্য হাসপাতাল, মর্গ, থানা এমনকি নিহতের আত্মীয় স্বজনদের দ্বারস্থ হয়ে সর্বাত্মক অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই ঘটনার বাদী নিহতের পিতা নারায়ণ ঘোষ সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের অসহযোগিতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আড়াই বছর আগে হিন্দু ধর্মমতে তার কন্যা ঋতু ঘোষের বিয়ে হয় সুমন ঘোষের সাথে। তাদের সংসার জীবনের দেড় বছর পার হতেই শ্বাশুরী গীতা রানী ঘোষ ও অন্যান্য অভিযুক্তদের সহযোগিতায় জামাতা সুমন ঘোষ কন্যা ঋতুর কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে। ঋতু মোবাইলে এই যৌতুক দাবীর বিষয়টি সাভারে জানালে তিনি তা দিতে ব্যর্থ হন। দাবীকৃত যৌতুকের টাকা না পেয়ে লোভাতুর মাদকাসক্ত জামাতা সুমন ও তার পরিবারের সদস্যরা ঋতুর উপর নানা ভাবে নির্যাতন শুরু করে। সুমন প্রায়শঃ নেশাখোর বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে বাসায় বসে নেশা গ্রহনের আসর বসায়। কন্যার কাছ থেকে এসব জেনে যে কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে আশংকায় ও কন্যার ভবিষ্যৎ চিন্তা করে সুমন ও তার মাকে মাঝে মাঝে (কয়েকবার) বেশ অর্থও দেয়া হয়। কিন্তু তাতেও ওদের মন শান্ত হয়নি। তাদের দাবী ৫ লাখ টাকা চাই। দিতে না পারায় ঋতুর উপর নির্যাতন চলতেই থাকে। ঋতু তার কাকা শ্বশুর দুলাল ঘোষকে এহেন নির্যাতনের কথা জানিয়েও রেহাই পায়নি। সে উল্টো ঋতুকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে, গালিগালাজ করে। অভিযুক্ত অন্যান্যরাও অনুরূপ আচরণ করে। এভাবে প্রায় এক বছর নির্যাতনের পর গত ২০/০৬/১৭ ইং তারিখে সকাল হতে ঋতুর উপর শুরু করে কঠোর শারিরীক নির্যাতন। দিনভর নির্যাতনে অতিষ্ঠ অসহ্য হয়ে বিকেলে ঋতু বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসলে নির্যাতনকারীরা পিছু ছুটে এসে ঋতুকে ধরে টেনে হেঁচড়ে ফের বাসায় নিয়ে যায় (যা ছোট বাজার এলাকার অনেকে দেখেছেন)। চালায় আরো অধিক নির্যাতন। এক পর্যায়ে গলায় চেপে ধরলে ঋতুর নাক দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। মৃত্যুর অবস্থায় ও মৃত্যুযন্ত্রনায় চিৎকার করে পানি খেতে চাইলে নির্যাতনকারীরা পরস্পর যোগসাজশ করে ঋতুর মুখে বিষ মিশ্রণ পানি ঢেলে দেয়। ঋতু মেঝেতে ঢলে পড়লে ওরাই ঋতুকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সীতে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষনা করেন। অভিযুক্ত গীতারানী ঘোষ নিজেই ওই সময়ে ঋতুর অবস্থা খুবই খারাপ বলে মোবাইলে সাভারে ঋতুর ভাই গোপাল ঘোষ ও বোন সেতু ঘোষকে জানায়। খবর পেয়েই সাভারের স্বজনরা সবাই রাতেই ময়মনসিংহে রওনা দেন এবং রাত ২ টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসে শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন ও নাক দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে অবস্থায় কন্যা ঋতুর লাশ দেখতে পান। কোতোয়ালী থানা পুলিশের তত্তাবধানে পরদিন ২১ জুন (বুধবার) মচিম মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে ঋতুর লাশ সাভার নিয়ে যাওয়া হয় এবং শেষ কৃত্য সম্পন্ন করা হয়। কন্যার শেষ কৃত্য ও ইদুল ফিতর উপলক্ষ্যে যাতায়াতে সমুহ সমস্যার কারনে ক’দিন বিলম্বে এসে এজাহারটি দাখিল করা হয়। এছাড়া ছোট বাজার এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন নির্যাতনের শিকার ঋতু প্রানে বাঁচার আশায় বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় এসে পড়লে অভিযুক্ত দুলাল ঘোষের কন্যা জুঁই ঘোষ, পুত্র শুভ ঘোষ ও অন্যান্যরা টেনেহেচড়ে ফের বাসায় নিয়ে যায়। সবশেষে বাদী নারায়ন ঘোষ তার প্রিয় কন্যা হত্যায় জড়িত সুমন ঘোষসহ সকলের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবীতে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার ও ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি’র হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।