| |

নকলায় জার্মান নাগরিকদের অর্থায়নে চলছে অটিস্টিক ডে-কেয়ার সেন্টার

মুহাম্মদ হযরত আলী : শেরপুরের নকলা উপজেলাধীন চন্দ্রকোণা ইউনিয়নের হুজুরীকান্দা গ্রামে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের দিবাকালীন সেবা ও বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়েছে একটি অটিস্টিক ডে-কেয়ার সেন্টার। ১০ জন জার্মান নাগরিক কর্তৃক পরিচালিত “মোটিভেশন এ্যাওয়্যার্নেস ট্রেনিং এন্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (মাটি)” নামের এ সংস্থাটি অটিস্টিক ডে-কেয়ার সেন্টারে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষালয় স্থাপন করা হয়েছে। এখানে বর্তমানে ৭ থেকে ১০বছর বয়সী ১২জন অটিস্টিক শিশু লেখাপড়া করছে। প্রতিষ্ঠানটি শুরু করা হয় ২০১৪ সালে। প্রতিদিন সকাল ৯টা হতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এখানে অটিস্টিক শিশুদের কিচিরমিচিরে সরবিত থাকে। এ ডে-কেয়ারের সেবা ও সুবিধা ভোগ করছেন বিভিন্ন  শ্রেণি পেশার মানুষ। বিভিন্ন পেশাজীবী মায়েরা তাদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিরাপদে রাখতে ও বিশেষ কৌশলের মাধ্যমে বাচ্চাদের শিক্ষা গ্রহণে ওই অটিস্টিক ডে-কেয়ার সেন্টারের প্রতি আগ্রহশীল হচ্ছেন। কেননা, এখানে ভর্তিকৃত শিশুদের শিক্ষা উপকরণ, খাবার, যাতায়তের জন্য পরিবহণ, পোষাক, ক্রীড়া সামগ্রী, বিনোদন ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু বিণামূল্যে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
কেন্দ্রটি দেখাশুনা করার জন্যে রয়েছে ১ জন শিক্ষক ও ২ জন কর্মকর্তা। সম্প্রতি এ সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, জানকীপুর গ্রামের শিক্ষার্থী জুঁইয়ের মা রোজিনা ও তামিমের বাবা আব্দুল্লাহ, কায়দার মিস্টারের বাবা সাইদুল ও নীরবের মা নুরজাহান, চরমধুয়ার জিমহার বাবা জিয়াউর রহমান, হুজুরীকান্দার আরিফার বাবা আমিনুল, বন্দটেকী গ্রামের জাকিয়ার মা আফরোজা এবং চরকৈয়ার এনামের বাবা হেদায়াতুল্লাহ প্রতিদিনই তাদের সন্তানের খোজ খবর নিতে এখানে আসছেন এবং তাদের অতিস্টিক সন্তানদের লেখাপড়া ও শারিরিক অবস্থা দেখে তারা আনন্দ ভোগ করছেন। তাদের মতে এটি শুধু ডে-কেয়ার নয়, অটিস্টিক শিশুদের নিরাপদ শিক্ষালয়।
মাটি’র প্রোগ্রাম অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লেলিন জানান, এখানে শিশুদের দু’বেলা খাবার, একবার টিফিন, চিকিৎসা, খেলাধুলা, বিনোদন, ভ্রমন, ধর্মচর্চা, যাতায়াতসহ সবকিছু রুটিন অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিণামূল্যে করা হয়। এসব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রয়েছে আলাদা লোক। ঐসব শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতাও চলে জার্মান নাগরিকের অর্থায়নেই। তাছাড়া মাটি অফিসের তত্বাবধানে এবং জার্মানের অর্থায়নেই মেডিক্যাল ফ্রি-ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে এপর্যন্ত ৫শতাধিক দাঁতের রোগীকে, সহ¯্রাধিক চোখের রোগীকে ফ্রি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সেন্টারে পরিচালিত মাধ্যমিক শাখার বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া সেন্টারে রয়েছে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি, জৈব বালাইনাশক তৈরি, স্তুপ ও গর্ত কম্পোস্ট তৈরী প্রকল্প, বিভিন্ন ফলজ ও ঔষধি গাছের বাগানসহ কৃষি সহায়ক বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক প্রকল্প।
অটিস্টিক শিশুদের জন্য পড়ালেখার পাশাপাশি তাদের মানসিক বিকাশের সুযোগ সৃষ্টির জন্যে নকলা উপজেলার এ অটিস্টিক সেন্টারটির ন্যায় প্রতি উপজেলায় অন্তত একটি করে এরকম অটিস্টিক ডে-কেয়ার সেন্টার হওয়া প্রয়োজন এবং প্রতি উপজেলায় সরকারি ভাবে অটিস্টিক ডে-কেয়ার স্থাপন সম্ভব নাহলেও; বেসরকারি বা দাতা সংস্থার অর্থায়নে অথবা ব্যাক্তি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত হলেও তা দেশের উন্নয়নে কাজে আসবে বলে মনে করছেন সুধিজনরা।