| |

নতুন ভবনে নেত্রকোনা হাসপাতাল, কমবে রোগীদের দুর্ভোগ

সৌমিন খেলন : জেলা শহরে একটি পঞ্চাশ শয্যার হাসপাতালে জনবল সংকট নিয়ে প্রতিদিন দুই-আড়াইশ’ রোগীর সেবা দেয়া মোটেও সহজ কথা নয়। এতে করে হাসপাতালে চিকিৎসক-নার্সরা যেমন রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খান ঠিক তেমনই রোগীরাও সঠিক সময়ে সেবা পেতে হন বঞ্চিত। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় মেঝেতে, বারান্দায় আর হাসপাতাল ভবনের গেটে ধুলাবালিতে রোগীদের পড়ে থাকা নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের দৈনন্দিন দৃশ্য! হাসপাতালে মশার কামড় খেয়ে বৈদ্যুতিক পাখা ছাড়া গরম সহ্য করে কুকুর এবং রোগীরা একসাথেই থাকেন। তবে আগামী তিন চারদিনের মধ্যেই এ দৃশ্যপট পরিবর্তন হবে বলে স জানিয়েছেন জেলার নবাগত সিভিল সার্জন মো. তাজুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, জনবল সংকট যতই থাক না কেন এ সময়ের মধ্যেই তিনি হাসপাতালের আধুনিক নতুন তিনতলা ভবনে রোগীদের নিয়ে যাবেন। এতে অন্তত অসুস্থ রোগীরা মানুষের মতো থাকার সুযোগটুকু পাবেন।
নতুন ওই ভবনটিতে রয়েছে একশ’ শয্যা। আধুনিকতায় যা যা থাকার কথা সবই আছে ভবনটিতে। হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার-নার্সদের দায়িত্ব এবং পরিশ্রম কিছুটা বাড়লেও রোগীদের প্রাপ্য সেবা দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে জানান তিনি। সিভিল সার্জনের এ ধরণের মন্তব্যে হাসপাতালের ডাক্তার-নার্সদের মনে উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. ফখরুল ইসলাম টিপু, এ.কে.এম আব্দুল্লাহ্ আল মামুন। তারা জানান, পঞ্চাশ শয্যার পুরাতন এ ভবনে রোগীরা অমানবিক পরিবেশে থাকেন। কিন্তু এসব দেখে ডাক্তার হিসেবে তাদের কাছে খারাপ লাগলেও তাদের কিছু করার ছিলো না। তবে নতুন আধুনিক ভবনটিতে কার্যক্রম শুরু হলে ডাক্তার, রোগী উভয়ের জন্য মঙ্গল হবে। জানতে পেরেছি সিভিল সার্জন স্যার বিভিন্ন শূন্য পদের তালিকা করেছেন। এগুলো পদ পূরণের আবেদন ঢাকায় পাঠানো হবে। বিষয়টি নিঃসন্দেহে আনন্দের। নার্সিং সুপারভাইজার ঝুনু রাণী সাহা জানান, সদর হাসপাতালে তার চাকরি জীবন শুরু। অতীত থেকে বর্তমান, হাসপাতালে অনেক দুঃখ কষ্টের সাক্ষী তিনি। চাকরির শেষ সময়ে যদি নতুন আধুনিক ভবনে কাজ করে যেতে পারেন তবে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করবেন তিনি। এদিকে হাসপাতালের নবনির্মিত নতুন ভবনের খবরে জেলাবাসীর মনেও আনন্দ দেখা দিয়েছে। নতুন আধুনিক ভবনে চিকিৎসা সেবার মান উন্নত হওয়ার বিষয়ে সবাই আশাবাদী।