| |

গৌরীপুরের অধিকাংশ সড়কেই বেহাল দশা ॥ জেলা সদরের সাথে সংযোগ সড়কের ১০০গজ যেন খাল

গৌরীপুর  সংবাদদাতা ॥ ময়মনসিংহ জেলা সদরের সাথে গৌরীপুর উপজেলা সদরের যোগাযোগের প্রধান সড়ক গৌরীপুর-কলতাপাড়া সড়কের ১০০গজ যেন খাল। প্রায় এক বছর পূর্বে মেরামত হলেও আবারো যানবাহন চলাচলের অনুপোযোগি হয়ে পড়েছে পৌর শহরের বাসস্টে- থেকে সতিশা মোড় পর্যন্ত প্রায় ১০০গজ সড়ক।
সভা-সমাবেশ আর আন্দোলনের ফলে শত কোটি টাকায় নির্মিত গৌরীপুরের সড়কগুলো এখন জনদুর্ভোগের মাত্রাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। রামগোপালপুর-গৌরীপুর সড়ক, গৌরীপুর-কলতাপাড়া সড়ক, শ্যামগঞ্জ- গৌরীপুর সড়ক, তারাকান্দা-ডেঙ্গাবাজার সড়ক, লংক্ষাখোলা-ভুটিয়ারকোনা সড়ক, ভূটিয়ারকোনা থেকে মাওহাগামী পাকা সড়কগুলো অধিকাংশ স্থানে পিচ খসে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কাজের সঠিক তদারকির অভাবে নি¤œমানের কাজের ফলে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
লংক্ষাখেলা থেকে বেখৈরহাটি সড়কের অধিকাংশ রাস্তার পিছ ও পাথর খসে পড়েছে। সড়ক রক্ষায় দেয়া গাইড ওয়ালও ভেঙ্গে গেছে। ‘সিকিউরিটি মানি’ গ্রহণের পূর্বেই ৬/৭টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিলে একাধিক পত্রিকায় এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রকৌশল বিভাগকে ম্যানেজ করে কচুরিপনা দিয়ে ভাঙ্গা সড়ক ঢেকে ওই ঠিকাদার জামানতের টাকা উঠিয়ে নেন। রাস্তা’র দু’পাশে মাটি ভরাটের অর্থ উত্তোলন হলেও মাটি ভরাট করা হয়নি। ফলে রাস্তার দু’পাশই ধসে পড়চ্ছে। এ সড়কটি নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিনে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়।
ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক থেকে গৌরীপুর উপজেলাগামী রামগোপালপুর সড়কটি সিকিউরিটি মানি প্রদানের বছরও যায়নি বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। বালুয়াপাড়া বাজার, বলেশ্বর ব্রিজের সন্নিকটে কয়েকটি স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ সড়কটি নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিনে রামগোপালপুর-শ্যামগঞ্জ সড়কের বালুয়াপাড়া পর্যন্ত ৮৩লক্ষ ৮৬হাজার ৬২৬টাকায় মেসার্স বাবুল এন্টারপ্রাইজ ৫ ফেব্রুয়ারি/১৪ তারিখে সংস্কার ও মেরামত করে। একই সড়কে শ্যামগঞ্জ পর্যন্ত ৫জুন/১৪তারিখে ১ কোটি ৮৫লক্ষ ৬০হাজার ৬৫২টাকায় সংস্কার ও মেরামত করে সমিরণ চৌধুরী। সিধলা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হাসানপুর বাজার সড়কের ১২০০মিটার পাকাকরণ কাজ ৫১লক্ষ ৪৮হাজার ৭৮৮টাকায়, তাঁতকুড়া-চান্দের সাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয় সড়কটি ৫৮লক্ষ ৪৯হাজার ৪৬৮টাকায় পাকাকরণ করে। রামগোপালপুর থেকে ধুরুয়া বাজার সড়কের দেড় কিলোমিটার ৫৮লক্ষ ৬২হাজার ৮১৬টাকায় নির্মাণ কাজ শেষ করে। শ্যামগঞ্জ-লামাপাড়া সড়কে ১কিলোমিটার রাস্তা ৪৭লক্ষ ৫২হাজার ৫২৭টাকায়, বিসকা ইউপি থেকে ডৌহাখলা-কলতাপাড়া সড়কে ৪২লক্ষ ৮৩হাজার ৩৮৬টাকায়, ৬০লক্ষ ২৫হাজার ৬৬৫টাকায় দক্ষিণ বিশউড়াগামী-শাহগঞ্জ বাজার সড়কটি, শাহগঞ্জ-ভূইয়ার বাজার সড়কে ১ কোটি ২৯লক্ষ টাকায়, বিসকা-কলতাপাড়া সড়কে ২৬লক্ষ ৮৫হাজার টাকায় নির্মাণ কাজ করে।
তারাকান্দা উপজেলা থেকে গৌরীপুরে প্রবেশের ডেঙ্গা মোড় পর্যন্ত সড়কটির পিচ ও পাথর উঠে পড়েছে। মনাটি ব্রিজের দু’পাশে মাটি সরে গেছে। কলতাপাড়া থেকে উপজেলায় প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ অন্যতম ব্যস্ত সড়কের সতিশায় বছর যেতে না যেতেই বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়াই তাঁতকুড়া বাজারে রাস্তা পাকাকরণ করা হয়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় থাকছে হাঁটু পানি। যানবাহন চলাচলে চরম দূর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। সরকারি মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের সামনে গর্তের কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘœ হচ্ছে। এ সড়কটি এক বছরের মাঝে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। তবে রাস্তার দু’পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণেই লক্ষ টাকার উন্নয়ন পানিই গিলে খেয়েছে।
গৌরীপুর-শ্যামগঞ্জ সড়কেরও করুণ হাল। সরজমিনে গেলে শ্যামগঞ্জ থেকে গৌরীপুর সীমানা পর্যন্ত ৫/৬স্থান বিশাল গর্ত দেখা যায়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তদারকির অভাব, অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই অধিকাংশ সড়ক যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। প্রকল্পের শর্তানুযায়ী, নির্মাণের বর্ণনা জনসম্মুখে প্রকাশের জন্য সাইন বোর্ড প্রদান বাধ্যতামুলক। তবে প্রকল্প এলাকায় নির্মাণ কাজের কোন সাইন বোর্ডের সন্ধান মিলেনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণ কাজে তদারকী কর্মকর্তাও মাঝে-মধ্যে পরিদর্শন করেন, তাও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে চড়ে। কার্য সহকারীরাই মূলত দায়িত্ব পালন করেন। উপজেলা প্রকৌশলী (সদ্য বিদায়ী) মোঃ তোজাম্মেল হক বলেন, পাকা সড়কের দু’পাশে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় নির্মাণের পরপরই সড়ক ভেঙ্গে যাচ্ছে। যেসকল সড়ক ভাঙা তা মেরামতের জন্য উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে।