| |

জামালপুর শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষের অবৈধ নিয়োগ নিয়ে দুপক্ষের দ্বন্দ্বে শিক্ষা কার্য্যক্রম ব্যাহতের আশংখ্যা

এসএম হালিম দুলাল ॥জামালপুর শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ একেএম তফিকুল ইসলাম নিয়োগ অবৈধ নিয়ে দু’পক্ষের সৃষ্ট দ্বন্দ্বে কলেজের শিক্ষক কর্মচারীসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা এখন দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশংখ্যা ভূগছে শিক্ষার্খীসহ অভিভাবকরা। অধ্যক্ষ ও উপদাক্ষ্যে মধ্যে সৃষ্ঠ দ্বন্দ্বে গত ১১জুলাই মঙ্গলবার রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং কলেজ গভর্নিং বডি’র সাবেক শিক্ষক প্রতিনিধি কামরুন্নাহার হ্যাপির কে একই কলেজের  অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক এস এম আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ অধ্যক্ষের পক্ষ নিয়ে কলেজে লাঞ্ছিত করে। এ নিয়ে কলেজের শিক্ষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে,১৯৯৫ সনের বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মহাবিদ্যালয় সমূহে এর শিক্ষক নিয়োগ ও জনবল কাঠামো সম্পর্কিত নীতিমালা লংঘন করে কলেজে যুক্তিবিদ্যা বিষয়ে প্রভাষক হাসানুর রহমান খান এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসাবে কর্মরত থাকাবস্থায় নিয়ম বহিভূত ভাবে ১৯৯৭ইং সনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করে যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের প্রভাষক পদটি শূন্যপদ দেখিয়ে ১৯৯৭ সনের ১০ আগস্ট বর্তমান অধ্যক্ষ এ.কে.এম তফিকুল ইসলাম দ্বিতীয় প্রভাষক হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। যা সরকারী নিয়ম ও বিধি মোতাবেক সম্পূন্ন অবৈধ এমনকি সে সময় একই পদে অধিক শিক্ষক নিয়োগের কোন সুযোগ ছিল না।
পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নীরিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারক নং ডিআইএ/জামাল/২-সি/ঢাকা-১৯৪৫/৬ তাং ১৩/০৮/২০০০ইং মূলে শিক্ষা পরিদর্শক জনাব এরফান উদ্দিন আহমেদ এবং গত ৩১/০১/২০০০ ইং তারিখে অডিটর জনাব মমতাজুল করিম কলেজ পরিদর্শন করে যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের দ্বিতীয় প্রভাষক এ.কে.এম তফিকুল ইসলামকে নিয়োগ অবৈধ ঘোষনা করে অতিরিক্ত তার গৃহিত ১,১৫,২৭৫/- টাকা সরকারী কোষাগারে ফেরত পাঠানোর নির্দ্দেশ দেন। কিন্তু এ টাকা ফেরত না দেওয়ায় গত ২০০৮ইং সানের ২৬ফেব্রুয়ারী ইং তারিখে পুনরায় শিক্ষা পরিদর্শক ড. মোঃ আতাউর রহমান ও অডিটর ফারুক গাজী দুইদিন কলেজটি পুনরায় পরিদর্শন করে। স্মারক নং-ডিআইএ/জামালপুর/২-সি/ঢাকা ৫৩১৫/২ তাং-১৭/০৪/০৮ইং তারিখের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় এ.কে.এম তফিকুল ইসলাম “যুক্তিবিদ্যা বিষয়ে দ্বিতীয় প্রভাষক নিয়োগ সম্পূন্ন অবৈধ। তাই ০১/০২/১৯৯৮ তারিখ হইতে ১৬/১০/২০০৪ইং তারিখ পর্যন্ত তার গ্রহনকৃত ৩,৬০,৪০০/- টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানোর জন্য পুনরায় নির্দ্দেশ দেন।
কিন্ত এ টাকা ফেরত না দেওয়ার প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শাখা-৫ এর পক্ষ থেকে গত ২৭/০৪/২০১৫ ইং তারিখে শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ কর্তৃপক্ষের জবাবের প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ডিজি মাউশির সুপারিশের আলোকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য পুনরায় নির্দ্দেশ দিয়ে যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় প্রভাষক এ.কে.এম তফিকুল ইসলাম এর গ্রহন কৃত ৩,৬০,৪০০/- টাকা ত্রিশ দিনের মধ্যে ট্যাজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে চালানের কপি সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয়ে দাখিল করতে নির্দ্দেশ দেন। কিন্তু কলেজ সূত্র জানা যায়- এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ আজও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
অপর দিকে জাতীয় বিশ্ববদ্যিালয়ের সরকারি বিধি অনুযায়ী অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেতে হলে কমপক্ষে ১২ বছরের অভিজ্ঞতা বাধ্যতা মূলক। কিন্ত এ.কে.এম তফিকুল ইসলাম যুক্তি বিদ্যা দ্বিতীয় প্রভাষক হিসাবে অবৈধ নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়া সত্বেও ৯ বছরের অভিজ্ঞতা তিনি জালিয়াতি করে ১২ বছরের দেখিয়ে অবৈধ অধ্যক্ষ হিসাবে বহাল তবিয়তে কর্মরত আছেন ।
অধ্যক্ষের অবৈধ নিয়োগ সত্ত্বেও তিনি একের পর এক বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। এ কারণে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ। এ নিয়ে উপদাক্ষ্য,শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অভিভাবক ও শহরবাসীরা  চরম উৎকণ্ঠায় আছেন।
অপর দিকে বিধি বহির্ভূত অধ্যক্ষের নিয়োগের বিরোদ্ধে অধ্যাপক আবু নোমান মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ গত ১৬/২০১৩ ইং তারিখে জামালপুর সিনিয়র সহকার্রী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৬/২০১৩ (অন্য)। এ ছাড়া কলেজ উপদাক্ষ্য অধ্যাপক সুরুজ্জামান নিজে বাদী হয়ে আরো একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৩৫১/২০১৭(অন্য)  মামলাটি বর্তমানে চলমান আদেশর অপেক্ষায় রয়েছে।
বর্তমানে ভেস্তে যেতে বসেছে কলেজের শিক্ষা কার্য্যক্রম। যে কোন মুহুতে দু’দলের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে যেতে পারে। তাই দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিষ্পতির প্রত্যাশা করছেন।
এ বিষয়ে জামালপুর শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ্য এ কে এম তফিকুল ইসলাম কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অধ্যক্ষ হিসাবে আমার নিয়োগ বৈধ এবং নিয়োগের কাগজ পত্র কলেজে এবং ডিজিতে সংরক্ষিত আছে। এ ব্যাপারে কলেজের উপাধ্যক্ষ মো: সুরুজ্জামানকে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেছেন। তবে এ নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলছে বলেও জানান।
এব্যাপারে ওই কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ডাঃ এম এ মান্নান খান বলেন, কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ’র মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে কলেজ প্রশাসনে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে বলে জানান।