| |

দুর্গাপুরে বস্ত্র ব্যবসায়ী অরুন সাহা ও স্ত্রী হেনা রানীকে গলা কেটে হত্যায় সন্দেহজনকভাবে আটক ১২ এখনও চলছে শোকের মাতম।

অস্তগামী সূর্য ডুবুডুবু গঙ্গার গর্ভে অদৃশ্য হওয়ার পূর্বেই তরিঘরি করে বিসর্জন দেওয়া হল দূর্গাদেবীকে দুর্গাপুরে। কিন্তু এর আগে দুপুর গড়িয়ে গেলে খবর ছড়িয়ে গেছে বাজারের ব্যস্ততম এলাকা মধ্যবাজারের সুবর্ণা প্লাজা ও সুবর্ণা বস্ত্রালয়ের বিশিষ্ট কাপড় ব্যবসায়ী প্রবীণ অরুন কুমার সাহা (৭৫) ও স্ত্রী হেনা রানী সাহা (৬৫)কে তৃতীয় তলায় শয়নকক্ষে গলা কেটে হত্যা করা হয়। আর নৃশংস হত্যাকান্ডটি কিভাবে এবং কখন হল তা বলতে পারেনা মার্কেটের লোকজনসহ ঘনবসতি আশেপাশের বাসিন্দা ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুক্রবার বিজয়া দশমীর দিনে সমস্ত মার্কেট বন্ধ থাকে। সকাল থেকে ২টার মধ্যে যে কোন সময়ে হত্যাকান্ডটি ঘটতে পারে বলে অনেকের ধারণা। এসময় তাদের বাসায় ছিলনা কেউ। ছোট ছেলে সুদীপ কুমার সাহা ইতালী ও দুই মেয়ে সুলেকা সাহা ও সুবর্ণা সাহা থাকেন কানাডায়। বড় ছেলে সুজীত কুমার সাহা বাবা মায়ের সাথে থাকতেন। ঘটনার আগের দিন তিনিও পারিবারিক কাজে ঢাকায় চলে যান। শারদীয় উৎসব উপলক্ষে উপজেলার আইন শৃংখলা বাহিনী ও প্রশাসনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নজরদারী থাকাবস্থায় শহরের প্রাণকেন্দ্রে এ নৃশংস হত্যাকান্ড সর্বমহলকে ভাবিয়ে তুলছে। পুলিশ ইতিমধ্যে রহস্য উদঘাটনে সন্দেহজনকভাবে ১২জনকে আটক করেছে। আটক কৃতরা হলো ঝন্টু চন্দ্র দাস, রিপন সাহা, অশেষ,শাহেদ আলী,রিপন,জসীম,মিলণ,রাকিব শান্তির মা। এরহস্যজনক হত্যাকান্ডকে ঘীরে দুর্গাপুর উপজেলার ব্যবসায়ী মহল সহ সর্বস্তরের জনমনে আশংকা, আতঙ্ক, ক্ষোভ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ চলছে আসামীদের গ্রেফতারের দাবীতে। ইতিপূর্বেও এখানে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় সুপারী ব্যবসায়ী সুকুমার সাহা,জনৈক শ্রমিকনেতা আব্দুর রাজ্জাক ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন তালুকদার কে। পরপর ঘটে যাওয়া খুন খারাবির ঘটনায় দুর্গাপুর উপজেলাবাসীকে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগতে হচ্ছে। গত ২৭ অক্টোবর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরিফ খান জয়, নেত্রকোণা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আনোয়ার আকন্দ, সহকারী পুলিশ সুপার শফিউল আলম, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার মোঃ মোখলেছুর রহমান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ এমদাদুল হক খান। বুধবার অরুন কুমার সাহার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এখনো অগনিত নারী-পুরুষের ভীর এবং কান্নায় ভেঙ্গে পরেছেন তার ছেলে-মেয়েসহ আত্মীয়স্বজন।