| |

গোপালপুরের দৌলতপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে খেলা করে হাঁস

এ কিউ রাসেল : পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খেলাধূলার পরিবর্তে মাঠে খেলা করে হাঁস। টানা তিনমাস ধরে এ অবস্থা অব্যাহত রয়েছে। সরজমিনে গতকাল শনিবার দুপুরে বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন একটি নালা তৈরি পানি অপসারণের প্রানান্ত চেষ্টা করছেন। আর মাঠে বিচরণ করছে একঝাঁক হাঁস।
জানা যায়, স্থানীয় গণমান্যদের প্রচেষ্টায় উপজেলা মির্জাপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দৌলতপুর গ্রামে ঝিণাই নদীর অদূরে ১৯৭৬সালে ৪১শতাংশ জমির উপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৩সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৫জন শিক্ষক ও একশত ৪৬জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়ের একপাশ দিয়ে গোপালপুর-ভূঞাপুর সড়ক ও অন্যপাশ গুলোতে মাটি উচু করে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করার কারণে বিদ্যালয়ের মাঠটি নিচু অবস্থায় পড়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। প্রায় এক যুগ ধরে এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরে প্রায় ৩মাস যাবৎ বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের খেলাধূলা করতে পারছে না। সম্প্রতি উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠা-ু বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে বিদ্যালয়ের মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করে উঁচু করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা মাসুদা ইয়াসমিন বলেন, ‘বিদ্যালয়টিতে বছরের ৩/৪মাস জলাবদ্ধ থাকায় শিশুদের জাতীয় সমাবেশ ক্লাশ করাতে পারি না। শিশুদের লেখা-পড়ার পাশা-পাশি খেলাধূলার দরকার আছে। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হওয়ার কারণে আমরা খেলাধূলা ও সামবেশ ক্লাশ করাতে পারি না। বিদ্যালয়ে মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করে দেয়ার জন্য আমি ১৭ মে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত আবেদন দিয়েছি।’
বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধ থাকার কারণে বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে জন্য বিদ্যালয়ে ক্ষুদে খেলোয়ারদের অন্যত্র গিয়ে অনুশীলন করতে হয়। আমি বিদ্যালয়ের মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’