| |

ধোবাউড়ায় পাহাড়ী বন্যায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী,মানবেতর জীবন

আবুল হাশেম ঃ  ধোবাউড়ায় ভারী বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ৪ টি ইউনিয়ন সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়ে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পগেছে। এতে মানবেতর জীবন যাপন করছে সাধারন মানুষ। শনিবার সকালে দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের নেতাই নদীর বাধ ভেঙ্গে নয়াপাড়া,দিঘলভাগ,কড়ইগড়া,কালিকাবাড়ি,কাশিপুর,বল্লভপুর,সোহাগীপাড়া,খাগগড়া,রামসিংহপুরসহ ১৪ টি গ্রামের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করে।এতে দক্ষিন মাইজপাড়া ইউনিয়নের অন্তত ২০ হাজার মানুুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।কালিকাবাড়ি গ্রামের সাইদুল ইসলামের বাড়িটি নদীর ¯্রােতে ভেসে গেছে। রাস্তার আশেপাশে বসবাসরত মানুষগলোকে ই্্উপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে তুলে এনেছেন। কিন্তু তীব্র ¯্রােতের কারনে ও নৌকার ব্যাবস্তা না থাকায় হাজার হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দী রয়েছে।তলিয়ে গেছে অসংখ্য পুকুর। শত শত হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কড়ইগড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিন বলেন আমার ২ একর ৬০ শতাংশ জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে এখন কি করব কোন উপায় খুজে পাচ্ছিনা। একই গ্রামের লিল মামুদ বলেন ফিশারী ডুবে প্রায় ২ লক্ষ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ঘোঁষগাও ইউনিয়নের ভুইয়াপাড়া,ভালুপাড়া,ঘোষগাওসহ ৫ টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী অকস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। ঘোষগাও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুল হক জানান ইতোমধ্যে এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পাশাপাশি কিছু শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। এদিকে গামারীতলা ইউনিয়নে নেতাই নদীর বাধ ভেঙ্গে আদম আলীর বাড়িটি ¯্রােতের সাথে ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি ৪ টি গরু মারা গিয়েছে। এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে আদম আলী। এছাড়াও গুনাপাড়া,চকপাড়াসহ ৫ টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান বলেন আমি পানিবন্দী মানুষের খোজ খবর নিচ্ছি। পোড়াকান্দুলিয়া ইউনিয়নের কালিনগর,বহরভিটা,উদয়পুর,হরিনধরা,গোপিনপুর,বতিহালা,আঠামসহ প্রায় ১২ টি গ্রামের ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন তালুকদার জানান আমি বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেছি। হঠাৎ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে।বন্যার ফলে তলিয়ে গেছে অসংখ্য রাস্তাঘাট। পানি উঠে পড়েছে বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বন্যা দূর্গত এলাকা পরিদর্শন শেষে বলেন আমি জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলেছি যেন ক্রানের ব্যবস্থা করা হয়। এদিকে ধোবাউড়া হালুয়াঘাট আসনের সংসদ সদস্য মি.জুয়েল আরেং জানান ইতোমধ্যে ধোবাউড়ায় কিছু শুকনো খাবার পাঠনো হয়েছে। পরবর্তীতে ত্রানের ব্যবস্থা করা হবে।