| |

ফুলপুরে কথিত স্কুল ছাত্রী অপহরণ নাটকের অবসান

ময়মনসিংহের ফুলপুর থানা পুলিশ স্কুল ছাত্রী অপহরণ নাটকের অবসান ঘটিয়ে কথিত অপহৃতাকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করে শুক্রবার বিকেলে থানায় নিয়ে আসেন। আজ রোববার আদালতে প্রেরণ করবেন।
জানা যায়, ফুলপুর পৌরসভার সাহাপাড়া এলাকার পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর মৃত অনিল চন্দ্র সাহার একমাত্র কন্যা ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী কৃষ্ণা সাহা ফুলপুর গ্রীণ রোডস্থ এমবিশন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল থেকে গত ৬ আগস্ট নিখোঁজ হয়। এতে অবহেলার অভিযোগ এনে ছাত্রীর মা অঞ্জুরানী সাহা স্কুলে এসে ব্যাপক ভাংচুর চালান। এছাড়া অঞ্জুরানী সাহা বাদি হয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে আমুয়াকান্দা বাজারস্থ ধান ব্যবসায়ী বিশ্বজিত সাহার নামসহ অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে ফুলপুর থানায় নারী ও শিশু অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ বিশ্বজিত সাহাকে আটক করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ মঙ্গলবার আদালতে প্রেরণ করেন। পুলিশ ঘটনাটিকে রহস্যজনক বলে মনে করে আসছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে মা অঞ্জুরানী সাহা ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দিয়ে মেয়েকে আনতে নাটক সাজিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবু বকর সিদ্দিকসহ পুলিশ নিয়ে ঢাকায় যান। এদিকে পুলিশের কৌশলী তৎপরতা দেখে অপহরণ নাটককারীরা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে মেয়েকে ফেলে রেখে পালিয়ে গিয়ে মোবাইল ফোনে বিষয়টি তার মাকে জানান। এবার সত্যিকার অর্থেই মেয়ে হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে মা কান্নাকাটি শুরু করে পুলিশকে নিয়ে খোঁজতে বের হন। পরে পুলিশ কমলাপুর জিআরপি থানায় মেয়েকে পেয়ে শুক্রবার বিকেলে ফুলপুর থানায় আনেন। আজ রোববার ময়মনসিংহ আদালাতে প্রেরণ করবেন। মা অঞ্জুরানী সাহা পুলিশের কাছে অপহরণ নাটকের সত্যতা স্বীকার করে জানান, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে সে মেয়ে কৃষ্ণা সাহাকে বড় বোন নির্মিলা সরকারকে দিয়ে ফুলপুর থেকে ঢাকায় পাঠিয়ে এ নাটক সাজিয়েছিল। এ ব্যাপারে ফুলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আলী অহম্মেদ মোল্লা জানান, আমরা কৌশলী ভূমিকা নিয়ে অপহরণ নাটকের অবসান ঘটাতে পেরেছি। পরবর্তিতে নাটককারীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া স্কুল ভাংচুরের ঘটনা নিয়েও তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা নেয়া হবে।