| |

ধোবাউড়ায় বন্যার অবনতি,শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী,৬৩ টি বিদ্যালয় পানির নিচে

আবুল হাশেম ঃ  ধোবাউড়ায় ভারী বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সৃষ্টি হওয়া বন্যার অবনতি হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে শতাধিক গ্রাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়ের্ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পগেছে। এতে মানবেতর জীবন যাপন করছে সাধারন মানুষ। ৫৫ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৮ টি উচ্চ বিদ্যালয় পানির নিচে থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এদিকে গামারীতলা ইউনিয়নে এক শিশুর লাশ ভেসে আসার খবর পাওয়া যায়। তবে ঐ শিশুটির পরিচয় পাওয়া যায়নি। শনিবার সকালে দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের নেতাই নদীর বাধ ভেঙ্গে নয়াপাড়া,দিঘলভাগ,কড়ইগড়া,কালিকাবাড়ি,কাশিপুর,বল্লভপুর,সোহাগীপাড়া,খাগগড়া,রামসিংহপুরসহ ১৪ টি গ্রামের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করে।এতে দক্ষিন মাইজপাড়া ইউনিয়নের অন্তত ২০ হাজার মানুুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।কালিকাবাড়ি গ্রামের সাইদুল ইসলামের বাড়িটি নদীর ¯্রােতে ভেসে গেছে। রাস্তার আশেপাশে বসবাসরত মানুষগলোকে ই্্উপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে তুলে এনেছেন। কিন্তু তীব্র ¯্রােতের কারনে ও নৌকার ব্যাবস্তা না থাকায় হাজার হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দী রয়েছে।তলিয়ে গেছে অসংখ্য পুকুর। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় ৫ হাজার হেক্টর জমির আউশ ও আমন ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কড়ইগড়া গ্রামের গিয়াস উদ্দিন বলেন আমার ২ একর ৬০ শতাংশ জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে এখন কি করব কোন উপায় খুজে পাচ্ছিনা। গামারীতলা ইউনিয়নের জবেদ তালুকদার বলেন ৫ একর জমির একটি ফিশারী থেকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ঘোঁষগাও ইউনিয়নের ভুইয়াপাড়া,ভালুপাড়া,ঘোষগাওসহ ৫ টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী অকস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। এদিকে শনিবার রাত থেকে একটানা বৃষ্টি হয়ে পোড়াকান্দুলিয়া ও গোয়াতলা ইউনিয়নে বন্যার অবনতি হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে কষ্টে জীবন যাপন করছেন সাধারন মানুষ। রবিবার সকালে ধোবাউড়া হালুয়াঘাট আসনের সংসদ সদস্য মি.জুয়েল আরেং লঞ্চযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনকে স্ঙ্গে নিয়ে পোড়াকান্দুিিলয়া,গোয়াতলা ও গামারীতলা ইউনিয়নে ত্রান বিতরণ করেন। তবে তা খুবই সামান্য বলে জানিয়েছেন পানিবন্দী মানুষ। এ ব্যাপারে এমপি জুয়েল আরেং বলেন আমাদের এলাকাটি মুলত দুর্য়োগ প্রবণ নয় তাই প্রস্তুতি নিতে দেরি হয়েছে তবে সকলকেই পর্যাপ্ত পরিমান ত্রানের ব্যবস্থা করা হবে। এদিকে গামারীতলা ইউনিয়নে নেতাই নদীর বাধ ভেঙ্গে আদম আলীর বাড়িটি ¯্রােতের সাথে ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি ৪ টি গরু মারা গিয়েছে। এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে আদম আলী। এছাড়াও রবিবার সম্পূর্ণ ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান বলেন আমি পানিবন্দী মানুষের খোজ খবর নিয়ে ত্রানের ব্যবস্থা করেছি। হঠাৎ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধোবাউড়া উপজেলার তলিয়ে গেছে অসংখ্য রাস্তাঘাট।