| |

সহ¯্রাধিক একর ফসলি মাঠ তলিয়ে গেছে, ৩ শতাধিক বাড়িঘরে পানি ॥ গৌরীপুরে খালের অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে-গুড়িয়ে দিলো বিক্ষুব্দ এলাকাবাসী

শফিকুল ইসলাম মিন্টু ঃ  খাল দখলের কারণে তারাকান্দা ও গৌরীপুর উপজেলার ২৭টি গ্রামের সহ¯্রাধিক একর রোপিত আমন ধানের ফসলি মাঠ তলিয়ে গেছে। ৩ শতাধিক বাড়ি-ঘরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বেকারকান্দা, গজন্দর, শালীহর, শাহবাজপুর, চকপাড়া, গাঁওগৌরীপুরসহ দু’উপজেলার শ’শ মানুষ ঘুমতে উঠেই দা, কুদাল, কুন্তি নিয়ে সেই অবৈধ খাল দখলদারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে মাঠে নামে। অবৈধ দখলদাররা কয়েকদফায় উচ্ছেদ ঠেকাতে মাঠে নামলেও জন¯্রােতের উড়ে যায় তাদের প্রতিরোধ। বাঁধ, অবৈধ স্থাপনা ভাঙার পর প্রবল ¯্রােতে উল্লাসিত হয়ে পড়েন হাজারো মানুষ। সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন গৌরীপুর থানার এসআই হাসনুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ। বিক্ষুব্দ এলাকাবাসী এরপরেই খালের সকল অবৈধস্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পৌর ভবনের সামনে শতশত কৃষক অবস্থান নিয়ে ‘আমাদের ফসল বাঁচান-আমাদের বাঁচতে দিন’ শ্লোগান দেয়। এ সময় দুর্নীতিবাজ সেই ভূমি কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় এনে কৃষকের জমির ফসল নষ্ট করার দায়ে ফাঁসির দাবি জানান।
গৌরীপুর পৌর ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের ভালুকা মৌজার ১৬৮শতাংশের খালের মাত্র ৩০শতাংশ বাকি রেখে পুরো দখলে নেন ভালুকার মৃত সেক তমুর পুত্র মোঃ ইব্রাহিম সেক। পৌর ভূমি অফিসের তথ্যানুযায়ী জানা যায়, ১৯৬২সনের আরওআর রেকর্ডেও খাল উল্লেখ রয়েছে। ‘নামা’ শ্রেণিভূক্ত করে ১৯৭৯-৮০সনে ১৫৭৬নং হিসাবের মাধ্যমে ১৩৮শতাংশ ভূমি বন্দোবস্তকৃত করে নেন মোঃ ইব্রাহিম সেক। এই অবৈধ বন্দোবস্তের কারণে ৩৭বছরে খালের উপরে গড়ে উঠেছে শতাধিক ঘর-বাড়ি।
ভূমি অফিসে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসে আরো চমকপ্রদ তথ্য। এই খাল শ্রেণি পরিবর্তন করে ‘লাল রঙের কালি’ দিয়ে লেখা হয়েছে ‘নামা’। পৌর ভূমি অফিস আরো জানায়, ১৩৮শতাংশ থেকে ২০০৬সনের ৮জুন তারিখে বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত মোবারক আলীর পুত্র মোঃ জালাল উদ্দিন ২৯১৯নং হিসাবের ৯৫২নং খতিয়ানে ১৫শতাংশ, একই বছরের ১৮জুন স্টেশন রোডের মৃত আমজত আলীর পুত্র মোঃ আব্দুর রহমান ২৯২৯ নং হিসাবের ৪২৫৮নং খতিয়ানে ১৪শতাংশ, ২০০৭সনের ২২মার্চ মৌলানা আব্দুল কদ্দুছ আমিনীর পুত্র মিজানুর রহমান আমিনী ও তার কন্যা মোছাঃ ছাবিনা ইয়াসমিন ৩০৪৪নং হিসাবের ৪৩৫৩নং খতিয়ানে সোয়া ১২শতাংশ, ২০১০সনের ২০ডিসেম্বর জারিয়ার মৃত আমজত আলীর পুত্র মোঃ আব্দুর রহমান ৩৭৫৭নং হিসাবে ৫২০৯নং খতিয়ানে ৫শতাংশ নামজারি করে নিয়েছে। অবশিষ্ট প্রায় ৮৭শতাংশ জমি এখনও ভালুকা গ্রামের সেক তমুর পুত্র ইব্রাহিম সেকের নামেই রয়েছে। গ্রহিতাদের হিসাবমতে, প্রতি শতাংশের মূল্য ৪লক্ষ টাকা হিসাবে ১৩৮শতাংশ জমির গড়মূল্য ৫ কোটি ৫২লক্ষ টাকা। গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, কৃষকের এ দাবি ন্যায়সঙ্গত। যারা অবৈধভাবে লীজ প্রদান করেছেন। তাদেরই উচিত-কৃষকের ফসল রক্ষার জন্য খালকে খালেই পরিণত করা।