| |

ইসলামপুরে বানে ভাসছে লাখো মানুষ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

জামালপুরের ইসলামপুরে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। প্রথম ধকল বন্যা সামলে উঠতে না উঠতেই দ্বিতীয় ধকলে উপজেলার আবারো লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
যমুনার পানি বিপদসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুই দিনেই বন্যার পানি হুহু করে বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার সাথে বানিয়াবাড়ী,দেলীরপাড়,গুঠাইল বাজার,মলমগঞ্জ বাজার,আমতলী বাজার হতে ডেবরাইপ্যাচ,উলিয়া বাজার বামনা,শিংভাঙ্গা,উলিয়া,সোনামুখি,বেলগাছা,জারুলতলা,কুলকান্দি পশ্চিমাঞ্চলের সাতটি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে পৌর এলাকার ধর্মকুড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ।

বন্যা কবলিত মানুষরা গবাদিপশু নিয়ে তাদের স্বজনদের বাড়ী ও উচুস্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাবন করছে। বেলগাছা ইউনিয়নের দেলীরপাড় মধ্যে পাড়া গ্রামের মনু মিয়া বলেন,গত দুইদিন থেকে বাড়িতে পানি উঠেছে। অনেক কষ্ট করে এই দুইদিন থাকলাম। আজ অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।
পাথর্শী ইউনিয়নের মোজাআটা গ্রামের মোহাম্মদ আলী বলেন,বাড়িতে পানি উঠ্য়া জারুল তলা ব্রীজে গরুগুলো নিয়ে আশ্রয় নিলাম। কেউ কোন খোজ খবর নিতে আসেনি। অনেক কষ্টে পড়লাম, এখন নিজেই খামু নাকি আমার গরু দুইডারে খাওয়ামু।
চিনাডুলী ইউনিয়নের বামনা গ্রামের সুলতানা বেগম জানান,বাড়িতে পানি উঠছে,খেতা বালিশ নিয়া অন্যের বাড়িতে যাইতাছি। সারাদিনে ঘরবাড়ির জিনিষগুলো টানলাম,কিছুই খাইনাই। চাল আছে পাক করার জায়গা নাই।
জারুলতলা বাজারের ব্যবসায়ী সুরুজ আলী জানান, হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে পানি উঠায় চরম ভ’গান্তিতে পড়েছি। ব্যবসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। হাহাকার অবস্থায় মধ্যে আছি।
চিনাডুলী চেয়ারম্যান সালাম জানান, পুরো ইউনিয়ন বন্যায় আক্রান্ত হয়ে ২০হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। রাস্তাগুলো তলিয়ে গিয়েছে। ভানবাসী মানুষ খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। রাতারাতি পানি আসায় অনেকেরই জিনিষপত্র,হাঁস মুরগী ভেঁসে গেছে। পাথর্শী ইউনিয়নের ইফতেখার বাবুল জানান, শশারিয়াবাড়ী,নাওভাঙ্গা,মোরাদাবাদ,মুজাআটা,মহিষবাতান,নলডাংরি,দেলিরপাড়,খলিশাকুড়ি,বানিয়াবাড়ী গ্রামের ১৫হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। পার্থশী ইউনিয়নের নুরুল হুদা মাদরাসায় ৫শতাধিক পরিবার এবং জারুল তলা ব্রীজে ৩শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

নোয়ারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান জানান, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পনেরটি গ্রামের ১০হাজার মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। সাপধরী ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান,হুহু করে পানি আসায় এ্ ইউনিয়নের ১০হাজার মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে। খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। আবার নদী ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে।

বেলগাছা ইউপি চেয়ারম্যান আঃ মালেক জানানা,প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ২০হাজার মানুষ পানিবন্ধী হয়ে দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। নদী ভাঙ্গনে ৫টি বাড়িঘর নদীর গর্ভে বিলূন হয়ে গিয়েছে।
কুলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান জানান,জিগাতলা,কুলকান্দি,বেড়কুশাসহ ১০টি গ্রামের ২০হাজার মানুষ পানিবন্ধী রয়েছে। সদর ইউপি চেয়ারম্যান জানান,পাঁচবাড়িয়া,পচাবহলা,ধর্মকুড়া,সোনামূখি,ফকিরপাড়া,গঙগাপাড়া,শংকরপুর এলাকাগুলোতে ৫হাজার মানুষ পানিবন্ধী হয়ে অসহনীয় জীবন ধারন করছে।

বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ ধারন করায় উপজেলার ৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৬৬টি মাধ্যমিক,৫টি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।
উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান,দ্বিতীয় দফা বন্যায় সরকারি হিসাবে অনুযায়ী ইসলামপুর সদর ইউনিয়ন,নোয়ার পাড়া,সাপধরী,চিনাডুলী,বেলগাছা,কুলকান্দি ও পাথর্শী ইউনিয়নের ১৪০ গ্রাম প্লাবিত হয়ে ১৫হাজার ৩৩৪পরিবারের ৮০হাজার ৬৬০জন মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে। তবে বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী পৌর এলাকাসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০ ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিববন্ধী হয়ে পড়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম এহসানুল মামুন প্লাবিত এলাকায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানশিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন । এছাড়া সকল চেয়ারম্যান,মেম্বার ও গ্রাম পুলিশদের সার্বক্ষনিক সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি জরুরী মত বিনিময় সভা করেছে। উপজেলা হল অডিটরিয়ামে রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম এহছানুল মামুন এর সভাপতিত্বে সভায় ভাইস চেয়ারম্যান সফিকুল আলম দুলাল,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সফিয়া জবেদ,ইসলামপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দ্বীন-ই-আলম,প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু,সাংবাদিক,চেয়ারম্যান গন ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা গন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ৭টি ইউনিয়নে বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ১৩ মেঃটন চাউল এবং দশহাজার টাকা বরাদ্ধ করা হয়।