| |

মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী না হয়েও পাচ্ছেন ভাতা জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ

(হালুয়াঘাট প্রতিনিধি) ঃ হালুয়াঘাটের ২ নং জুগলী ইউনিয়নের ঘিলাভূই গ্রামের মৃত উসমান আলীর পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আলীর স্ত্রী না হয়েও স্ত্রীর নামে পাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা। মুক্তিযোদ্ধা জনাব আলীর ছোট ভাই রিক্সা চালক রজব আলী এ বিষয়ে বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। যার অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, হালুয়াঘাট মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, ময়মনসিংহ জেলা প্রেস ক্লাব, হালুয়াঘাট প্রেস ক্লাব ও সোনালী ব্যাংক হালুয়াঘাট শাখায় দেওয়া হয়। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন শেষে মুক্তিযোদ্ধা জনাব আলী একই গ্রামের রেজাক সরকারের কন্যা মাজেদা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর তিনি সেনাবাহিনীতে যোগদেন । চাকরীতে থাকা অবস্থায় জনাব আলীর স্ত্রী মাজেদা খাতুন একই গ্রামের লালু ওরফে আঃ কুদ্দুসের সাথে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে গিয়ে তাকে বিয়ে করেন। চাকরীর ছুটিতে বাড়িতে এসে তার স্ত্রীর এমন সংবাদ শুনে মনের দুঃখে আবার চাকরীতে ফিরে যান। সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় তার আকস্মিক মৃত্যু হয়। জনাব আলীর মৃত্যুর পর আমার মা জইগন বেওয়া মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেতেন। এই মাজেদা খাতুন লালুর সাথে কিছুদিন সংসার করার পর তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। পরে গ্রামের হালিম উদ্দিন নামে একজনকে বিয়ে করেন এবং সেই ঘরে তার ১ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তান রয়েছে। হালিম উদ্দিন এর মৃত্যুর পর মাজেদা খাতুনকে স্থানীয় কিছু মুক্তিযোদ্ধার যোগসাজসে মুক্তিযোদ্ধা জনাব আলীর স্ত্রী সাজিয়ে এবং নি-সন্তান পরিচয় দিয়ে তাকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় এবং এখান থেকে তারাও মোটা অংকের ভাগ নেয়। শুধু তাই নয় সেনালী ব্যাংক হালুয়াঘাট শাখা থেকে ২ লক্ষ টাকা ঋণের জন্য আবেদনও করেছেন এই নারী। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আঃ মান্নান বলেন, এই মহিলা তার স্বামী মুক্তিযোদ্ধা জনাব আলীকে ছেড়ে আরো দুই জায়গায় বিয়ে বসেন এবং তার দুই সন্তান রয়েছে। এটা শুধু আমি নই, এই এলাকার সকল মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারন মানুষ সবাই জানে। কিভাবে তিনি মুক্তিযোদ্ধা জনাব আলীর স্ত্রী হিসেবে ভাতা পান আমি বলতে পারবো না। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাজেদা খাতুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাকে স্থানীয় কিছু মুক্তিযোদ্ধা নি-সন্তান পরিচয় দিয়ে ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছে এবং আমার কাছ থেকে টাকাও নিয়েছে। আমার হালিম উদ্দিনের সাথে বিয়ে হয় এবং সেই ঘরে রইছ উদ্দিন ও সেফালী খাতুন নামে দু’ই সন্তান রয়েছে। এই বিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কবিরুল ইসলাম বেগ বলেন, যেহেতু এই মহিলা অন্য দুই জায়গায় বিয়ে হয়েছে এবং সন্তান রয়েছে সেহেতু সে কোন অবস্থাতেই মুক্তিযোদ্ধা জনাব আলীর স্ত্রী হিসেবে ভাতা পাবেনা। বিষয়টি আমার সময়ে হয়নি বিধায় আমি জানতাম না। আমি বিষয়টি নিয়ে ভাতা কমিটির সাথে কথা বলবো যাতে এই মহিলার ভাতা বন্ধ হয়। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, আমি এই বিষয়ে লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। আমি দ্রত তদন্তের মাধ্যমে এই মহিলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করবো।