| |

মদনে আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা আমন রোপনে ব্যস্ত

মদন  প্রতিনিধিঃ আকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার মদন উপজেলায় বোরো ধান ক্ষতির পর কৃষকরা ঘুরে দাড়ানোর লক্ষে ধীর গতিতে পানি নামার সাথে সাথেই অসময়ে রোপা আমন জমিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে অসময়ে ধীর গতিতে পানি নামায় এবার আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসী ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বোরো মৌসূমে এ উপজেলায় ২৩ হাজার ৯শ ৭৫ বোরো কৃষকের প্রায় ২শ কোটি টাকার ধান ক্ষতি হয়। অনেক কৃষক এক ছটাক ধানও ঘরে তুলতে পারেনি। ফলে বর্তমানে এলাকায় চরম অর্থ ও খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। কৃষকগণ পূর্ব পুরুষের পেশা কৃষি ধরে রাখার লক্ষ্যে এবং পরিবার পরিজনদেরকে ভরণ পোষন করার জন্য অসময় আশ্বিন মাসে দেনা ও দাদন করে আমন ধান রোপনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে পানি নামতে বিলম্ভ হওয়ায় কৃষকগণ খুবই দুশ্চিন্তায় রয়েছে এবং আমনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় আশংকা দেখা দিয়েছে। চলতি অর্থ বছরে মদন উপজেলার ৬ ইউনিয়নে স্থানীয় ও উফশি জাতের ৯হাজার ২শ হেক্টর রোপা আমন ধান চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হলেও রোপন করা হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৭শ ৫০ হেক্টর।

হাসনপুর গ্রামের আমন কৃষক আক্কাছ আলী, আসুক মিয়া, মঞ্জিল মিয়া, বাবুল চৌধুরী, রেন্টু চৌধুরী জানান, বোরো ধান বিনষ্ট হওয়ার পর সব হারিয়ে দেনা করে পরিবারে সদস্যদেরকে রক্ষা করার লক্ষ্যে অসময়ে আশ্বিন মাসে যে সব জমি থেকে পানি নামছে সে গুলো আমন রোপন শুরু করেছি। রোপা আমন ধান উৎপাদন না হলে বোরো আবাদে বাধা প্রাপ্ত হয়ে এ এলাকায় চরম অর্থ ও খাদ্য সংকটে পড়বে কৃষক পরিবারগুলো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ গোলাম রাসূল জানান, এবার বন্যার পানি নামতে বিলম্ব ঘটায় আমন চাষ ব্যাহত হচ্ছে। তবে পানি দ্রুত নেমে গেলে কৃষকগণ অসময়ে অনেক জমিতেই ধান রোপন করবেন। কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীগণ সব সময় জমিতে কৃষকদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম আকন্দ জানান, বোরো ধান ক্ষতির পর আমন ধান চাষ করার সম্ভাবনা না থাকায় এলাকার কৃষকদের মধ্যে চরম অর্থ ও খাদ্য সংকট দেখা দিবে। সরকার যুগপোযুগী ব্যবস্থা গ্রহন না করলে এই এলাকার বহু কৃষক ভূমিহীনে পরিণত হবে।