| |

ঝিনাইগাতী বন্যায় ৭টি ইউনিয়নে ১২শ হেক্টর আমন ফসল পানির নিচে : কৃষকের বোর-আমন ২টি ফসলই রাক্ষশী বন্যার কবলে পড়ে কৃষকরা ক্ষতি গ্রস্থ

ঝিনাইগাতী সংবাদদাতাঃ শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নে ১২শ হেক্টর আসন্ন আমন ফসল পানির নিচে । আগাম বন্যায় ইরি বোর ফসলের ১৫শ হেক্টর জমি পানির নিচে ছিল । কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল ৮৫ পার্সেন্ট মানুষ এই উপজেলায় বাস করে থাকে । বছরে ২টি ফসলের উপর নির্ভর করে কৃষকরা জীবন যাপন করে থাকেন । ইরি-বোর ও আসন্ন আমন ২টি ফসলই রাক্ষশী বন্যায় কেড়ে নিয়ে কৃষকের স্বপ্ন তছনচ করে দিয়েছে । উল্লেখ্য ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে মুহুর্তেই ঝিনাইগাতী সদর বাজারে আকশ্বিক বন্যায় প্লাবিত হয়ে বাড়ি ঘর পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যায় । উপজেলার ঝিনাইগাতী ইউনিয়ন,গৌওরিপুর ইউনিয়ন,ধানশাইল ইউনিয়ন, হাতিবান্ধা ও মালঝি কান্ধা সহ ৫টি ইউনিয়নের গ্রাম গুলোতে বন্যার পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানিতে বন্ধি হয়ে পড়ে । শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলায় গত কয়েক দিনের প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে উজান থেকে বয়ে আশা পানিতে শনিবার ভোর থেকে মহারশি নদী পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। ফলে রামেড়কুড়া মহারশি নদীর পুরাতন ভেঙ্গে থাকা বাধ দিয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করে ঝিনাইগাতীর তামাগাও,গরুহাটি, মসজিদরোড,ধানহাটি,মেইনরোড,উপজেলা পরিষদ সহ সাবরেজিষ্টার অফিস,পোষ্ট অফিস, পশুহাসপাতাল,ঝিনাইগাতী হাসপাতালরোড, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স,নার্সারী বিভাগ,কৃষি অফিস,পল্লি দারিদ্র অফিস পাবলিক হল, ইউএনওর বাস ভবন, সদর বাজরের এমন কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নেই যে পানি প্রবেশ করেনি । প্রত্যেক দোকানে হাটু পানি প্রবেশ করে ব্যবসায়িদের মালামালের ক্ষতি সাধিত হয়েছে । ওই দিন বিকাল নাগাদ ঝিনাইগাতী বাজার থেকে বন্যার পানি নেমে নিন্ম অঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা এখন প্লাবিত হচ্ছে । সুড়িহারা,তেতুল তলা, বনগাঁও,চতল, কাংশা,দড়িকালিনগর সারি কালিনগর, পাগলারমুখ, আয়নাপুর,বগাডবি সহ নি¤œ এলাকা প্লাবিত হয়ে কৃষকের রোপনকৃত আমন ও সবজি ফসলর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। বন্যার পানিতে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্ধী ও মৎস্য চাষীদের শতশত পুকুড়ের মাছ বন্যায় ভেসে গেছে। ভাটি এলাকায় পানিতে বন্ধি হয়ে অনেক পরিবার জীবন যাপন করছে । কৃষকের কষ্টে অর্জিত ইরি বোর ফসলও ভহাবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা শেরপুর জেলা প্রশাসক ড: মল্লিক আনোয়ার হোসেন নৌকা যোগে পরিদর্শন করেছেন । আসন্ন আমন ফসলের কৃষক মহির উদ্দিন জানায় আমাদের ভাগ্যে কি আছে জানিনা ২টি ফসলই আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে । প্রবল বষর্ণের ফলে আবাদে পঁচন রোগ ধরেছে । দির্ঘ দিন ক্ষেতে পানি থাকায় এ পঁচন রোগের লক্ষন দেখা দিয়েছে আবার বন্যায় ধান গাছে থোর ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে । ঝিনাইগাতী কৃষি সম্প্রসারন অফিস সূত্রে গতকাল মঙ্গলবার জানা গেছে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১২শ হেক্টর জমি বন্যার পানির নিচে রয়েছে । বন্যা কবলিত এলাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা করিম সহ সরকারী কর্মকর্তাগণ পরিদর্শন করছেন ।