| |

হালুয়াঘাট পৌরসভা নির্বাচন জমজমাট গনসংযোগ দলীয় কোন্দল প্রার্থীর ছড়াছড়ি

হুমায়ুন কবীর মানিক ॥ ময়মনসিংহ জেলার সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার, হালুয়াঘাট পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের জমজমাট গনসংযোগ প্রচার প্রাপরনায় এলাকা মুখরিত হতে শুরু করেছে। সেই সাথে বড় দুই দলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দলীয় কোন্দল গ্র“পিং লবিং যা ক্রমশ প্রকাশ পাচ্ছে ভিতরে ও বাইরে। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগে প্রকাশ্য দলীয় কোন্দল না থাকলেও ভিতরে মত পার্থক্য অত্যন্ত তীব্র এবং জটিল, তারপরও আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাধারন সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা কবিরুল ইসলাম বেগ ও প্রিন্সিপাল আ: রশিদ সাফ জানিয়ে দিলেন দলের প্রার্থী হবেন একজন বিদ্রোহী কেও হলে কঠোর ব্যবস্থা। অন্যদিকে বি.এন.পির অভ্যন্তরিন কোন্দল এখন চরমে তারপরও আলাপ আলোচনার মাধ্যমে প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে মতামত ব্যাক্ত করেন স্থানীয় বি.এন.পির যুগ্ন আহবায়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আলী আজগর ও উমর ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব সালমান ওমর রুবেল। দুই দলের শীর্ষ প্রার্থী তালিকায় রয়েছে আওয়ামীলীগ মোর্শেদ আনোয়ার খোকন, যুগ্ন সম্পাদক আওয়ামীলীগ, খায়রুল আলম ভুইয়া যুগ্ন সম্পাদক আওয়ামীলীগ, আ: মোতালেব সাধারন সম্পাদক যুবলীগ, নাজিমুদ্দিন আহাম্মদ সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি যুবলীগ, বি.এন.পির প্রার্থী হিসাবে নাদিম আহাম্মেদ, যুগ্ন আহবায়ক বি.এন.পি. হানিফ মো: সাকের উল্লা, আসলাম মিয়া বাবুল, যুগ্ন আহবায়ক, অধ্যাপক আমজাদ আলী, ডা: ইমাম উদ্দিন আহমেদ, জহির উদ্দিন বাবু, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আ: হামিদ, পাঠাগার সভাপতি রেজাউল করিম ও সিদ্দিক মোল্লা। জাতীয়পার্টির থেকে এখনো কোন প্রার্থী না থাকলেও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলের মুখপাত্র জাহিদ হাসান পাপ্পু। দলের বাইরে শক্তিশালী সতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন দুইজন একজন পৌর এলাকার হালুয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সালেহ আহম্মেদ অপরজন হিন্দু কমিউনিটির সভাপতি প্রশান্ত কুমার সাহা (পন্তু বাবু) ।
বড় দুই দলের এবং সতন্ত্র প্রার্থীদের দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জমজমাট গনসংযোগ প্রচার প্রচারনায় মুখরিত করে তুললেও আদৌ নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন, সংশয়। ২০১৪ সালের ২০শে জানুয়ারী হালুয়াঘাট পৌরসভা যাত্রা শুরু করলেও নানা জটিলতার কারনে নির্বাচন হচ্ছে বাধাগ্রস্থ তবে সম্প্রতি সময়ে নির্বাচন কমিশন নড়ে চড়ে বসার কারনে যে সকল পৌরসভার এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়নি দ্রুত তা তালিকা করে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন ফলে ডিসেম্বর জানুয়ারীতে নির্বাচন হতে পারে হালুয়াঘাট পৌরসভার। হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বললে মো: জাকির হোসেন জানান, নির্বাচন বিষয়টি নির্ভর করে নির্বাচন কমিশনের উপর তবে আশার কথা হলো এবছর ডিসেম্বর টু জানুয়ারী নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা, সীমানা নির্ধারন করে দিয়েছি। বাকি কাজ সময়ের ব্যাপার মাত্র। নির্বাচন যদি হয়েই যায় তা হলে কে হবেন ৯টি ওয়ার্ডের ১৪০৫৪ (চৌদ্দ হাজার চুয়ান্ন ) জন ভোটারের পছন্দের এবং ইতিহাসের প্রথম নগর পিতা। আওয়ামীলীগের প্রার্থী তরুন মেধাবী, সৎ, কলঙ্কমুক্ত সাবেক ছাত্রনেতা খায়রুল আলম ভুইয়া বলেন, হালুয়াঘাট পৌরসভা বাস্তবায়নে প্রয়াত সমাজ কল্যান প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট প্রমোদ মানকিনের নির্দেশনায় আমার শ্রম, মেধা. ঘাম ঝরানো কর্মকান্ড এবং বর্তমানে হালুয়াঘাট পৌরসভার উন্নয়নে মনোনীত কাউন্সিলর হিসাবে দিনরাত পরিশ্রমের ফসল হিসাবে দলের মনোনয়ন পেলে জনগনের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন। যুবলীগের প্রার্থী, অত্যন্ত পরিশ্রমী, অতি সাধারন গরীবের বন্ধু হিসাবে পরিচিত মো: আ: মোতালেব। তিনি বলেন, আমি গরীবের সন্তান হিসাবে আমার গোত্রীয় প্রায় দুই হাজার ভোট ব্যাংক রয়েছে যা অন্য কোন প্রার্থীর নেই তাছাড়া এলাকায় সকল শ্রেনী পেশার মানুয়ের সাথে রয়েছে আমার নিবির সম্পর্ক, আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দিয়ে হালুয়াঘাটের আসন বিজয়ী হিসাবে ইতিহাসে নাম লেখাতে সক্ষম হবে। আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক, মেধাবান, ভদ্র, বিস্বস্থ আওয়ামী পরিবারের সন্তান মোর্শেদ আনোয়ার খোকন বলেন, দল চাইলে ভোটারদের মন জয় করে পৌরবাসীর বিস্বস্থ নগরপিতা হিসাবে নাম লেখাতে চাই। বি.এন.পির প্রার্থী হিসাবে শীর্ষে রয়েছেন হালুয়াঘাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি, তরুন মেধাবী, পরিশ্রমী নাদিম আহম্মেদ। তিনি বলেন, পৌরসভার মানুষের জন্য পানীয় জলের ব্যবস্থা, ডেনেজ ব্যবস্থা সহ নানা উন্নয়নে আমার অংশ গ্রহন কারো অজানা নয়। আমার সমিতির প্রায় দুই হাজার ভোটারের সাথে সুসম্পর্ক এবং অত্র এলাকার স্থায়ী বাসিন্ধা হিসাবে আমার জনমতের ভিত্তিতে দল মনোনয়ন দিলে অবশ্ব্যই জয়ী হবো বলে তার মত ব্যাক্ত করেন। বি.এন.পির প্রার্থী সাবেক পৌর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আ: হামিদ বলেন, জনগন আমার একমাত্র সহায় গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৯ ভোটে পরাজিত হওয়ার কারনে ভোটাররা আমার প্রতি সহানুভূতিশীল, বেশ কয়েকটি নির্বাচনে আমি নি:স্ব হয়ে পড়েছি দল এবং জনগন যদি দয়া করে আমার পাশে থাকে ইনশাল্লাহ বিজয় সুনিশ্চিত। তবে অনেকের মতে হামিদ চেয়ারম্যান সতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। বড় দুই দলের বিরোদ্ধে শক্তিশালী প্রার্থী হিসাবে নাম রয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সভাপতি প্রশান্ত কুমার সাহা‘র হালুয়াঘাট শহিদ স্মৃতি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, উদায়ন সঙ্গের প্রতিষ্ঠিাতা, সাবেক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি, স্বনামধন্য রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান, সুপরিচিত, সৎ, নিষ্ঠাবান, এলাকার জনগন এবং সুধিমহলে রয়েছে তার গ্রহন যোগ্যতা । তিনি বলেন, এলাকার জনগন এবং বিশেষ করে আমার প্রায় আরাই হাজার ভোটার হিন্দু ভায়েরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে আমাকে সহযোগিতা করলে নগর পিতা হিসাবে নাম লেখাতে চাই ইতিহাসের পাতায় অপর দিকে শক্তিশালী সতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন যাকে নিয়ে সকলে হিসাব কষছেন সকল মহলে যার সুসম্পর্ক ১৫বছর যাবৎ যিনি পৌর এলাকা হালুয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান তিনি হচ্ছেন আলোচিত সালেহ আহাম্মেদ। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত জনগনের সেবা করছি, আচার বিচার, আপদ বিপদ, জন্ম মৃত্যু, এলাকার উন্নয়ন সকল কাজে মানুষের পাশে অবিচল আমি কারো ক্ষতি করিনা, থানার দালালী করিনা, মামলা মোকদ্দমা বিচার আচারের মাধ্যমে সমাধান করে থাকি। আমি মানুষের ১৫বছরের পরিক্ষিত সেবক, তাই হালুয়াঘাটে পৌরসভার সকলের বিস্বস্থ নগরপিতা হিসাবে জনগন আমাকে দেখতে চায়। অভিজ্ঞ মহলের মতে হালুয়াঘাট পৌরসভার নির্বাচনে কে হবেন নগর পিতা বা পৌর চেয়ারম্যান তা সময়ই বলে দেবে তবে বড় দুই দলে একাধীক প্রার্থী হলে দুই দলের মধ্যে বিজয়ী হওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য । অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের মতে, এক্ষেত্রে লাভবান হতে পারে সতন্ত্র প্রার্থীগন সে কারনে বড় দুই দলের সতর্ক থাকতে হবে। পৌর এলাকার ভোটারদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, আমরা চাই একজন যোগ্য প্রার্থী, সৎ মানুষ, কর্মঠ, ভাল মানুষ যার মাধ্যমে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন হবে । মানুষের কল্যান হবে। মাদক ও নেশা মুক্ত যুব সমাজ গঠিত হবে। সন্ত্রাস মুক্ত, আধুনিক হালুয়াঘাট পৌরসভা গঠন হবে। পরিচ্ছন্ন বাজার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সহ মানুষের আস্থার কেন্দ্র বিন্দু হউক, আমাদের নগর পিতা এমন প্রত্যাশায় নির্বাচনের আশায় দিন গুনছে হালুয়াঘাট পৌরবাসী।