| |

ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলীয় স্বার্থের কারণে জাতীয় উন্নয়ন যেন ব্যাহত না হয় -রাষ্ট্রপতি

নজরুল ইসলাম খায়রুল : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, উন্নয়নের জন্য স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। পক্ষান্তরে অস্থিতিশীলতা উন্নয়নকে করে বাধাগ্রস্ত। গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থাকবে, মতাদর্শের পার্থক্য থাকবে-এটাই স্বাভাবিক, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলীয় স্বার্থের কারণে জাতীয় উন্নয়ন যেন ব্যাহত না হয় সেদিকে সকলকে খেয়াল রাখতে হবে ।
গতকাল সোমবার বিকেলে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে বাজিতপুর কলেজের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দুর্নীতি সমাজের এক অভিশাপ। জনসংখ্যার একটা ক্ষুদ্র অংশের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ বিড়ম্বনার সম্মুখীন হবে এটা হতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নসহ সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্খা পূরণে সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে দুর্নীতি দূর করতে হবে। দুর্নীতিকে মনে প্রাণে ঘৃণা করতে হবে উল্লেখ করেন তিনি বলেন, এজন্যে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে। কারণ তারাই একবিংশ শতাব্দীর প্রতিনিধিত্ব করছে।

কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন-কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রপতির জ্যৈষ্ঠ ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য এমপি মঞ্জুর আহমেদ বাচ্চু মিয়া, উপজেলা চেয়ারম্যান ছারোয়ার আলম, উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম আহবায়ক মিজবাহ উদ্দিন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শেখ নূরন্নবী বাদল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল মুনসুর বাদল, কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল, ঢাকা মহানগর উত্তর আ’লীগ নেতা আজিজুল হক রানা, কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আ.কা.ম গোলাম মোস্তফা, কলেজের দাতা সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

রাষ্ট্রপতি এলাকার উন্নয়নে সব সময় পাশে থাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, যে সকল এমপিরা উন্নয়ন কাজে এগিয়ে আসবেন, তিনি তাদেরকে সব সময় সহযোগিতা দিবেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন করেন।

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বাজিতপুর উপজেলার সরারচরে হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। সেখান থেকে গাড়িযোগে বাজিতপুর কলেজে যান রাষ্ট্রপতি। এ সময় তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
বাজিতপুর থেকে ফিরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সন্ধ্যা ৭টায় সার্কিট হাউসে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে মত বিনিময় করেন।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সড়কপথে তিনি কটিয়াদীতে যাবেন। দুপুরে কটিয়াদীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামফলক উদ্বোধন করবেন তিনি। বিকাল ৩টায় কটিয়াদী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের হিরক জয়ন্তী (৭৫ বছর পূর্তি) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করবেন।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি কিশোরগঞ্জে ফিরে যাবেন। সন্ধ্যর পর সার্কিট হাউসে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী, সাংবাদিক ও উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে মত বিনিময় করবেন তিনি। জেলা শহরের খরমপট্টির নিজ বাসায় রাত্রিযাপন শেষে পরদিন বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় তার ঢাকায় ফেরার কথা সফরসুচিতে রয়েছে।