| |

মাকে পিটানো ২ ছেলেই ইঞ্জিনিয়ার!

সৌমিন খেলন : ভাইবোনকে বঞ্চিত করে পৈতৃক সম্পত্তি অবৈধ পন্থায় নিজের নামে লিখে নিতে সহায়তা না পেয়ে ইঞ্জিনিয়ার ২ ছেলে দফায় দফায় তাদের মাকে পিটিয়েছেন! রোববার (০৮ অক্টোবর) বিকেলে ছেলেদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনে নেত্রকোনা সদরের চল্লিশাতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন মোসাম্মৎ মাজেদা বেগম (৬৫)। তিনি পূর্বধলা উপজেলার বিশকাকুনী ইউনিয়নের ভটপুর গ্রামের হাজী মো নূরুল হকের স্ত্রী। ছেলেদের হাতে বেধড়ক মারপিটের শিকার হয়ে প্রাণে বাঁচতে তিনি ০৮ সেপ্টেম্বর, স্বামী বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছেন।
পরে নেত্রকোনা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের কার্লি গ্রামে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। মাজেদা ওই গ্রামের মৃত কাজী আব্দুল হাদির মেয়ে। সংবাদ সম্মেলনের মাজেদার লিখিত অভিযোগপত্রে তিনি জানান, সংসার জীবনে তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান। সবাইকে তিনি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন কিন্তু ২ ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ করতে পারেননি। সন্তানদের মধ্যে প্রথম ছেলে আমিনুল হক শাহীন পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লি. (পিজিসিবি) ইঞ্জিনিয়ার ও তৃতীয় ছেলে এনামুল হক তুহিন সেও মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। ওই ২ ছেলেই শারীরিক ও মানসিকভাবে তাকে নির্যাতন করে আসছেন দীর্ঘদিন। ছেলে শাহিন ও তুহিন, বাবার সম্পত্তি ফসলি জমি অবৈধ পন্থায় সবকিছু নিজেদের নামে লিখে নিতে চাচ্ছে। এক ভাই এক বোনকে পৈতৃক সম্পত্তি ফসলি জমি থেকে বঞ্চিত করবে ইচ্ছা শাহিন ও তুহিনের। তাদেরকে অসৎ ওই কাজে সহায়তা করা হয় না বলে
রমাজান ঈদে বাড়িতে বেড়াতে এসে শাহিন ২৮ আগস্ট, ২০১৭ রাতে তার মাকে মারপিট করেন। পরে ০১ সেপ্টেম্বর, সন্ধ্যায় কোরবানি ঈদে মারধর করে বাড়িতে থাকা ছেলে তুহিন। সন্তানদের লাথির আঘাতে মেরুদন্ডের হাড়ের সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সময় গলায় চেপে ধরা ও কিল ঘুষিতে গলাতেও দীর্ঘদিন সমস্যায় ধুঁকছেন মাজেদা। এরইমধ্যে চিকিৎসক জানিয়েছেন মাজেদার গলায় বাসা বেঁধেছে ক্যান্সার। আক্রান্ত হবার পর থেকেই দ্বিতীয় ছেলে নাজমুল হক মনিরের সহযোগিতায় ময়মনসিংহ চিকিৎসা নিচ্ছেন মাজেদা। তিনি দুই ছেলের অত্যাচারের মুখে প্রাণ বাঁচাতে নিজের স্বামীর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসে বাবা ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। স্বামী ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার সুযোগে ছেলেরা এমন করছে। নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার আশা জানিয়ে মাকে পিটানোর মতো ঘৃণ্য কাজের জন্য ছেলেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি। অভিযুক্ত দুই ছেলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।