| |

এবার জাগৃতি’র প্রকাশক দীপনকে কুপিয়ে হত্যা

রাজধানীতে ‘শুদ্ধস্বর’ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী আহমেদুর রশীদ টুটুলসহ ৩জনকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজ কার্যালয়ে খুন হয়েছেন জাগৃতি প্রকাশনীর কর্ণধার ফয়সাল আরেফিন দীপন। সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা তার কার্যালয়ে ঢুকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ-র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় সিআইডি’র ক্রাইম সিন ইউনিটের একটি দল ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ শেষে রহস্য উদঘাটনে বেশকিছু আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এনএনবিকে জানায়, গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় শাহবাগ থানাধীন আজিজ সুপার মার্কেটের ৩তলায় নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ফয়সাল আরেফিন দীপন। জাগৃতি প্রকাশনার ব্যবস্থাপক আলাউদ্দিন হাসপাতালে এনএনবিকে বলেন, বিকেল সাড়ে ৫টায় তিনি তার কর্মস্থল আজিজ সুপার মার্কেটের জাগৃতি প্রকাশনীতে যান। সেখানে গিয়ে ভেতর থেকে দরজায় অটোলক দেখে তা খুলে ভেতরে ঢুকতেই দেখেন মেঝেতে রক্তের ছোপ চোপ দাগ পাশেই দীপনের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। তখন দ্রুত তিনি বিষয়টি শাহবাগ থানায় জানান। খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীপনকে উদ্ধার করে সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় অস্ত্রোপচারের আগেই সন্ধ্যা ৬.৫০মিনিটে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তা তিনি জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, নিহত ফয়সাল আরেফিন দীপন ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও চিন্তাবিদ আবুল কাশেম ফজলুল হকের ছেলে। দীপন ছিলেন সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ‘মুক্তমনা’ ব্লগের লেখক ও বিজ্ঞান লেখক ব্লগার অভিজিৎ রায়ের লেখা ‘অবিশ্বাসের দর্শন’ বইয়ের প্রকাশক। এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবরে ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ শেষে হাসপাতালে এসে দীপনের রক্তাক্ত নিথর মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তার বাবা অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক। তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে এনএনবিকে বলেন, চেলে হত্যার বিচার কার কাছে চাইবো। কিসের বিচার হবে। বিচার চাইনা, এটা রাজনৈতিক। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন সাক্ষ্য ও তথ্য প্রমান না পেয়ে ছেলে হত্যার পেছনে আগাম কাকে দোষারোপ করবো। প্রয়োজন নেই। আগের যেসব ব্লগার খুন হয়েছে তার বিচার কার্যক্রম এখনো চলছে, শেষ তো আর হয়নি। এদিকে গতকাল রাতে এ রিপোর্ট লেখাপর্যন্ত শাহবাগ থানায় যোগাযোগ করা হলে ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে এনএনবিকে বলেন, প্রাথমিক তদন্তেগ্রƒর্ব পরিকল্পিতভাবে খুনিরা বিকেলের কোন একসময় জাগৃতি প্রকাশনী কার্যালয়ে ঢুকে ভেতর থেকে সবকিছু বন্ধ করে তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে লাশ রেখে পালিয়েছে। তবে ঘটনার রহস্য উদঘাটনসহ জড়িতদের ধরতে ইতিমধ্যেই পুলিশ কাজ শুরু করেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, এ ঘটনার মাত্র কয়েকঘন্টা আগে গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটায় সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ার সি ব্লকের ৮/১৩নম্বর বাড়ির ৪তলায় ‘শুদ্ধস্বর’ প্রকাশনী কার্যালয়ে ঢুকে প্রকাশক ও স্বত্বাধিকারী আহমেদুর রশদি টুটুলকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। এসময় ওই কার্যালয়ে থাকা দু’ব্লগার সুদীপ কুমার ওরফে রণদীপম বসু ও তারেক রহিম তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তাদেরও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। এ প্রকাশনী থেকে প্রয়াত ব্লগার অভিজিৎ রায়ের লেখা শূন্যে থেকে মহাবিশ্ব, সমকামিতা ও ভালবাসা কারে কয় বই প্রকাশ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ তারেক রহিমের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানায় পুলিশ ও চিকিৎসক।
গত ফেব্র“য়ারিতে টিএসসিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত বিজ্ঞান লেখক অভিজিত রায়ের ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ বইটি প্রকাশ করেছিল জাগৃতি প্রকাশনী।
বিচার চান না দীপনের বাবা
অভিজিতের বইয়ের প্রকাশক জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ফয়সল আরেফীন দীপনের হত্যার বিচার চান না তার বাবা অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক।
‘বিচার চাই না। বিচারে কী হবে। বিষয়টা রাজনৈতিক,’ হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এভাবেই নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে যে ব্লগারদের হত্যা করা হয়, সেইসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই হত্যার কোনো যোগসূত্র আছে কিনা এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক আরও বলেন, ‘সেগুলোর সঙ্গে এটার সম্পর্ক কেউ কেউ বলতে পারেন। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া তা বলা যায় না।’