| |

প্রবেশপথে কুকুর, বিছানায় বিড়াল, এভাবেই চলছে দুর্গাপুর হাসপাতাল

জামাল তালুকদার : দুর্গাপুর উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির প্রবেশপথেই বসে থাকে কুকুর। কৌতুহল বশত: ভেতরে প্রবেশ করইে দেখা গেল রোগীর বিছানায় বিড়াল ঘুমাচ্ছে এটি এ কমপ্লেক্সের নতুন কিছু নয় নিত্য দিনের ঘটনা। সিসি টিভির আওয়তাধীন থাকার পরেও কর্তৃপক্ষের নজরে আসছে না হাসপাতালের অরিচ্ছন্নতার বিষয়টি। এ বিষয়গুলো নিয়ে পূর্বেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। নির্মাণের লম্বা সময় পেরিয়ে গেলেও হাসপাতালের প্রধান ফটকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নামটি আজো লিখা হয়নি। জনমনে প্রশ্ন আসলে তোরণটি কার ? তাছাড়াও দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম অব্যবস্থাপনার কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার আকুতি জানিয়েও কোন পরিবর্তন না হওয়ায় জনসাধারণের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি শুরুতে ৩১শয্যা বিশিষ্ট হলেও জনগনের চাহিদা প্রেক্ষিতে তা বাড়িয়ে বর্তমানে ৫০শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু জনবল সংকট সহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরের অবস্থা খুব অসহনীয়। প্রতিদিন দূর দূরান্ত এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা অসংখ্য রোগী নানা অব্যবস্থা ও চিকিৎসক সংকটে পড়ে চরম প্রায় ২লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি মোটেই উপযোগী নয়। দূর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার, নার্স ও স্টাফ সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের ঠিকমতো উন্নত চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। স্বল্প সংখ্যক ডাক্তারের মধ্যে আবার অনেকেই কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারনে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। অনেকে আবার ডাক্তার না পেয়ে হাতুরে ডাক্তার ও গ্রাম্য কবিরাজদের দারস্থ্য হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। অনেক অসহায়, গরীব রোগীকে স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে ধার-কর্য ও সহায় সম্পদ বিক্রি করে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা কোন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। চিকিৎসা সেবার নামে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে গিয়ে নানা টেষ্ট করাতেও বাধ্য হন। আর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসাতালে রেফার্ড করা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। এ অঞ্চলের একমাত্র যোগাযোগের বিরিশিরি-শ্যামগঞ্জ সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় জীবন বাঁচানোর জন্য পার্শ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলা ও জেলা সদর হয়ে সকালে রওনা দিয়ে বিকেলে ময়মনসিংহে পৌছতে হয়। হাসপাতালের সামনে দাড়ানো মাইক্রোবাসগুলো দিয়ে রোগী বহন করতে হলে রোগীর স্বজনদেরকে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা গুনতে হয়। অনেক অসহায় হত দরিদ্র রোগীদের প্রায়ই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেই হাউ মাউ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তে দেখা যায়। চাঁদা তুলেও অনেক রোগীকে সহায়তা করতে দেখা যায়। এ কমপ্লেক্সে একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও অধিকাংশ সময় বিকল হয়ে পড়ার কারণে রোগীরা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কুকুর বিড়ালের উপদ্রব সর্ম্পকে জানতে চাইলে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ আনোয়ারুল আমিন আখন্দ বলেন আমি বিষয়টি দেখছি।