| |

আটপাড়া হাসপাতালে বেহাল দশা

আটপাড়া প্রতিনিধি : নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া হাসপাতালের ডাক্তার ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। হাসপাতালের ভিতর ও বাহিরের অবস্থা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা সুস্থ্যতার পরিবর্তে অসুস্থ্য হওয়ার আশংকাই বেশি।
অফিস সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে ডাক্তারের পদ সংখ্যা ১৭টি। বর্তমানে কর্মরত আছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ ৩ জন। বাকী ১৪টি ডাক্তারে পদ শূণ্য রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ ডাক্তার সংকটের কারণে হাসপাতালের ওয়ার্ড ও বর্হি বিভাগে রোগীরা প্রতিনিয়তই চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এছাড়া হাসপাতালে বরাদ্দকৃত এ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় ১০ বৎসর যাব নষ্ট হয়ে আছে। এতে মুমুর্ষ রোগী, গর্ভবর্তী মা ও শিশুদের জরুরী চিকিৎসার জন্য নেত্রকোণা সদর থেকে বেশী মূল্যে রোগী বহনকারী যানবাহন ভাড়া করতে হয়। এছাড়া হাসপাতালের একমাত্র এক্স-রে মেশিনটিও দীর্ঘদিন যাবৎ নষ্ট হয়ে আছে। এ্যাম্বুলেন্স ও এক্স-রে মেশিনটি অকেজো থাকায় দরিদ্র রোগীরা মারাত্মক ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন।
মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডের ভোক্তভোগী ১১নং বেডের রাসু আক্তার, ১২নং বেডের শেফালী আক্তার, ১৭নং বেডের ইঞ্চিল খাঁ ও ৩১নং বেডের আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন ওয়ার্ডের অধিকাংশ বেড ব্যবহারের অযোগ্য। রোগীদের ব্যবহারের জন্য বিছানার চাদর গুলি ছেঁড়া ও ময়লাযুক্ত এবং চাদর গুলো বিগত এক মাস যাবৎ ধৌত করা হয়নি। ওয়ার্ডে রোগীর তুলনায় পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক ফ্যান ও বাতির ব্যবস্থা নাই। যে কয়টি ফ্যান রয়েছে তার বেশি সংখ্যক অকেজো এতে প্রচন্ড গরমে তারা ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন। ওয়ার্ড গুলির টয়লেটের অবস্থা নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। মহিলা ওয়ার্ডের টয়লেটে দীর্ঘ দিন ধরে বাতি না থাকায় রাতের বেলায় রোগীরা টয়লেট ব্যবহারে বিপাকে পড়ছেন। ওয়ার্ড গুলির মেঝ, ছাদ ও দেয়াল অপরিচ্ছন্ন। জরুরীর চিকিৎসার প্রয়োজনে কর্তব্যরত নার্সদের প্রায়ই বাসা থেকে ডেকে আনতে হয়, এতে নার্সরা বিরক্তবোধ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে থাকেন। উল্লেখ্য যে, গত কিছুদিন পূর্বে রোগী ও রোগীর স্বজনের সাথে অসদাচরণের জন্য এক নার্সের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের নিকট লিখিত অভিযোগ হয়েছে।
অপর দিকে জরুরী বিভাগে সেবা নিতে আসা রোগীরা বিভিন্ন প্রকার হয়রানির স্বীকার হয়ে থাকেন। জরুরী বিভাগে সেবা গ্রহণকারী রোগী হামিদুর রহমানের অভিযোগে জানা যায়, জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ প্রতিনিয়তই দরিদ্র রোগীদের নিকট থেকে সেলাই, বেন্ডেজের খরচ বাবদ উৎকোচ নিয়ে থাকেন। জরুরী বিভাগে চিকিৎসকগণ ফার্মেসী মালিকদের বিক্রয় বৃদ্ধি ও নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে অপ্রয়োজনীয় নামে-বেনামে কোম্পানীর বেশী মূল্যের ঔষধ লিখে থাকেন এবং ঔষধ ক্রয়ের জন্য নির্দিষ্ট ফার্মেসীর নাম বলে দেন। আরও জানা যায়, হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের জন্য ভাঙ্গা বেড থাকলেও ব্যবহারের উপযোগী নতুন বেড গুলি হাসপাতালের বিভিন্ন স্টাফরা ব্যক্তিগত ভাবে কোয়ার্টারে ব্যবহার করে আসছেন। সার্বিক বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: শরীফ আহম্মদের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, অচিরেই ডাক্তারের শূণ্য পদ পূরণসহ, এ্যাম্বুলেন্স ও এক্স-রে মেশিনটি মেরামতের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পত্র প্রেরণ করবেন।