| |

গৌরীপুরে শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ

গৌরীপুর  সংবাদদাতা ॥  ময়মনসিংহের গৌরীপুর রোববার (২২অক্টোবর) গৌরীপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর গোপাল চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে এবং এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগে কতিপয় কোচিং সেন্টারের বিপক্ষে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও লিখিত অভিযোগ দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, গত বুধবার দুপুরে গোপাল চন্দ্র সাহা স্কুলের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করাচ্ছিলেন। পাঠদান কক্ষে দেরী করে প্রবেশ করার কারণে শিক্ষার্থী আবু সাইদ খান, মোঃ ইয়াছিন ও এম.এ. মামুনকে মারধর করে বলে অভিযোগ উঠে গোপাল চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে। এরপর মারধরের শিকার তিন শিক্ষার্থী ওই দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা আক্তারের কাছে গোপাল চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়। এদিকে গোপাল চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট পাল্টা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে একই প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি ওই প্রতিষ্ঠানের কতিপয় অনিয়মিত ছাত্র স্থানীয় কোচিং সেন্টারের শিক্ষকদের ইন্ধনে গোপাল চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তারা এই ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূল শাস্তির দাবি জানায়।
তবে মারধরের শিকার তিন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষে দেরী আসার বিষয়টা ছিলো গোপাল স্যারের অজুহাত। মূলত প্রাইভেট না পড়ার কারণে গোপাল স্যার আমাদের মারধর করেছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই। এবং শিক্ষকদের প্রাইভেট বাণিজ্য বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোপাল চন্দ্র সাহা বলেন, শ্রেণীকক্ষে দেরীতে আসার কারণে আমি তিন শিক্ষার্থীকে শাসন করেছি। তবে মারধরের অভিযোগ সত্য নয়। তিনি আরো বলেন, কিছু শিক্ষার্থী স্থানীয় স্মার্ট ভেল্যু কোচিং সেন্টারে যাওয়ার কারণে শ্রেনিকক্ষে অনিয়মিত হয়ে পড়ছিলো। আমি কোচিং সেন্টারের বিরোধিতা করার কারণে ওই কোচিং সেন্টারের পরিচালক অশোক কুমার সরকারের ইন্ধনে তিন শিক্ষার্থী আমার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তোলে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অশোক কুমার সুমন বলেন, আমার কোচিংয়ে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ১১৩ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। তবে আমি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো শিক্ষার্থীকে ইন্ধন দেইনি। আমারর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা আক্তার বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র তিনটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্ত করতে মাধ্যমিক শিক্ষা সাইফুল আলমকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।