| |

গৌরীপুর রেলজংশনে রেললাইন সংস্কারে পুরাতন স্লিপার-রেল ব্যবহৃত হচ্ছে

গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের সমস্যা নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভন্ন পত্রিকায় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষিতে রেললাইন ও স্টেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের বরাদ্দকৃত কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে চলছে লুটপাট। রেলওয়ে ভবন সংস্কার, গণশৌচাগার নির্মাণ, যাত্রীদের বিশ্রামাগার সংস্কার ও মেরামত, প্লাটফরম উন্নয়ন কাজের নামে দফায় দফায় সরকারের বরাদ্দ টাকা লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ করেছেন গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ফকির।
বিভন্ন প্রকল্প যেনতেনভাবে বাস্তবায়নের পর চলছে ৪নং ও ৫নং রেললাইন সংস্কারের কাজ। সরজমিনে দেখা যায়, নির্মাণ কাজ ব্যবহৃত হচ্ছে পুরাতন রেললাইন। কাঠের অধিকাংশ স্লিপার ঘুনে ধরা, পচা ও নষ্ট। এসব পুরাতন নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার নিয়ে এলাকাবাসীও ক্ষুব্দ। স্টেশন মাস্টার মোঃ তারেক জানান, আপনারা পত্রিকায় লিখেছেন ও আমি উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে লাইন মেরামতের জন্য একাধিকবার পত্র দিয়েছি। লাইন মেরামত হচ্ছে, কিভাবে হচ্ছে এটা আমার দেখার বিষয় নয়। নির্মানাধীন প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী, প্রকল্পের বরাদ্দ, কাজের ধরণ, সময়সীমা ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ড ঝুলানোর বিধানও মানা হয়নি। প্রকল্পের বরাদ্দ কতো তা বলতে পারবো না স্বীকার করে কাজের তদারিক কর্মকর্তা সুপারভাইজার মোঃ আলা উদ্দিন জানান, এসব পুরাতন রেললাইন শ্যামগঞ্জ ও ভুয়াপুর থেকে স্লিপার আনা হয়েছে। অপর একটি সূত্র জানায়, বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৩কোটি টাকা। রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগের ময়মনসিংহের কেওয়াটখালীর উর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী গাজী মোফাজ্জল হোসেন মুঠোফোনে বলেন, এ নির্মাণ কাজ নিজস্ব তদারকিতে হচ্ছে।
গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আব্দুল মতিন মাস্টার বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবত রিমডেল স্টেশনে উন্নিত করার জন্য আন্দোলন করে আসছি। অথচ একটি দুষ্টচক্র রেলওয়ে সংস্কার ও মেরামতের নামে প্রতিবছর লুটপাট করছে। এ লুটপাট বন্ধের আশংকায় বারবার রিমডেল স্টেশন প্রকল্পটি বাঁধাগ্রস্থ করছে।
গৌরীপুর জংশন স্টেশনে দু’বছরে অপরিকল্পিতভাবে যাত্রীদের পানি সরবরাহ বিহীন গণশৌচাগার নির্মাণ, যাত্রী বিশ্রামাগার আর দেয়ালে চুনকাম করে ৩দফায় প্রায় ৪ কোটি টাকা একটি চক্র লুট করে নিয়েছে। রেলওয়ে জংশনে ফ্লাটফরম সংস্কারে সঠিকভাবে রড না দেয়া এবং পাথরের বদলে ইটের কংক্রিট দিয়ে ঢালাই করায় বছর না যেতেই ভেঙ্গে যাচ্ছে। এ প্রকল্পে বরাদ্ধ ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা, যার অধিকাংশই লুটপাট হয়েছে।