| |

ফুলবাড়ীয়ায় নদী থেকে সেজাদের মৃতদেহ উদ্ধার

ফুলবাড়িয়া ব্যুরো অফিস : ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার শিবগঞ্জ বাজারে কলমদারী নদীতে ডুবে যাওয়ার ২২ঘন্টা পর গতকাল সোমবার দুপুর ১টার দিকে শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। শিশুর নাম সেজাদ (৭)। রবিবার বিকাল ৩টার দিকে বাসার কাছ বয়ে যাওয়া কলমদারী নদীর পাড় থেকে নিখোঁজ হয় সে। ঘটনাটি স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে জানালে তারা দায়সারা অভিযান শেষ করে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হযরত আলী একজন কাপর ব্যবসায়ী। একই ইউনিয়নের বৈলাজান গ্রামে তার বাড়ী। শিবগঞ্জ বাজারে ভাড়া বাসায় থাকে সে। তার ২টি ছেলে সন্তান। বড় সন্তান সেজাদ। ছোট ছেলের বয়স ২মাস। বড় ছেলে জন্মের পর হতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি। বাসার কাছ দিয়ে কলমদারী নদী বয়ে গেছে। সে কখনো একা নদীতে যায় না। রবিবার বিকাল ৩টার দিকে বাসার গেইটের বাইরে সর্বশেষ জেঠা হাফিজুল ইসলাম স্বপনের সাথে কথা হয়। গোসল করে তার ভাত খাওয়ার কথা ছিল সেজাদের। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস জৈঠার সাথে ভাত খাওয়া হয়নি। হয়তবা সেখান থেকে বের হয়ে নদীতে চলে যায়। পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, নদীর পাড়ে সেজাদের এটি জুতো পড়া ছিল আরেকটি জুতা একটু দূরে পরা ছিল। কিন্তু সেজাদ কোথাও না পেয়ে বাবা-মা পাগল প্রায়। খবর দেয়া হয় থানায় ও ফায়ার সার্ভিসকে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীরা ৩০মিনিটের মধ্যে অভিযান সমাপ্ত করে চলে আসে। আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কথা হয় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার মো: নুরুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান স্থানীয়রা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি শিশুটি নদীতে পড়েছে। তারা কিছু আলামত বলেছে সেই হিসাবে তাদের সন্দেহের প্রেক্ষিতে ডুবুরী দল সার্চ করেছে। নৌকা ছিল না যার জন্য বেশি কাজ করা যায়নি। আজ সোমবার ডুবুরী দল জামালপুরের ইসলামপুরে চলে গেছে দিনের বেলায় ফিরলে আমি নিজে উপস্থিত থেকে সার্চ করাবো। যদি রাত হয়ে যায় তাহলে আগামীকাল মঙ্গলবার যেতে হবে।
যেহেতু নদীর তেমন গভীরতা এবং স্রোত নেই সেহেতু সরকারী বাহিনীর আশায় না থেকে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে তল্লাশিতে নামেন। তল্লাশির ১০মিনিটের মাথায় কামরুল ইসলাম (২৫) নামের এক যুবক সেজাদের নিথর দেহ নিয়ে পাড়ে উঠে আসেন। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে ঐ এলাকার বাতাস ভারী হয়ে যায়। হাজার হাজার মানুষ এক নজর দেখার জন্য ভীড় জমান বাড়ীতে। বাকরুদ্ধ হয়ে যান বাবা-মা।
আজ সোমবার বাদ আছর নিজ বাড়ীতে নামাজে জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ময়েজ উদ্দিন তরফদার জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তবে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল রাতের অন্ধকারে জীবনের ঝুকি নিয়ে তাদের সাধ্য অনুযায়ী খোজাখুজির চেষ্টা করেছে।