| |

বকশীগঞ্জে জাল সনদ ও ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাকুরীতে যোগদানের অভিযোগ!

বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি  : জামালপুরের বকশীগঞ্জে শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদ ব্যবহার ও মুক্তিযোদ্ধার ভূয়া সনদ ব্যবহার করে তিনজনের বিরুদ্ধে চাকুরীতে যোগদানের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে দফায় দফায় তদন্ত হলেও কোন সুরাহা হয়নি।
এ ঘটনায় পুনঃরায় তদন্ত করতে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় এলাকার সোলায়মান হক ।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার জন্য সহকারী শিক্ষক পদে বিজ্ঞপ্তি জারি করে সরকার। যথাযথ প্রক্রিয়ায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে এসব শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়া হয়।
এই নিয়োগে বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের রবিয়ারচর গ্রামের শহিদুর রহমান নামে এক মুক্তিযোদ্ধার ছেলে আশরাফুল আলম , ছেলের বউ নাসরিন বেগম ও আশরাফুল আলমের খালাত বোন শাপলা বেগম মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় যোগদান করেছেন।
এদের মধ্যে আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার ও নাসরিন বেগম এবং শাপলা বেগমের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার ভূয়া সনদ ব্যবহার করে চাকুরী নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাসরিন বেগম আশরাফুল আলমের স্ত্রী এবং শাপলা বেগম আশরাফুল আলমের খালাত বোন হলেও মুক্তিযোদ্ধার সনদে তিনজনই একই পিতার ঔরষজাত সন্তান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আশরাফুল আলম ও নাসরিন বেগম সম্পর্কে স্বামী স্ত্রী এবং শাপলা বেগম আশরাফুলের খালাত বোন হলেও ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ ব্যবহার করে নাসরিন বেগম ও শাপলা বেগমকে মুক্তিযোদ্ধা শহিদুর রহমানের কন্যা হিসেবে সনদ দাখিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল করারও অভিযোগ রয়েছে।
এই তিনজনই গত ১৮.০১.২০১৬ইং তারিখে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে আশরাফুল আলম মাদারের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে , নাসরিন বেগম টুপকার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও শাপলা বেগম কলকিহারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছে। এ ঘটনায় জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও বকশীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্ত করলেও অভিযুক্তদের পক্ষে সাফাই গেয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। ভূয়া জাল সনদ ও মুক্তিযোদ্ধার ভূয়া সনদ ব্যবহার করায় বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে গত ৪ অক্টোবর বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসান সিদ্দিক বরাবর ফের অভিযোগ দায়ের করেন মেরুরচর ইউনিয়নের সরদার পাড়া গ্রামের সোলায়মান হোসেন।
অভিযোগ দায়েরকারী মো. সোলায়মান হক বলেন, কম্পিউটারের মাধ্যমে পরীক্ষা হলেই
আশরাফুলের জাল সনদটি ধরা পড়বে। ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ ব্যবহার করে চাকুরী নিলেও তাদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা হচ্ছে না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে বকশীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আফতাব উদ্দিন আহমদ জানান, ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ দাখিল করে চাকুরীতে যোগদানের বিষয়টি সঠিক নয়।
জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল হক জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তদন্ত হয়েছে। ডিজি অফিস থেকে নিদের্শনা এলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু হাসান সিদ্দিক জানান , অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে । জাল সনদ ও ভূয়া মুক্তিযোদ্ধর সনদের অভিযোগ প্রমাণ হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।