| |

ফুলবাড়ীয়া থানা মসজিদসহ উন্নয়ন কাজে আমুল পরিবর্তন থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ কবিরুল ইসলামের যোগদানের ৬মাস

ফুলবাড়িয়া ব্যুরো অফিস : সব মানুষের মন এক রকম নয়। সবাই কাজ করে না, কেউ কেউ বেশি কথা বলে, কাজ করে কম। তবে ফুলবাড়ীয়া থানা অফিসার ইনচার্জ হিসাবে শেখ কবিরুল ইসলাম চলতি বছরের ৯ মে যোগদান করার পর থেকে থানা সংশ্লিষ্ট স্থানে আমুল পরিবর্তনের মিশনে নেমেছেন। ব্যক্তিগত চিন্তাদ্বারা, স্বচ্ছতা, আন্তরিকতা ও অনেক লোভ লালসা ত্যাগ করার মাধ্যমে অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিশেষ বিশেষ কাজে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখা যায়। তাদেরই একজন ফুলবাড়ীয়া থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ কবিরুল ইসলাম।
তিনি যোগদান করার পর বাস্তবায়নকৃত উল্লেখযোগ্য কাজগুলো হচ্ছে রান্নাঘরে টিনের ছাউনি ও মেরামত, ইন্সপেকশন রুমের টিনের ছাউনি মেরামত, টাইলস, গ্রীল লাগানো, রং করা, টিনসেড মটরবাইক গ্যারেজ নির্মাণ করা, আরসিসি ঢালাই দিয়ে খেলার মাঠ নির্মাণ, থানা কম্পাউন্ড সহ আশপাশ লাইটের ব্যবস্থা, কাঠের বেড়া নির্মাণ, ফুলের বাগান তৈরি, থানার মুল গেইটে রং করা, সাব ইন্সপেক্টরদের কোয়াটারে টিনের ছাউনি, মেরামত, থানার ভিতর অফিসার, ফোর্সদের গোসল খানা নির্মাণ, টয়লেট নির্মাণ, আরসিসি রাস্তা নির্মাণ, গোল ঘর সংস্কার, টাইলস লাগানো, থানা মসজিদের নিচ তলা ফ্লোর, দোতালার ফ্লোর এবং সিড়ি টাইলস, থানা জামে মসজিদের সিলিং ফ্যান সংযোজন, নিচ তলায় এসএস টাইপের গ্রীল ও থাই গ্লাস স্থাপন, থানা মসজিদের মিনারে টাইলস স্থাপন, থানা মসজিদে দর্শনীয় মেইন গেইট নির্মাণ, থানা মসজিদের ফুল বাগান তৈরি, থানা মসজিদের সাইড দেয়াল সহ গেইট নির্মাণ।
স্থানীয় মুসল্লীরা জানান ওসি সাহেব যোগদান করার ৩ দিন পর ১২ মে শুক্রবার থানা জামে-মসজিদে প্রথম জুম’আর নামাজের পর মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন হয়ে এই মসজিদ উন্নয়নের কথা বলে সকলের সহযোগিতা চেয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি মসজিদ উন্নয়নে কাজ শুরু করেন।
থানা জামে মসজিদ ১৮/০৬/১৯৯৬ইং তারিখে ওসি জহুরুল হক সাহেব ফুলবাড়ীয়া থানায় যোগদান করে হাফ বিল্ডিং মসজিদ ভবনটি ভেঙ্গে বহুতল মসজিদ নির্মাণ করে তিনি সকলের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছেন। এরপর ১৮জন ওসি ফুলবাড়ীয়াতে যোগদান করলেও মসজিদের তেমন কোন উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়নি। অবশেষে থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ কবিরুল ইসলাম আল্লাহর ঘর এ মসজিদ উন্নয়নেরক্ষেত্রে অবিস্মরনীয় দৃটান্ত স্থাপন করেছেন। মসজিদের সকল কাজ দ্রুত করে মানুষের মনও জয় করেছেন।
থানা অফিসার ইনচার্জ গৃহীত উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পর্কে দৈনিক স্বদেশ সংবাদ’র সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় শেখ কবিরুল ইসলাম বলেন, আমার মধ্যে সৌন্দর্যবোধ আছে তা বাস্তাবায়ন করার জন্য চেষ্টা করছি। পরিদর্শন কক্ষ ও কোয়ার্টারের ভিতরে সড়কের জন্য সরকারি কিছু বরাদ্দ পেয়েছিলাম, বাকী সকল কাজ এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজনের সহযোগিতা নিয়ে করেছি, আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। সকল কাজগুলো এমন পর্যায়ে নিয়ে সহযোগিতা চেয়েছি মানুষ যেন মনে করতে না পারে ওসি সাহেব টাকা নিয়ে খেয়ে ফেলবে, আগে আস্থা অর্জন করার জন্য কাজগুলো দৃশ্যমান করেছি এবং যাদের কাছে আমি সহযোগিতা চেয়েছি কেউ আমাকে না করেননি।
তিনি আরও বলেন, আমি এক সময় এ থানা থেকে চলে যাব; চলে যাওয়ার পর মানুষ যেন বলে ওসি সাহেব ভাল মানুষ ছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন জেলা পরিষদ সহ অন্যান্য সহযোগিতা পেলে মিনারের কাজটি শেষ করতে পারব ইনশাল্লাহ- এর জন্য সকলের দোয়া চাই।