| |

টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক এসআই আসাদুজ্জামান টিটু’র ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:  টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান টিটু সবাইকে সাথে নিয়ে আলোকিত সমাজ গড়ার ব্যতিক্রমী উদ্যোগে সকল শ্রেনির মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে নিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৬ সালের প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ ২০১৭ সালে বাংলাদেশ পুলিশ প্রধানের নিকট থেকে আইজি’জ ব্যাজ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ থেকে কিছু অর্থ দিয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়া এলাকার আব্দুল্লাহ (১২) নামের এক প্রতিবন্ধী শিশুকে হুইল চেয়ার কিনে সহযোগীতা করেন ওই পুলিশের কর্মকর্তা। কালের আবর্তে সম্পত্তির সাথে প্রভাব প্রতিপত্তি হারালেও আতœ সম্মানবোধ ছাড়া কিছুই নেই ‘চা’ ষ্টলের মালিক আব্দুল্লাহ’র পিতা জয়নালের। এক মেয়ে এক ছেলের মধ্যে প্রতিবন্ধী আব্দুল্লাহ ছোট।
আব্দুল্লাহ পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মার্চ মাসের দিকে পারিবারিক মনোমালিন্যের কারনে আব্দুল্লাহ’র মা রাহিমা আক্তার রুপা কাউকে কিছু না বলে গৃহত্যাগী হন। মা ছাড়া একমাত্র প্রতিবন্ধী সন্তানের দেখাশুনা অন্যদিকে আয়ের উৎস চায়ের ষ্টল টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছিল জয়নাল। এস আই আসাদুজ্জামান টিটু গোয়েন্দা শাখায় চাকরী করেন জেনে একটি অব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার দিয়ে জয়নাল তার স্ত্রীকে খুঁজে বের করে দিতে বলে, নইলে মা ছাড়া তার প্রতিবন্ধী শিশুকে বাঁচাতে পারবে না। প্রায় তিন মাস পর আব্দুল্লাহ’র মায়ের সন্ধান পাইয়ে দেয় তিনি। ঢাকার কোন একটা কিন্ডার গার্ডেনে চাকরী নিয়েছেন আব্দুল্লাহ’র মা। স্বামী ও একমাত্র প্রতিবন্ধী সন্তানের অনুরোধে জুন মাসের কাজের বেতন নিয়ে ফিরে আসে সে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ অফিসারের ব্যস্ততম চাকরী তারপরও মাঝে মধ্যে বিকালে ‘চা’ ষ্টলের সামনে আব্দুল্লাহকে পন্য ক্রয় বিক্রয়ের হিসাব নিকাশ এবং শারীরিক সক্ষমতা অর্জনে কিছু ব্যায়ামে অভ্যস্থ করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি একজন শিক্ষকও নিয়োগ করে দিয়েছেন আব্দুল্লাহকে অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন করার জন্য। আব্দুল্লাহ এখন জানে ৩০ টাকার পন্য নিয়ে কেউ ১০০ টাকা দিলে ক্রেতাকে ৭০ টাকা ফেরত দিতে হয়।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি কেবল শিশু আব্দল্লাহ নয় এমন আরো একাধিক প্রতিবন্ধী শিশু, অতি দরিদ্র, বার্ধক্য জনিত কারনে সমস্যাগ্রস্থ মানুষের খোঁজ-খবর নিয়ে থাকেন। শিক্ষা, চিকিৎসা, আর্থিক সক্ষমতা অর্জনে সহায়ক দিক নির্দেশনা, পরামর্শ এবং বিনোদনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তার ফেসবুকে দেয়া সামাজিক সচেতনতামূলক পোষ্টগুলো এ তথ্যই প্রমান করে।
পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়ার শহীদুল ইসলাম সোহেল বলেন, প্রায় দিন বিকালে ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান টিটু স্যার দোকানের সামনে এসে নিরক্ষর শারীরিক প্রতিবন্ধী ওই শিশুকে হাতে কলমে অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন করার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন। এমনকি নামমাত্র সম্মানীতে একজন শিক্ষকও রেখে দিয়েছেন। তিনি আশপাশের দরিদ্র মানুষের খোঁজ খবর নেন। এমনকি প্রতি শুক্রবারে একশ টাকা দিয়ে একজন লোক রেখে দিছে আব্দুল্লাহকে নিয়ে বেড়ানোর জন্য।
প্রতিবন্ধী শিশু আব্দুল্লাহ’র সাথে কথা বলে জানা যায়, আঙ্কেলকে (এসআই টিটু) টাঙ্গাইল থেকে চলে গেলে আমার কষ্ট হবে।
আব্দুল্লাহ’র পিতা জয়নাল বলেন, অনেক পুলিশ অফিসার দেখেছি কিন্তু তার মতো দেখি নাই। সবার সাথেই সুসম্পর্ক তার। আমার একমাত্র প্রতিবন্ধী ছেলের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছেন তিনি। আমার চোখ খুলে দিয়েছেন। পৌনে ৩ বছর যাবত আমার ছেলেকে দেখাশোনা করছেন তিনি। আমাদের দু’জনের কারো একজনের স্থায়ী বিয়োগ ঘটে তবে কী পরিনতি হবে আমার ছেলে আব্দুল্লাহ’র? যে অন্যের সাহায্য ছাড়া খেতে পর্যন্ত পারে না।
এই বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান টিটু বলেন, ইউনিফর্মের ভেতরের মানুষ হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমাদের বেশ কিছু সামাজিক দায়িত্ব কর্তব্য থাকাটাই স্বাভাবিক। মানুষের জন্য কিছু করতে হলে অন্য সকল উপাদানের চেয়ে ইচ্ছা শক্তিই প্রধান। কেন জানি এ ধরনের মানুষের মুখে হাসি দেখতে ভালো লাগে। আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেক মানুষই কোন না কোন বিশেষ প্রতিভার অধিকারী। আমাদের উচিত হবে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং তার যথাযথ স্বীকৃতি দিয়ে স্ব-প্রতিভায় স্বাবলম্বী করে তোলা।