| |

গৌরীপুরের মোজাফ্ফর আলী ফকির হাইস্কুল এন্ড কলেজে প্রভাষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মোজাফ্ফর আলী ফকির হাইস্কুল এন্ড কলেজে বাংলা বিষয়ের প্রভাষক নিয়োগে অনিয়ম দুর্নীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পত্রিকান্তরে কোন প্রকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে এন টি আর সি এ এর আদেশ লংঘন করে দু’বছর আগে ২০১৪ ইং সালের পুরানো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে কলেজ অধ্যক্ষ জনৈকা শাহ তাহমিনা ইয়াসমিনকে এই পদে নিয়োগ দেন বলে স্থানীয় সচেতন জনগনের অভিযোগে প্রকাশ। অভিযোগে আরো জানা যায় বিগত ২০১৪ ইং সালের বিজ্ঞপ্তি মারফত কলেজটিতে বাংলা সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেয়া হয়। তখন বাংলার প্রভাষক পদে নিয়োগ পান শরীফা ইয়াসমিন। প্রায় ২ বছর দায়িত্ব পালনের পর শরীফা ইয়াসমিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকুরীতে যোগ দিলে পদটি শূন্য হয়। শরীফা ইয়াসমিন ২০১৬ ইং সালের ৩০ নভেম্বর তারিখ পর্যন্ত কলেজটিতে দায়িত্ব পালন করে ছিলেন। এদিকে ২০১৫ ইং সালের ২২ অক্টোবর এক আদেশে এন টি আর সি এ বেসরকারী কলেজসমুহে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে। শুধু মোটা অংকের অর্থের লোভে কলেজ অধ্যক্ষ আবু সাঈদ আহামেদ এনটিআরসিএ-এর আদেশ লংঘন করে সেই পুরানো বিজ্ঞপ্তি ব্যবহার করে শাহ তাহমিনা ইয়াসমিনকে শূন্য বাংলার প্রভাষক পদটিতে নিয়োগ দেন। নিয়োগ পেয়েই তিনি যথাযথ কাজে যোগদান করেন। এ ব্যাপারে জানতে আমাদের এই প্রতিনিধি অধ্যক্ষ সাহেবের ০১৭২১-১৪৪১৫২ নং মোবাইলে ফোন করলে তিনি শাহ তাহমিনা ইয়াসমিনকে বাংলা প্রভাষক পদে নিয়োগ দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বছর দেড়েক ধরে পদটিতে তিনি যোগ দিয়েছেন। নতুন নিয়োগ প্রাপ্ত শাহ তাহমিনা ইয়াসমিনের মোবাইল নম্বর ০১৭৫২-৮৫৮৮২২ এ ফোন করলে তিনি অকপটে বলেন, নিয়োগ পেয়ে ২০১৬ ইং সালের ৬ ডিসেম্বর কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেছেন। নিয়োগ পেতে কোন টাকা বা কতটাকা লেগেছে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ৪ লাখ টাকার কিছু কম লেগেছে। কলেজটির বাংলা প্রভাষক পদের চাকুরী ছেড়ে দেয়া শরীফা ইয়াসমিনকে তার মোবাইল নম্বর ০১৯৮৭-৩১৩০২১ নম্বরে ফোন করে জানতে চাইলে তিনি বলেন ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কলেজে দায়িত্ব পালন করেছি। এর পরে সরকারী প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকতায় যোগদান করি। কলেজে চাকুরী নেয়ার সময় কোন টাকা বা কত টাকা দিয়েছিলেন এবং তা ফেরত পেয়েছেন কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, কলেজে গিয়েও কোন বেতন ভাতা পাইনি, বেকার ছিলাম। আল্লাহর রহমতে এখন সরকারী চাকুরী পেয়েছি কোন রকমে সংসার চালাচ্ছি। তাই কলেজের বিষয়াদি নিয়ে আর কিছু বলতে চাইনা। কলেজটিতে আরো বহু দুর্নীতি হয়েছে ও হচ্ছে বলেও অভিযোগকারীরা জানান।